রবিবার, মে ২৪, ২০২৬

বিএটির বিরুদ্ধে ৩০ বিলিয়ন ডলার জালিয়াতি ও অর্থপাচারের অ’ভিযোগে দুদকের অনুসন্ধান

বহুজাতিক তামাক কোম্পানি British American Tobacco-এর বিরুদ্ধে প্রায় ৩০ বিলিয়ন মার্কিন ডলার বা বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ৩ লাখ কোটি টাকার জালিয়াতি ও অর্থপাচারের অভিযোগ অনুসন্ধান শুরু করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। দীর্ঘ কয়েক দশক ধরে সংঘটিত কথিত আর্থিক অনিয়ম ও রাষ্ট্রীয় সম্পদ দখলের অভিযোগ খতিয়ে দেখতে ইতোমধ্যে বিভিন্ন সরকারি দপ্তরে তথ্য চেয়ে চিঠি পাঠিয়েছে সংস্থাটি।

দুদক সূত্রে জানা গেছে, সম্প্রতি সংস্থাটির প্রধান কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত বৈঠকে অভিযোগগুলো প্রাথমিকভাবে যাচাইয়ের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। এরপর অভিযোগের সত্যতা যাচাই করতে জয়েন্ট স্টক কোম্পানিসহ সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন দপ্তরে নথিপত্র চাওয়া হয়েছে।

এ বিষয়ে দুদকের উপপরিচালক মো. আকতারুল ইসলাম গণমাধ্যমকে বলেন, “অভিযোগের প্রকৃত সত্য উদ্ঘাটনের জন্য বিভিন্ন দপ্তরে চিঠি পাঠানো হয়েছে। নথিপত্র পর্যালোচনা শেষে অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

দুদকে জমা পড়া অভিযোগে বলা হয়েছে, ১৯৪৭ সালে দেশভাগের পর করাচিভিত্তিক ‘পাকিস্তান টোব্যাকো কোম্পানি’ (পিটিসি) কার্যক্রম শুরু করে এবং পরবর্তীতে চট্টগ্রাম ও ঢাকায় দুটি বড় কারখানা স্থাপন করে। স্বাধীনতার পর এসব সম্পদ আইন অনুযায়ী বাংলাদেশ সরকারের মালিকানায় যাওয়ার কথা থাকলেও, অভিযোগ রয়েছে রাজনৈতিক প্রভাব ও জালিয়াতির মাধ্যমে সেগুলো বহুজাতিক কোম্পানি ব্রিটিশ আমেরিকান টোব্যাকোর নিয়ন্ত্রণে চলে যায়।

অভিযোগে আরও বলা হয়েছে, তৎকালীন পিটিসির ফাইন্যান্স ম্যানেজার এবং পরবর্তীতে সরকারের উচ্চপর্যায়ের দায়িত্বে থাকা জামালুদ্দিন আহমেদের নেতৃত্বে একটি প্রভাবশালী চক্র রাষ্ট্রীয় সম্পদ হস্তান্তরের প্রক্রিয়ায় অনিয়মে জড়িত ছিল। এর ফলে গত ৫৫ বছরে বাংলাদেশ বিপুল অঙ্কের আর্থিক ক্ষতির সম্মুখীন হয়েছে বলে দাবি করা হয়েছে।

সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, অভিযোগের পূর্ণাঙ্গ তদন্ত হলে স্বাধীনতা-পরবর্তী সময়ের অন্যতম বড় আর্থিক অনিয়মের চিত্র সামনে আসতে পারে। একই সঙ্গে রাষ্ট্রীয় সম্পদ হস্তান্তর ও বিদেশে অর্থ পাচারের অভিযোগে জড়িত ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের দায়ও নির্ধারণ হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

আরও সংবাদ

সর্বশেষ সংবাদ