শনিবার, মে ২, ২০২৬

র‍্যাব-পুলিশ সেজে ডাকাতি: ডেমরায় দুই সদস্য গ্রেপ্তার

রাজধানীর ডেমরা এলাকায় আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর পোশাক ব্যবহার করে ডাকাতির প্রস্তুতিকালে সংঘবদ্ধ একটি চক্রের দুই সদস্যকে গ্রেপ্তার করেছে র‍্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র‍্যাব)। গ্রেপ্তারকৃতদের কাছ থেকে অস্ত্র, গুলি, ভুয়া পরিচয়পত্রসহ বিভিন্ন সরঞ্জাম উদ্ধার করা হয়েছে।

শনিবার রাজধানীর কারওয়ান বাজারে র‍্যাব মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে র‍্যাবের আইন ও গণমাধ্যম শাখার পরিচালক উইং কমান্ডার ইন্তেখাব চৌধুরী এ তথ্য জানান।

তিনি জানান, ডেমরা থানাধীন আমান মার্কেট ও মেন্দিপুর এলাকায় অভিযান চালিয়ে প্রথমে মো. আলামিন ওরফে ‘মোটা আলামিন’কে গ্রেপ্তার করা হয়। পরে তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে একই দিন সকাল ১১টার দিকে মেন্দিপুর বাজারের নিকটবর্তী হাজী সিএনজি পাম্প এলাকা থেকে তার সহযোগী মো. রায়হানকে আটক করা হয়।

গ্রেপ্তারের সময় তাদের কাছ থেকে একটি বিদেশি পিস্তল, একটি ম্যাগাজিন, চার রাউন্ড গুলি, একটি মাইক্রোবাস, দুটি ভুয়া নাম্বার প্লেট, ছয়টি র‍্যাব কটি, দুটি হ্যান্ডকাপ, একটি ওয়াকিটকি সেট, ‘পুলিশ’ লেখা স্টিকার, একটি লেজার লাইট, দুটি পুলিশ বাটন, একটি পকেট ওয়াইফাই রাউটার, ৩১টি সেনাবাহিনীর মাস্ক এবং দুটি স্মার্টফোন উদ্ধার করা হয়।

র‍্যাব জানায়, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেপ্তারকৃতরা একটি সংঘবদ্ধ ডাকাত চক্রের সদস্য বলে স্বীকার করেছে। তারা দীর্ঘদিন ধরে দেশের বিভিন্ন এলাকায় যাত্রীবাহী বাস ও মাইক্রোবাস থামিয়ে কখনো র‍্যাব, কখনো পুলিশের পরিচয় দিয়ে অস্ত্রের ভয় দেখিয়ে যাত্রীদের কাছ থেকে নগদ অর্থ ও মূল্যবান সামগ্রী লুট করত। অনেক ক্ষেত্রে তারা যৌথ বাহিনীর অভিযানের ভান করে সেনাবাহিনীর মাস্ক ব্যবহার করত।

র‍্যাব আরও জানায়, গ্রেপ্তার আলামিন এই চক্রের নেতৃত্ব দিত। একসময় সে ইট-বালি ও মুরগির ব্যবসার সঙ্গে জড়িত থাকলেও বর্তমানে অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে সক্রিয় হয়ে ওঠে। অপরদিকে রায়হান পেশায় চালক এবং ডাকাতির সময় ব্যবহৃত যানবাহন পরিচালনা, ঘটনাস্থল রেকি ও পালানোর পরিকল্পনায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করত।

আইনশৃঙ্খলা বাহিনী জানায়, আলামিনের বিরুদ্ধে পূর্বে একাধিক মামলা রয়েছে। ২০২৩ সালের ৩১ জানুয়ারি কেরানীগঞ্জে স্বর্ণ ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে ৭১ লাখ টাকা ডাকাতির ঘটনায় সে আসামি। এছাড়া ২০২৫ সালে একটি ডাকাতি মামলায় গ্রেপ্তার হয়ে জামিনে বেরিয়ে পুনরায় অপরাধে জড়িয়ে পড়ে। তার বিরুদ্ধে দেশের বিভিন্ন থানায় ডাকাতি, চুরি ও অস্ত্রসহ অন্তত আটটি মামলা রয়েছে।

র‍্যাব জানিয়েছে, গ্রেপ্তারকৃতদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন এবং চক্রের অন্যান্য সদস্যদের গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

আরও সংবাদ

সর্বশেষ সংবাদ