রবিবার, মে ২৪, ২০২৬

সাবেক উপদেষ্টার এপিএসের ভাইয়ের ‘অস্বাভাবিক সম্পদ’ নিয়ে দুদকের অনুসন্ধান

ক্ষমতার পরিবর্তনের পর স্বল্প সময়েই বিপুল সম্পদের মালিক বনে যাওয়ার অভিযোগ নতুন নয়। এবার এমনই এক আলোচিত ঘটনার তথ্য উঠে এসেছে সাবেক অন্তর্বর্তী সরকারের স্থানীয় সরকার ও ক্রীড়া উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদের সাবেক সহকারী একান্ত সচিব (এপিএস) মো. মোয়াজ্জেম হোসেনের ভাই মো. রিয়াজুল ইসলামকে ঘিরে। দুর্নীতি দমন কমিশনে (দুদক) জমা দেওয়া সম্পদ বিবরণীতে তার আয়-সম্পদের তথ্য নিয়ে নানা প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।

দুদক সূত্রে জানা গেছে, ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে জমা দেওয়া সম্পদ বিবরণীতে রিয়াজুল ইসলাম নিজেকে প্রায় ১ কোটি ৮০ লাখ টাকার সম্পদের মালিক হিসেবে উল্লেখ করেন। অভিযোগ রয়েছে, ৫ আগস্টের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর সাবেক এপিএস মোয়াজ্জেম হোসেনের প্রভাব ব্যবহার করে রিয়াজুল অস্বাভাবিকভাবে সম্পদের মালিক হয়েছেন।

তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালের ৮ আগস্ট রাজধানীর শ্যামলী শাখায় ডাচ-বাংলা ব্যাংকে ৪ লাখ টাকার একটি এফডিআর করেন রিয়াজুল। এর দুই দিন পর একই শাখায় আরও ১৭ লাখ টাকার আরেকটি এফডিআর খোলা হয়।

দুদকে দাখিল করা নথিতে আরও উল্লেখ করা হয়েছে, রিয়াজুল ইসলাম ২০২৩ সাল থেকে একটি প্রাইভেট কার ব্যবহার করছেন। এছাড়া ২০২৪ সালের নভেম্বরে তার স্ত্রী শান্তি খাতুনের নামে প্রায় ৪৪ লাখ টাকা মূল্যের একটি মাইক্রোবাস কেনা হয়েছে। সম্পদ বিবরণীতে তিনি নিজের ব্যবসায়িক মূলধন হিসেবে ৯৬ লাখ টাকা দেখিয়েছেন। পাশাপাশি জীবন বিমা ও আসবাবপত্রসহ আরও কয়েক লাখ টাকার সম্পদের তথ্যও উল্লেখ করা হয়েছে।

তবে অভিযোগ অস্বীকার করেছেন সাবেক এপিএস মোয়াজ্জেম হোসেন। তিনি দাবি করেন, তার ভাইয়ের ট্যাক্স ফাইল খোলার সময় তথ্যগত ভুল হয়েছে। তার ভাষ্য, “আইনজীবীর ভুলের কারণে কিছু তথ্য ভুলভাবে উপস্থাপিত হয়েছে। বিষয়টি সংশোধনের জন্য দুদকের সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়েছে।”

অন্যদিকে রিয়াজুল ইসলাম বলেন, “৫ আগস্টের পর অবৈধভাবে টাকা নেওয়ার কোনো ঘটনা ঘটেনি। ব্যাংক ঋণের বিপরীতে এফডিআর করা হয়েছে।” ব্যবসায়িক মূলধন হিসেবে ৯৬ লাখ টাকা দেখানোর বিষয়ে তিনি দাবি করেন, ভবিষ্যতে ঋণ গ্রহণের সুবিধার্থে এই তথ্য সংযুক্ত করা হয়েছিল।

এ বিষয়ে দুদকের উপ-পরিচালক (জনসংযোগ) আকতারুল ইসলাম জানিয়েছেন, রিয়াজুল ইসলামের সম্পদ ও আর্থিক লেনদেন নিয়ে অনুসন্ধান চলছে। তদন্ত শেষে আইন অনুযায়ী পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানান তিনি।

উল্লেখ্য, সাবেক এপিএস মো. মোয়াজ্জেম হোসেনের বিরুদ্ধেও শত শত কোটি টাকার দুর্নীতির অভিযোগে অনুসন্ধান চলছে। গত ৩০ মার্চ পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)-এর আবেদনের পর আদালত তার বিদেশ গমনে নিষেধাজ্ঞা জারি করেন, যা বর্তমানে বহাল রয়েছে।

আরও সংবাদ

সর্বশেষ সংবাদ