
শেখ সেলিমের সাড়ে ১৩ কোটি টাকার অবৈধ সম্পদের সন্ধান, মামলার সিদ্ধান্ত দুদকের
এসিএম নিউজ, ঢাকা
গোপালগঞ্জ-২ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য (এমপি) ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ফুপাতো ভাই শেখ ফজলুল করিম সেলিম জ্ঞাত আয়ের উৎসের সঙ্গে অসংগতিপূর্ণ ১৩ কোটি ৫৯ লাখ ১৮ হাজার ৬০ টাকার সম্পদ অর্জন ও দখলে রেখেছেন বলে দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) অনুসন্ধানে উঠে এসেছে। আর এ কারণে দুদক শেখ সেলিমের বিরুদ্ধে মামলা করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।
ইতিমধ্যে শেখ সেলিমের বিরুদ্ধে মামলা দায়েরের অনুমোদন দিয়েছে দুদক। রোববার (১ মার্চ) দুদকের প্রধান কার্যালয়ে এ তথ্য জানিয়েছেন কমিশনের মহাপরিচালক আক্তার হোসেন।
দুদক জানায়, শেখ সেলিমের বিরুদ্ধে ক্ষমতার অপব্যবহার, বিভিন্ন অনিয়ম ও দুর্নীতির মাধ্যমের অভিযোগ রয়েছে। বিশেষ করে দেশের বিভিন্ন স্থানে ঠিকাদারি কাজ পাওয়ায় সহযোগিতা করে ঠিকাদারের কাছ কমিশন গ্রহণের অভিযোগ ওঠে। একই সঙ্গে জ্ঞাত আয় বহির্ভূত সম্পদ অর্জনের বিষয়টিও অনুসন্ধান করা হয়।
অনুসন্ধান শেষে দুদক জানায়, শেখ সেলিম তার জ্ঞাত আয়ের উৎসের সঙ্গে অসংগতিপূর্ণ ১৩ কোটি ৫৯ লাখ ১৮ হাজার ৬০ টাকার সম্পদ অর্জন ও দখলে রেখেছেন। এ অভিযোগে তার বিরুদ্ধে দুর্নীতি দমন কমিশন আইন, ২০০৪-এর ২৭ (১) ধারায় একটি মামলা রুজুর অনুমোদন দেওয়া হয়েছে।
এ ছাড়া, অভিযোগ-সংশ্লিষ্ট শেখ সেলিমের স্ত্রী ফাতেমা সেলিমের নামে-বেনামে আরও সম্পদ রয়েছে কি না, তা অনুসন্ধানের জন্য তাকে দুর্নীতি দমন কমিশন আইন, ২০০৪-এর ২৬ (১) ধারায় সম্পদ বিবরণী দাখিলের আদেশ জারির অনুমোদন দেওয়া হয়েছে।
একই ধারায় শেখ সেলিমের সন্তান শেখ ফজলে ফাহিম, শেখ ফজলে নাঈম ও শেখ আমেনা সুলতানা সোনিয়ার নামেও সম্পদ বিবরণী দাখিলের নির্দেশ দেওয়ার অনুমোদন দিয়েছে দুদক।
দুদক সূত্রে জানা গেছে, তাদের দাখিল করা সম্পদ বিবরণী যাচাই-বাছাই শেষে পরবর্তী আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
প্রসঙ্গত, শেখ সেলিম ১৯৮০ সালের উপ নির্বাচন থেকে শুরু করে ২০২৪ সালের দ্বাদশ সংসদ নির্বাচন পর্যন্ত সময়ে ৯ বার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছেন। ১৯৯৯ থেকে ২০০১ পর্যন্ত সময়ে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করেন তিনি।

