
এসিএম নিউজ, ঢাকা
ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের সাবেক কমিশনার আছাদুজ্জামান মিয়া, তার পরিবার ও অন্যান্য আত্মীয়-স্বজনের ২২ কোটি ৬৫ লাখ ৫২ হাজার ৩৩০ টাকা স্থাবর সম্পদ ক্রোকের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। আজ রোববার ঢাকা মহানগর দায়রা জজ ও সিনিয়র বিসর্জন আদালতের বিচারক মোঃ সাব্বির ফয়েজ এই নির্দেশ দেন।
একই আদালত পৃথক আরেকটি নির্দেশে আসাদুজ্জামান ও তার পরিবারের সদস্যদের দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা জারি করেন।
দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) পৃথক আবেদনে আদালত এই নির্দেশ দেন বলে জানান দুদকের সহকারী পরিচালক জনসংযোগ তানজির আহমেদ।
আসাদুজ্জামান, তার পরিবার ও আত্মীয়স্বজন যাদের সম্পদ ক্রোকের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে তাঁরা হলেন তাঁর স্ত্রী আফরোজা জামান, দুই ছেলে আসিফ শাহাদাৎ, আসিফ মাহদিন, মেয়ে আয়েশা সিদ্দিকা, শ্যালিকা পারভীন সুলতানা ও শ্যালক হারিচুর রহমানের।
দুদকের আবেদন থেকে দেখা যায়, ঢাকার রমনা, জোয়ার সাহারা, মোহাম্মদপুরের রামচন্দ্রপুর, নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জ ও পূর্বাচল নতুন শহর প্রকল্প, গাজীপুরের কালিগঞ্জ, ফরিদপুরের আলফাডাঙ্গা ও ভাঙ্গায় তাদের নামে এসব সম্পদ রয়েছে। সম্পদের মধ্যে ৩৬টি মৌজায় বাড়ি, ফ্লাট ও জমি রয়েছে। এসব সম্পদের মোট মূল্য দেখানো হয়েছে ২২ কোটি ৬৫ লাখ ৫২ হাজার ৩৩০ টাকা।
দুদকের সহকারী পরিচালক আলিয়াজ হোসেন এসব সম্পদ ক্রোক চেয়ে আবেদন করেন।
ক্রোকের আবেদনে বলা হয়, অভিযোগ সংশ্লিষ্ট আছাদুজ্জামান মিয়া ও তার স্বার্থ সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা বিভিন্ন অনিয়ম ও দুর্নীতির মাধ্যমে আয়ের উৎস বহির্ভূত বিপুল পরিমাণ সম্পদ অর্জন সংক্রান্ত অভিযোগ অনুসন্ধান করছে দুদক। অভিযোগ সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা অবৈধ পন্থায় অর্জিত সম্পদ অন্যত্র হস্তান্তর, স্থানান্তর বা বেহাতের প্রচেষ্টায় রয়েছেন বলে বিশ্বস্তসূত্রে জানা গেছে। অভিযোগের সুষ্ঠু অনুসন্ধানের স্বার্থে অবিলম্বে আছাদুজ্জামান মিয়া ও তার পরিবার এবং তাদের স্বার্থ সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের স্থাবর সম্পদ ক্রোক করা প্রয়োজন। তাদের স্থাবর সম্পদ ক্রোক করা না হলে বিচারকালে তা রাষ্ট্রের অনুকূলে বাজেয়াপ্ত করা সম্ভব হবে না। এতে রাষ্ট্রের অপূরণীয় ক্ষতি হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা:
দুদকের একই কর্মকর্তা আছাদুজ্জামানসহ ৬ জনের দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা জারির আবেদন করেন। শুনানি শেষে আদালত নিষেধাজ্ঞা জারির নির্দেশ দেন।
অন্যরা হলেন স্ত্রী আফরোজা জামান, ছেলে আসিফ শাহাদাত ও আসিফ মাহদীন মেয়ে আয়েশা সিদ্দিকা ও শ্যালক হারিচুর রহমান।
আবেদনে বলা হয়েছে, আছাদুজ্জামান বিভিন্ন অনিয়ম ও দুর্নীতির মাধ্যমে নিজ নামে, তার পরিবার ও আত্মীয়স্বজনের নামে বিপুল পরিমাণ অবৈধ সম্পদ অর্জন করেছেন। এসব অভিযোগ অনুসন্ধানের সময় বিশ্বস্ত সূত্রে জানা গেছে তারা যেকোনো সময় দেশত্যাগ করতে পারেন। তারা দেশত্যাগ করলে অনুসন্ধান কার্যক্রম ব্যাহত হবে। এজন্য তাদের দেশত্যাগের নিষেধাজ্ঞা জারি করা প্রয়োজন।

