শনিবার, জুন ১৩, ২০২৬

গণপূর্তের ১২০ কোটি টাকার প্রকল্পে অ’নিয়মের অ’ভিযোগ, প্রশ্নের মুখে দুই প্রকৌশলী

শেরে বাংলা নগর গণপূর্ত বিভাগ-২-এর নির্বাহী প্রকৌশলী মো. জহুরুল ইসলাম এবং ঢাকা গণপূর্ত সার্কেল-৩-এর তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী মো. নূরুল আমীন মিয়ার বিরুদ্ধে দরপত্র প্রক্রিয়ায় অনিয়ম, মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনা উপেক্ষা এবং প্রকল্প বাস্তবায়নে স্বচ্ছতার ঘাটতির অভিযোগ উঠেছে। সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলোর দাবি, একটি বড় নির্মাণ প্রকল্পকে কেন্দ্র করে পুনরায় দরপত্র আহ্বান এবং ঠিকাদার নির্বাচন প্রক্রিয়ায় নানা প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে তাদের কর্মকাণ্ড।

অনুসন্ধানে জানা গেছে, শেরে বাংলা নগর গণপূর্ত বিভাগ-২-এর আওতায় প্রায় ১২০ কোটি টাকা ব্যয়ে ৩টি বেসমেন্টসহ ১২ তলা অফিস ভবন নির্মাণ, প্রশাসনিক অবকাঠামো উন্নয়ন, অভ্যন্তরীণ স্যানিটারি ব্যবস্থা, পানি সরবরাহ ও বিদ্যুতায়নের একটি প্রকল্প গ্রহণ করা হয়।

প্রথম দরপত্র বাতিলের পেছনে অনিয়মের অভিযোগ

সংশ্লিষ্ট সূত্রের দাবি, প্রকল্পটির প্রথম দরপত্র (টেন্ডার আইডি: ১১২০৮৫৩) আহ্বানের সময় দরপত্র সংক্রান্ত গোপন তথ্য একটি নির্দিষ্ট ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের কাছে পৌঁছে দেওয়া হয়েছিল। অভিযোগ রয়েছে, এই তথ্যের ভিত্তিতে প্রতিষ্ঠানটি প্রতিযোগিতামূলক সুবিধা পেয়ে সর্বনিম্ন দরদাতা হিসেবে নির্বাচিত হয়।

পরবর্তীতে বিষয়টি দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) নজরে এলে ২০২৫ সালের ২১ অক্টোবর সংশ্লিষ্ট কার্যালয়ে অভিযান পরিচালনা করা হয়। অভিযানে বিভিন্ন নথিপত্র সংগ্রহ করা হয় এবং অভিযোগের বিষয়ে অনুসন্ধান শুরু হয়।

এরপর গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয় প্রকল্পটির প্রথম দরপত্র বাতিল ঘোষণা করে। মন্ত্রণালয়ের এই সিদ্ধান্তের পর দরপত্র প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়।

নতুন দরপত্র নিয়ে প্রশ্ন

অভিযোগ রয়েছে, প্রথম দরপত্র বাতিল হওয়ার পর নতুন কোনো প্রাক্কলন অনুমোদন ছাড়াই একই প্রকল্পের জন্য নতুন দরপত্র (আইডি: ১২০৭৪৯৯) আহ্বান করা হয়।

গণপূর্ত বিভাগের একাধিক সূত্রের দাবি, নতুন দরপত্র প্রক্রিয়াতেও একটি নির্দিষ্ট প্রতিষ্ঠানকে সুবিধা দেওয়ার চেষ্টা হয়েছে। অভিযোগ অনুযায়ী, এ প্রক্রিয়াকে কেন্দ্র করে বড় অঙ্কের আর্থিক লেনদেনের সমঝোতা হয়েছিল। তবে এই অভিযোগের পক্ষে এখন পর্যন্ত কোনো আনুষ্ঠানিক তদন্ত প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়নি।

সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের মতে, এ ধরনের সিদ্ধান্ত গ্রহণে বিভাগীয় ও সার্কেল পর্যায়ের একাধিক কর্মকর্তার সম্পৃক্ততা থাকার সম্ভাবনা রয়েছে। ফলে বিষয়টি নিয়ে স্বাধীন ও নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি উঠেছে।

বিল উত্তোলনে অনিয়মের অভিযোগ

নির্বাহী প্রকৌশলী মো. জহুরুল ইসলামের বিরুদ্ধে পূর্ববর্তী প্রকল্প বাস্তবায়ন নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। অভিযোগ রয়েছে, স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের অধীন ঢাকার শ্যামলীর ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট টিবি হাসপাতাল এবং মোহাম্মদপুরের ফার্টিলিটি সার্ভিসেস অ্যান্ড ট্রেনিং সেন্টার ও ১০০ শয্যাবিশিষ্ট মা ও শিশু হাসপাতালের সংস্কার কাজে বরাদ্দকৃত অর্থ ব্যয়ের ক্ষেত্রে অনিয়ম হয়েছে।

সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলোর দাবি, ২০২৪-২৫ অর্থবছরে বরাদ্দ দেওয়া প্রায় ৭৮ লাখ টাকার কাজের বাস্তব অগ্রগতি নিয়ে প্রশ্ন থাকলেও পুরো বিল পরিশোধ করা হয়েছে। তবে এ অভিযোগের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কোনো আনুষ্ঠানিক তদন্ত প্রতিবেদন পাওয়া যায়নি।

তদন্তের দাবি

গণপূর্ত বিভাগের কর্মকর্তা, ঠিকাদার ও সংশ্লিষ্ট মহলের একাংশ মনে করছেন, প্রকল্প বাস্তবায়ন, দরপত্র মূল্যায়ন এবং বিল পরিশোধ প্রক্রিয়া নিরপেক্ষভাবে তদন্ত করা প্রয়োজন। তাদের মতে, অভিযোগগুলো সত্য হলে তা সরকারি অর্থ ব্যবস্থাপনা ও প্রকল্প বাস্তবায়ন ব্যবস্থার ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।

তারা বিষয়টি দুর্নীতি দমন কমিশন, গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয় এবং সংশ্লিষ্ট তদারকি সংস্থার মাধ্যমে পূর্ণাঙ্গ তদন্তের দাবি জানিয়েছেন।

অভিযোগের বিষয়ে মো. জহুরুল ইসলাম ও মো. নূরুল আমীন মিয়ার বক্তব্য এই প্রতিবেদক সংগ্রহ করতে পারেননি। তাদের বক্তব্য পাওয়া গেলে তা পরবর্তী সময়ে প্রকাশ করা হবে।

আরও সংবাদ

সর্বশেষ সংবাদ