
চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের (চসিক) প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) শেখ মোহাম্মদ তৌহিদুল ইসলামের বিরুদ্ধে অনিয়ম, দুর্নীতি ও ঘুষ বাণিজ্যের গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। এ বিষয়ে তদন্ত শুরু করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। কমিশনের বিশ্বস্ত সূত্র বিষয়টি নিশ্চিত করেছে।
জানা গেছে, সিইও পদে যোগদানের পর থেকেই শেখ তৌহিদুল ইসলাম বিভিন্ন অনিয়মে জড়িয়ে পড়েন। তার বিরুদ্ধে দায়ের করা অভিযোগে উল্লেখ করা হয়, তিনি আত্মীয়স্বজনদের চসিকে চাকরি দিয়েছেন, ঠিকাদারি কাজে কমিশন গ্রহণ করেছেন এবং ফাইল আটকিয়ে আর্থিক সুবিধা আদায় করেছেন। এসব অনৈতিক উপার্জনের মাধ্যমে গড়ে তুলেছেন বিপুল সম্পদ।
অভিযোগপত্রে বলা হয়, স্ত্রী ও নিজ নামে রয়েছে একাধিক সম্পত্তি, যার মধ্যে রয়েছে বার্জ, ট্রলার, কার্গো জাহাজ, জমি ও বহুতল ভবন। চান্দগাঁও ও খুলশীতে রয়েছে জমি ও অ্যাপার্টমেন্ট। রয়েছে একাধিক দামি গাড়ি, ব্যাংক অ্যাকাউন্ট ও নগদ অর্থ। এমনকি গ্রামের বাড়িতে ভাইয়ের নামে প্রায় ২০ বিঘা জমি এবং আরও আত্মীয়স্বজনের নামে নামমাত্র দামে বিভিন্ন স্থানে জমি ক্রয়ের কথাও জানানো হয়েছে।
এই ব্যাপারে দুদক চট্টগ্রাম-১ এর উপপরিচালক সুবেল আহমেদ জানান, “চসিকের সিইও তৌহিদুল ইসলামের বিরুদ্ধে ওঠা দুর্নীতির অভিযোগ অনুসন্ধানে আমরা কাজ করছি। প্রধান কার্যালয় থেকে নির্দেশনা পাওয়ার পর গত ১৬ ফেব্রুয়ারি তদন্ত কার্যক্রম শুরু হয়েছে। অনুসন্ধান চলছে, এ বিষয়ে এখনই বিস্তারিত কিছু বলা যাবে না।”
অভিযোগ সম্পর্কে জানতে চাইলে সিইও শেখ তৌহিদুল ইসলাম বলেন, “দুদকে যেহেতু অভিযোগ জমা হয়েছে, দলিলপত্রও রয়েছে, সেখানে আমার কিছু বলার নেই। তদন্ত করে দুদকই সত্য-মিথ্যা নির্ধারণ করবে।”
উল্লেখ্য, শেখ তৌহিদুল ইসলামের পিতা ছিলেন একজন ৪র্থ শ্রেণির কর্মচারী এবং তাদের পরিবার একসময় চট্টগ্রামের চান্দগাঁও এলাকায় স্বল্প আয়ের অবস্থায় বসবাস করত—এ তথ্যও অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।
সিইও’র বিপুল সম্পদ অর্জন এবং অতীত জীবনযাত্রার বিস্তর ব্যবধান নিয়ে ইতিমধ্যেই চট্টগ্রামে নানা আলোচনা চলছে। তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত বিষয়টি নিয়ে প্রশাসনিক ও রাজনৈতিক মহলে সতর্ক দৃষ্টি রাখা হচ্ছে।
@news247

