
গুরুতর অসুস্থ অবস্থায় দীর্ঘদিন শয্যাশায়ী থাকা সাবেক বাণিজ্য ও শিল্পমন্ত্রী এবং আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য তোফায়েল আহমেদের বিরুদ্ধে দুর্নীতির এক মামলার বিচার শুরু হয়েছে। আজ বৃহস্পতিবার এই মামলায় অভিযোগ গঠনের মধ্য দিয়ে বিচার শুরু হলো।
ঢাকার বিভাগীয় বিশেষ জজ আদালতের বিচারক বেগম শামীমা আফরোজ ক্ষমতার অপব্যবহারের মাধ্যমে অবৈধভাবে ১ কোটি ২৫ লাখ টাকা আত্মসাতের অভিযোগে দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) করা মামলায় অভিযোগ গঠনের এই নির্দেশ দেন।
এই মামলায় তোফায়েল আহমেদের সঙ্গে অন্য দুই আসামির বিরুদ্ধেও অভিযোগ গঠন করা হয়। তারা হলেন ম্যাডোনা অ্যাডভারটাইজিং লিমিটেডের প্রধান হিসাবরক্ষক মোহাম্মদ আনোয়ারুল ইসলাম ও ভোলার মোশারফ হোসেন। দুদকের পিপি ইশতিয়াক আহমেদ অভিযোগ গঠনের বিষয়টি গণমাধ্যমকে নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, মামলার সাক্ষ্য গ্রহণের জন্য আগামী ২২ জুন দিন ধার্য করেন আদালত।
আসামিদের মধ্যে মোশারফ হোসেন আদালতে উপস্থিত ছিলেন। তোফায়েল আহমেদ ও মোহাম্মদ আনোয়ারুল ইসলামকে পলাতক ঘোষণা করে তাদের অনুপস্থিতিতে বিচার শুরুর নির্দেশ দেওয়া হয়। গত ১৯ এপ্রিল এই দুজনের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করা হয়।
মামলার অভিযোগ থেকে জানা যায়, তোফায়েল আহমেদ ক্ষমতার অপব্যবহার করে অবৈধভাবে অর্জিত ১ কোটি ২৫ লাখ টাকা গোপন করার উদ্দেশ্যে সহযোগীদের মাধ্যমে স্থানান্তর ও উত্তোলন করেন।
ম্যাডোনা অ্যাডভারটাইজিং লিমিটেডের প্রধান হিসাবরক্ষক মোহাম্মদ আনোয়ারুল ইসলাম ও ভোলার মোশারফ হোসেনের সঙ্গে যোগসাজশে সোনালী ব্যাংকের মতিঝিল করপোরেট শাখা থেকে বিভিন্ন সময়ে মোট ১ কোটি ২৫ লাখ০০ টাকা স্থানান্তর করা হয়। এ ঘটনায় ২০০২ সালে দুর্নীতি দমন ব্যুরোর পরিদর্শক কাজী শামসুল ইসলাম বাদী হয়ে মামলা দায়ের করেন।মামলাটি তদন্ত শেষ তিন জনকে অভিযুক্ত করে আদালতে চার্জশিট দাখিল করেন দুদক। এরমধ্যে দীর্ঘদিন ধরে এই মামলাটি হাইকোর্টে স্থগিত ছিল।
স্মৃতিশক্তিহীন তোফায়েল আহমেদ:
তোফায়েল আহমেদ এর বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি হয়েছে শোনার পর তার আইনজীবী খায়ের উদ্দিন শিকদার গত ৫ মে আদালতে হাজির হন একটি দরখাস্ত নিয়ে।
তোফায়েল আহমেদের অসুস্থতার কথা জানিয়ে আদালতের কাছে তার আইনজীবী খায়ের উদ্দিন শিকদার শুনানিতে বলেন, ‘তোফায়েল আহমেদ দীর্ঘদিন ধরে অসুস্থ হয়ে রাজধানীর স্কয়ার হাসপাতালে নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে চিকিৎসাধীন। এজন্য তিনি আদালতে উপস্থিত হতে পারেননি। বাস্তবিক অর্থে তোফায়েল আহমেদ কাউকে চিনতে পারেন না। তার স্মৃতি শক্তি লোপ পেয়েছে। আদালতে উপস্থিত হয়ে মামলার কার্যক্রমে অংশ নিতে শারীরিকভাবে অক্ষম।’
এসময় তোফায়েল আহমদের মানসিক অবস্থা পরীক্ষার আবেদন করার প্রার্থনা করেন এবং পাশাপাশি অভিযোগ গঠন শুনানি পেছাতেও আবেদন করেন আইনজীবী খায়ের উদ্দিন। যেহেতু আগেই তোফায়েল আহমেদের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি হয়েছে সেহেতু আদালত আবেদন নামঞ্জুর করেন।

