
বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআইডব্লিউটিএ)-এর ড্রেজিং শাখার প্রধান প্রকৌশলী মো. সাইদুর রহমানকে ঘিরে ঘুষ, অনিয়ম ও আর্থিক অসঙ্গতির একাধিক অভিযোগ সামনে এসেছে। বিভিন্ন সময়ে তাঁর নাম নিয়ে আলোচনা তৈরি হলেও সাম্প্রতিক অভিযোগগুলো নতুন করে বিষয়টিকে আলোচনায় এনেছে।
অভিযোগ অনুযায়ী, ড্রেজিং শাখার বিভিন্ন প্রকল্প বাস্তবায়নে অনিয়মের মাধ্যমে বিপুল পরিমাণ অর্থের অপব্যবহার হয়েছে বলে দাবি করা হচ্ছে। বিশেষ করে নদী খনন প্রকল্পগুলোর কাজের অগ্রগতি ও ব্যয় নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলোর দাবি, কিছু প্রকল্পে বাস্তব কাজের তুলনায় কাগজে-কলমে বেশি দেখিয়ে বিল উত্তোলনের অভিযোগ রয়েছে।
এছাড়া ভোগাই ও কংস নদ খনন প্রকল্প নিয়েও অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগকারীদের দাবি, এসব প্রকল্পে কাজের গুণগত মান ও বাস্তবায়ন নিয়ে অসঙ্গতি রয়েছে। একইসঙ্গে তাঁর বিরুদ্ধে ব্যক্তিগত সম্পদ বৃদ্ধির বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে, যদিও এসব অভিযোগের বিষয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে যাচাই-বাছাই এখনো চলমান রয়েছে।
বিআইডব্লিউটিএর অভ্যন্তরীণ কয়েকটি সূত্র বলছে, ড্রেজিং শাখায় একটি প্রভাবশালী গোষ্ঠী গড়ে উঠেছে, যারা দরপত্র, নিয়োগ ও বদলির মতো প্রশাসনিক প্রক্রিয়ায় প্রভাব বিস্তার করছে। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে আনুষ্ঠানিক তদন্ত সম্পন্ন না হওয়ায় চূড়ান্ত কোনো সিদ্ধান্তে পৌঁছানো যায়নি।
দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) সূত্রে জানা গেছে, সাইদুর রহমানের সম্পদ ও আয়-ব্যয়ের বিষয়ে অনুসন্ধান শুরু হয়েছে। যদিও তদন্ত প্রক্রিয়া দীর্ঘ সময় ধরে চলায় এখনো দৃশ্যমান অগ্রগতি চোখে পড়ছে না বলে সংশ্লিষ্টদের অভিযোগ।
এদিকে, দীর্ঘ সময় একই পদে দায়িত্ব পালন নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। অভিযোগ রয়েছে, সরকারি চাকরির নিয়ম অনুযায়ী নির্দিষ্ট সময় পর বদলির কথা থাকলেও তিনি দীর্ঘদিন একই পদে বহাল রয়েছেন। এছাড়া তাঁর পূর্ববর্তী চাকরি সংক্রান্ত কিছু তথ্য নিয়েও বিতর্ক রয়েছে বলে জানা গেছে।
সংস্থার ভেতরের কিছু কর্মকর্তা-কর্মচারী নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানিয়েছেন, অনিয়মের অভিযোগগুলোর কারণে কর্মপরিবেশে প্রভাব পড়ছে এবং তারা স্বচ্ছতা নিশ্চিতের জন্য প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ দেখতে চান।
অন্যদিকে, সাম্প্রতিক সময়ে সরকারের ঘোষিত অনিয়মবিরোধী কঠোর অবস্থানের প্রেক্ষাপটে সংশ্লিষ্ট মহল মনে করছে, এসব অভিযোগ নিরপেক্ষভাবে তদন্ত হওয়া প্রয়োজন। অভিযোগ প্রমাণিত হলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে—এমন প্রত্যাশা প্রকাশ করেছেন সচেতন মহল।
তবে এ বিষয়ে বক্তব্য জানতে মো. সাইদুর রহমানের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাঁর কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।

