
নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকা
জুলাই আন্দোলনে মিরপুর মডেল থানায় দায়ের করা একটি হত্যা মামলায় ডিজিএফআই’র সাবেক মহাপরিচালক লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) শেখ মামুন খালেদকে ৫ দিনের রিমান্ডে নেওয়া হয়েছে। আজ বৃহস্পতিবার ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট ছিদ্দিক আজাদ তাঁকে রিমান্ডে নেওয়ার এই আদেশ দেন।
গত ২৪ মার্চ আরেক সাবেক সেনা কর্মকর্তা ও সংসদ সদস্য মাসুদ উদ্দিন চৌধুরীকে মানব পাচারের মামলায় গ্রেপ্তার করে ৫ দিনের রিমান্ডে নেওয়া হয়। দুই দিনের মাথায় আরেক সাবেক সেনা কর্মকর্তাকে গ্রেপ্তার করে তাঁকেও ৫ দিনের রিমান্ডে নেওয়া হলো।
দুপুরের পর মামুন খালেদকে আদালতে হাজির করে মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ও ডিএমপির গোয়েন্দা মিরপুর বিভাগের উপ পুলিশ পরিদর্শক (এসআই) কফিল উদ্দিন ৭ দিনের রিমান্ডের আবেদন করেন। শুনানি শেষে আদালত ৫ দিন রিমান্ড মঞ্জুর করেন।
রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী মুহাম্মদ শামছুদ্দোহা সুমন বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
গতকাল বুধবার দিনগত সাড়ে ১২টার দিকে রাজধানীর ডিওএইচএস এলাকার একটি ফ্ল্যাট থেকে তাঁকে গ্রেপ্তার করে ডিবি পুলিশ। পরে এই মামলায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে তাঁকে আদালতে হাজির করা হয়।
মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, ২০২৪ সালের ১৯ জুলাই বিকেলে মিরপুর-১০ নম্বর গোলচত্বর এলাকায় ছাত্র আন্দোলনের মিছিলে অংশ নেওয়ার সময় দেলোয়ার হোসেনকে গুলি করে হত্যা করা হয়। অভিযোগ করা হয়েছে, আওয়ামী লীগের বিভিন্ন অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মী ও অজ্ঞাতসন্ত্রাসীরা আন্দোলনকারীদের ওপর অতর্কিত হামলা চালায়।
ঘটনাস্থলে গুরুতর আহত দেলোয়ার হোসেনকে প্রথমে জাতীয় হৃদরোগ ইনস্টিটিউটে এবং পরে শ্যামলীর সিটি কেয়ার জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। চিকিৎসাধীন অবস্থায় ২০ জুলাই মৃত্যুবরণ করেন তিনি। ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকার পতনের পর এ ঘটনায় হত্যা মামলা দায়ের করা হয়।
পুলিশের রিমান্ড আবেদনে বলা হয়েছে, অন্য আসামিদের গ্রেপ্তার ও অজ্ঞাতনামা আসামিদের তথ্য সংগ্রহ, হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদ্ঘাটন এবং ঘটনায় ব্যবহৃত অস্ত্র উদ্ধারের জন্য শেখ মামুন খালেদকে নিবিড় জিজ্ঞাসাবাদ প্রয়োজন। তদন্ত প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, প্রাথমিক তদন্তে হত্যাকাণ্ডে তার জড়িত থাকার যথেষ্ট প্রমাণ পাওয়া গেছে। তাঁর নির্দেশেই এই হত্যাকান্ড সংঘটিত হয় বলে জানা গেছে।
মামুন খালেদ ২০০৭-০৮ সালের সেনানিয়ন্ত্রিত তত্ত্বাবধায়ক সরকার আমলের শেষ দিকে ডিজিএফআইয়ের কাউন্টার ইন্টেলিজেন্স ব্যুরোর (সিআইবি) পরিচালক ছিলেন। পরে আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে মহাপরিচালক হন তিনি। ২০১১ থেকে ২০১৩ সাল পর্যন্ত ডিজিএফআইয়ের মহাপরিচালক ছিলেন তিনি।

