শনিবার, মে ২৩, ২০২৬

ডিআইজি হামিদুলের বিরুদ্ধে ৬১ কোটি টাকার অবৈধ সম্পদের অভিযোগ

চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশের (সিএমপি) কাউন্টার টেরোরিজম ইউনিটের সাবেক উপকমিশনার ও রংপুর রেঞ্জের অতিরিক্ত ডিআইজি থাকাকালে বাধ্যতামূলক অবসরে পাঠানো মো. হামিদুল আলম, তার স্ত্রী ও তিন বোনের নামে ৬১ কোটি ১৯ লাখ টাকার অবৈধ সম্পদ পাওয়া গেছে। তারা এসব সম্পদ অনিয়ম ও দুর্নীতির মাধ্যমে অর্জন করার অভিযোগে দুটি পৃথক মামলা করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। গতকাল সোমবার দুদকের প্রধান কার্যালয়ে এক প্রেস বিফ্রিংয়ে এ তথ্য জানান সংস্থাটির মহাপরিচালক মো. আক্তার হোসেন। তিনি বলেন একটি মামলায় হামিদুল আলমের সঙ্গে তার তিন বোন আজিজা সুলতানা, আরেফা সালমা ও শিরিন শবনমকে আসামি করা হয়েছে। অন্য মামলায় হামিদুল আলম ও তার স্ত্রী মোছা. শাহাজাদী আলম লিপিকে আসামি করা হয়েছে।মামলার এজাহারে বলা হয়েছে, হামিদুল আলম দুদকে দাখিল করা সম্পদ বিবরণীতে ১০ কোটি ১৪ লাখ ৪৬ হাজার ৭৬৫ টাকার সম্পদ অর্জনের ঘোষণা দেন। কিন্তু অনুসন্ধানে হামিদুল আলম ও তার উপর নির্ভলশীল পরিবারের সদস্যদের নামে ৩৭ কোটি ৭৪ লাখ ৫০ হাজার ৬৭০ টাকার সম্পদ অর্জনের তথ্য পাওয়া যায়। তিনি ২৭ কোটি ৬০ লাখ ৩ হাজার ৯০৫ টাকার সম্পদের তথ্য গোপনসহ ঘুষ-দুর্নীতির ৩৫ কোটি ১৭ লাখ ৮৭ হাজার ৯৯৫ টাকার সম্পদ অর্জন করে ভোগ দখলে রাখার অপরাধে মামলাটি করা হয়।এজাহারে আরও বলা হয়, সরকারি কর্মচারী (পুলিশ কর্মকর্তা) হিসেবে দায়িত্ব পালনকালে ক্ষমতার অপব্যবহার করে দুর্নীতি ও ঘুষের মাধ্যমে তার তিন বোন আজিজা সুলতানা, আরেফা সালমা ও শিরিন শবনমের সহায়তায় ৮ কোটি ৯৪ লাখ ৬৪ হাজার টাকা মূল্যের স্থাবর সম্পত্তি অর্জন করেন। পাশাপাশি পরস্পর যোগসাজশে সম্পদের অবৈধ উৎস গোপন বা আড়াল করার উদ্দেশ্যে তা স্থানান্তর বা হস্তান্তর (লেয়ারিং) করার চেষ্টা করেছেন।অন্য মামলার এজাহারে বলা হয়, হামিদুল আলমের স্ত্রী মোছা. শাহাজাদী আলম লিপি দুদকে যে সম্পদ বিবরণী দাখিল করেছেন তাতে ১৫ কোটি ৭ লাখ ২৯ হাজার ৯৫ টাকার সম্পদ অর্জনের ঘোষণা দেন। কিন্তু দুদকের অনুসন্ধানে তার ৩৪ কোটি ৬৩ লাখ ৫৬ হাজার ৯৭৩ টাকার সম্পদ অর্জনের তথ্য প্রমাণ পাওয়া যায়। তিনি দাখিলকৃত সম্পদ বিবরণীতে ১৯ কোটি ৫৬ লাখ ২৭ হাজার ৮৭৮ টাকার সম্পদের তথ্য গোপনসহ ২৬ কোটি ১ লাখ ২৯ হাজার ৯৯৭ টাকা মূল্যের অবৈধ সম্পদ অর্জন করে তা ভোগ-দখলে রাখার অপরাধে শাহাজাদী আলম লিপির বিরুদ্ধে মামলাটি করা হয়। অনিয়ম ও দুর্নীতির মাধ্যমে অবৈধ সম্পদ অর্জনে স্ত্রীকে সহায়তা করায় পুলিশ কর্মকর্তা হামিদুল আলমকে এ মামলায় আসামি করা হয়। দুটি মামলায় পুলিশ কর্মকর্তা হামিদুল আলম, তার স্ত্রী ও তিন বোনের বিরুদ্ধে ৬১ কোটি ১৯ লাখ ১৭ হাজার ৯৯২ টাকা মূল্যের অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগ আনা হয়।

@durnitirdiary

আরও সংবাদ

সর্বশেষ সংবাদ