
গাজীপুর সিটি কর্পোরেশনের নির্বাহী প্রকৌশলী (বিদ্যুৎ) ইব্রাহীম খলিল–এর বিরুদ্ধে দুর্নীতির মামলায় গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেছেন আদালত। একই মামলায় তাঁর স্ত্রী মনোয়ারা বেগমকেও আসামি করা হয়েছে।
আদালত সূত্রে জানা গেছে, অবৈধ সম্পদ অর্জন, ক্ষমতার অপব্যবহার এবং সরকারি অর্থ আত্মসাতের অভিযোগে দায়ের করা মামলার প্রাথমিক শুনানি শেষে আদালত এই গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেন।

নামে–বেনামে কোটি কোটি টাকার সম্পত্তির অভিযোগ
মামলার অভিযোগপত্র ও তদন্তসংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, ইব্রাহীম খলিল তাঁর সরকারি পদ ও প্রভাব ব্যবহার করে বিপুল অবৈধ সম্পদের মালিক হয়েছেন। এসব সম্পত্তি সরাসরি তাঁর নামে না রেখে স্ত্রী, কন্যা, শাশুড়ি, আত্মীয়-স্বজন ও ঘনিষ্ঠদের নামে বণ্টন করে রাখা হয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে।
অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে—
ঢাকায় একাধিক বাড়ি ও ফ্ল্যাট
চট্টগ্রাম, বরিশাল ও খুলনায় বাড়ি ও জমি
ঢাকার একটি অভিজাত এলাকায় ময়লা পাতার মধ্যে পাঁচতলা আলিশান ফ্ল্যাট
শাশুড়ির নামে আবাসিক সম্পত্তি
কন্যাদের নামে ফ্ল্যাট ও জমি
আত্মীয়স্বজন ও ঘনিষ্ঠ ব্যক্তিদের নামে প্লট, দোকান ও জমি
তদন্তে উঠে এসেছে, এসব সম্পত্তির বৈধ আয়ের কোনো সুস্পষ্ট উৎস নেই।
বিদ্যুৎ বিভাগে দায়িত্বে থেকে দুর্নীতির অভিযোগ
সংশ্লিষ্টরা বলছেন, গাজীপুর সিটি কর্পোরেশনের বিদ্যুৎ শাখায় দায়িত্বে থাকার সময় বিভিন্ন প্রকল্পে—
যন্ত্রপাতি ক্রয়ে অতিরিক্ত বিল
ভুয়া কাজ দেখিয়ে অর্থ উত্তোলন
ঠিকাদারদের কাছ থেকে কমিশন গ্রহণ
বিদ্যুৎ সংযোগ ও রক্ষণাবেক্ষণ কাজে ঘুষ বাণিজ্য
এর মাধ্যমে বিপুল অর্থ আত্মসাৎ করা হয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে।

আদালতের নির্দেশ ও আইনি প্রক্রিয়া
আদালত গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারির পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট তদন্ত সংস্থাকে আসামিদের চিহ্নিত করে গ্রেপ্তার এবং অবৈধ সম্পদের তালিকা প্রস্তুত ও জব্দের প্রক্রিয়া জোরদার করার নির্দেশ দিয়েছেন।
আইন বিশেষজ্ঞদের মতে, অভিযোগ প্রমাণিত হলে ইব্রাহীম খলিল ও তাঁর স্ত্রী মনোয়ারা বেগমের বিরুদ্ধে—
দুর্নীতি দমন কমিশন আইন অনুযায়ী
সর্বোচ্চ দশ থেকে চৌদ্দ বছর পর্যন্ত কারাদণ্ড
অবৈধ সম্পদ রাষ্ট্রের অনুকূলে বাজেয়াপ্ত
অতিরিক্ত অর্থদণ্ড
আরোপ হতে পারে।
জনমনে ক্ষোভ, দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি
এ ঘটনায় গাজীপুরে ব্যাপক প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয় নাগরিক সমাজ ও সুশাসনকর্মীরা বলছেন,
“সরকারি দায়িত্বে থেকে জনগণের অর্থ লুটপাট করে যারা নামে–বেনামে সম্পদের পাহাড় গড়ে, তাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে।”
তাঁদের দাবি, এই মামলার মাধ্যমে গাজীপুর সিটি কর্পোরেশনে দীর্ঘদিনের দুর্নীতির চিত্র উন্মোচিত হবে।
তদন্ত চলমান
এ বিষয়ে অভিযুক্তদের পক্ষ থেকে এখনো কোনো আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া যায়নি। তদন্ত সংস্থা জানিয়েছে, অর্থপাচার ও সম্পদ লুকানোর দিকটিও খতিয়ে দেখা হচ্ছে। প্রয়োজনে নতুন মামলাও হতে পারে।
@bangladeshprothomsangbad

