বৃহস্পতিবার, জুন ১১, ২০২৬

রূপালী ব্যাংকের এমডির বি’রুদ্ধে অ’ভিযোগের পর তিন কর্মকর্তা বদলি, প্র’তি’শোধমূলক পদক্ষেপের অ’ভিযোগ

রাষ্ট্রায়ত্ত রূপালী ব্যাংক পিএলসির ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) কাজী ওয়াহিদুল ইসলামের বিরুদ্ধে উত্থাপিত বিভিন্ন অভিযোগ নিয়ে অর্থ মন্ত্রণালয়ে স্মারকলিপি দেওয়ার পর ব্যাংকের তিন কর্মকর্তাকে দূরবর্তী কর্মস্থলে বদলি করা হয়েছে। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের দাবি, এটি একটি প্রতিশোধমূলক প্রশাসনিক পদক্ষেপ।

জানা গেছে, রূপালী ব্যাংকের জাতীয়তাবাদী আদর্শের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সংগঠন এবং জিয়া পরিষদের পক্ষ থেকে গত ৪ জুন অর্থ মন্ত্রণালয়ে একটি স্মারকলিপি দেওয়া হয়। স্মারকলিপিতে এমডি কাজী ওয়াহিদুল ইসলামের বিরুদ্ধে বিভিন্ন অভিযোগ উত্থাপন করা হয়। পরবর্তীতে বিষয়টি নিয়ে কয়েকটি জাতীয় দৈনিক ও অনলাইন সংবাদমাধ্যমে প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়।

এর পরপরই স্মারকলিপিতে স্বাক্ষরকারী তিন কর্মকর্তাকে বদলি করা হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। বদলিকৃত কর্মকর্তারা হলেন— জিয়া পরিষদের আহ্বায়ক ও সহকারী মহাব্যবস্থাপক মো. গোলাম সরোয়ার, সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক ও সহকারী মহাব্যবস্থাপক এ এস এম নিয়াজ মোর্শেদ এবং সদস্য সচিব ও সহকারী মহাব্যবস্থাপক মঞ্জুর মোর্শেদ চৌধুরী। তাদের ঢাকা থেকে যথাক্রমে ফরিদপুর, ময়মনসিংহ ও কুষ্টিয়ায় পদায়ন করা হয়েছে।

স্মারকলিপিতে অভিযোগ করা হয়, কাজী ওয়াহিদুল ইসলাম বর্তমানে রূপালী ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালকের দায়িত্বে বহাল রয়েছেন, যদিও তার বিরুদ্ধে জুলাইয়ের একটি হত্যা মামলায় আসামি হওয়ার অভিযোগ রয়েছে। পাশাপাশি বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন দমনে সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন সংগঠনকে আর্থিক সহায়তা দেওয়ার অভিযোগও উত্থাপন করা হয়েছে।

অভিযোগকারীদের দাবি, দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকে ব্যাংকের মধ্যে রাজনৈতিক বিবেচনায় বদলি, পদোন্নতি বঞ্চনা এবং কর্মকর্তাদের ওপর চাপ প্রয়োগের ঘটনা বেড়েছে। এর ফলে কর্মপরিবেশ ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে এবং অনেক কর্মকর্তা হয়রানির শিকার হচ্ছেন বলে তারা উল্লেখ করেন।

এদিকে সংগঠনের নেতারা আরও দাবি করেন, ব্যাংকটির আর্থিক অবস্থার অবনতি ঘটছে এবং এর জন্য বর্তমান ব্যবস্থাপনার বিভিন্ন সিদ্ধান্তকে দায়ী করেন তারা। তাদের অভিযোগ, অনিয়ম ও দুর্বল ব্যবস্থাপনার কারণে ব্যাংকের লোকসান ক্রমাগত বাড়ছে।

তবে কাজী ওয়াহিদুল ইসলামের বিরুদ্ধে আনা এসব অভিযোগের বিষয়ে তার কোনো বক্তব্য তাৎক্ষণিকভাবে পাওয়া যায়নি। অভিযোগগুলোর সত্যতা স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি।

রূপালী ব্যাংকের সংশ্লিষ্ট মহল মনে করছে, উত্থাপিত অভিযোগ এবং বদলি-সংক্রান্ত বিতর্কের বিষয়ে নিরপেক্ষ তদন্ত হলে প্রকৃত পরিস্থিতি স্পষ্ট হবে এবং কর্মীদের মধ্যে বিদ্যমান উদ্বেগ দূর হতে পারে।

আরও সংবাদ

সর্বশেষ সংবাদ