
নির্বাহী প্রকৌশলী মো. মাহবুবুর রহমানের বিপুল পরিমাণ স্থাবর সম্পদ অর্জন নিয়ে স্থানীয় মহল ও দুর্নীতিবিরোধী বিভিন্ন মহলে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, দীর্ঘ সরকারি চাকরি জীবনে বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্প ও গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে থাকার সুযোগ কাজে লাগিয়ে তিনি এবং তার পরিবার বিপুল সম্পদের মালিক হয়েছেন, যার সঙ্গে তার বৈধ আয়ের সামঞ্জস্য নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।
অনুসন্ধানে জানা যায়, চট্টগ্রাম মহানগরের চান্দগাঁও, বাকলিয়া, খুলশী ও কাটলিসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় মাহবুবুর রহমান ও তার স্ত্রী খালেদা ইয়াসমিনের নামে একাধিক আবাসিক ও বাণিজ্যিক সম্পত্তি রয়েছে। স্থানীয় আবাসন খাত সংশ্লিষ্টদের মতে, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে এসব এলাকার জমির মূল্য উল্লেখযোগ্য হারে বৃদ্ধি পাওয়ায় তাদের মালিকানাধীন সম্পদের বাজারমূল্য বর্তমানে কয়েক কোটি টাকা ছাড়িয়ে যেতে পারে।
এছাড়া চট্টগ্রামের আনোয়ারা, উপকূলীয় বাঁশখালী এবং বান্দরবানের বিভিন্ন এলাকাতেও তাদের নামে উল্লেখযোগ্য পরিমাণ জমি রয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। এসব সম্পত্তির প্রকৃত মূল্য এবং ক্রয়ের অর্থের উৎস নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে নানা প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।
স্থানীয় সচেতন মহলের অভিযোগ, একজন সরকারি কর্মকর্তার নিয়মিত বেতন-ভাতা ও পরিচিত আয়ের উৎস বিবেচনায় এই বিপুল সম্পদ অর্জনের বিষয়টি স্বাভাবিক নয়। তাদের দাবি, বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্পের বাস্তবায়ন, তদারকি এবং ঠিকাদারি কার্যক্রমের সঙ্গে সংশ্লিষ্টতা থেকে অবৈধ আর্থিক সুবিধা গ্রহণের মাধ্যমে এসব সম্পদ গড়ে তোলা হয়ে থাকতে পারে। তবে অভিযোগগুলোর পক্ষে এখনো কোনো সরকারি তদন্ত প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়নি।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক স্থানীয় বাসিন্দা বলেন, “গত কয়েক বছরে এই কর্মকর্তা ও তার পরিবারের সম্পদের পরিমাণ এবং জীবনযাত্রার মানে বড় ধরনের পরিবর্তন দেখা গেছে। বিষয়টি নিয়ে নিরপেক্ষ তদন্ত হওয়া প্রয়োজন।”
দুর্নীতিবিরোধী বিশ্লেষকদের মতে, অভিযোগগুলোর সত্যতা যাচাই করতে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তার সম্পদ বিবরণী, ব্যাংক হিসাবের লেনদেন, আয়কর নথি এবং সম্পত্তি ক্রয়ের আর্থিক উৎস খতিয়ে দেখা প্রয়োজন। পাশাপাশি সম্পদগুলো ক্রয়ের সময়কাল এবং ঘোষিত আয়ের সঙ্গে তার সামঞ্জস্য রয়েছে কি না, তাও তদন্তের আওতায় আনা উচিত।
এদিকে সচেতন নাগরিক সমাজ এবং দুর্নীতিবিরোধী বিভিন্ন সংগঠন দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) ও জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) প্রতি বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করার আহ্বান জানিয়েছে।
অভিযোগের বিষয়ে বক্তব্য জানতে নির্বাহী প্রকৌশলী মো. মাহবুবুর রহমানের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি। তার বক্তব্য পাওয়া গেলে তা পরবর্তী সময়ে প্রকাশ করা হবে।

