বৃহস্পতিবার, মে ২১, ২০২৬

সান্তাহার পৌরসভায় প্ল্যান অনুমোদন ছাড়াই অর্থ আদায়ের অ’ভিযোগ, তদন্তের দাবি

বগুড়ার সান্তাহার পৌরসভায় বাড়ির নকশা (প্ল্যান) অনুমোদনের নামে সাধারণ মানুষের কাছ থেকে অর্থ আদায়ের অভিযোগ উঠেছে খণ্ডকালীন উপ-সহকারী প্রকৌশলী মাসফিকুর রহমান ও তার সহযোগী হিসেবে পরিচিত আমিনুল ইসলামের বিরুদ্ধে। অভিযোগ রয়েছে, দীর্ঘদিন ধরে বিপুল পরিমাণ টাকা নেওয়া হলেও অধিকাংশ গ্রাহককে অনুমোদিত নকশা, রশিদ কিংবা প্রয়োজনীয় কোনো কাগজপত্র দেওয়া হয়নি।

ভুক্তভোগীদের দাবি, মাসফিকুর রহমানের মৌখিক আশ্বাসে অনেকেই ভবন নির্মাণকাজ শুরু করেন এবং কেউ কেউ নির্মাণ শেষও করেছেন। তবে দীর্ঘ সময় পেরিয়ে গেলেও তারা এখনো অনুমোদিত প্ল্যানের কোনো নথি হাতে পাননি। এ অবস্থায় পৌরসভার প্ল্যান পাসের নামে একটি সংঘবদ্ধ চক্র সরকারি রাজস্ব আত্মসাৎ করছে বলে অভিযোগ উঠেছে।

স্থানীয় সূত্র জানায়, খণ্ডকালীন কর্মচারী হলেও প্রভাবশালী মহলের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্কের কারণে পৌরসভার বিভিন্ন কার্যক্রমে দীর্ঘদিন ধরে প্রভাব বিস্তার করে আসছেন মাসফিকুর রহমান। অভিযোগ রয়েছে, তার ঘনিষ্ঠ সহযোগী আমিনুল ইসলাম ভবন নির্মাণ তদারকি ও গ্রাহকদের সঙ্গে যোগাযোগের কাজ করতেন।

স্থানীয় সরকার (পৌরসভা) আইন ও ইমারত নির্মাণ বিধিমালা অনুযায়ী, অনুমোদিত কর্তৃপক্ষের পূর্বানুমতি ছাড়া কোনো ভবন নির্মাণ, পুনর্নির্মাণ বা সম্প্রসারণ বৈধ নয়। স্থানীয় সরকার ইমারত নির্মাণ আইন, ১৯৯৬ অনুযায়ী অনুমোদন ছাড়া ভবন নির্মাণ আইনত দণ্ডনীয় অপরাধ।

অনুসন্ধানে জানা গেছে, আওয়ামী লীগের সান্তাহার পৌর শাখার ৮ নম্বর ওয়ার্ড কমিটিতে মাসফিকুর রহমান বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিবিষয়ক সম্পাদক এবং আমিনুল ইসলাম আইনবিষয়ক সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। দলীয় সূত্রে জানা যায়, কমিটিটি ২০২০ সালের ১৫ নভেম্বর অনুমোদিত হয়।

অভিযোগকারীদের ভাষ্য, ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর পৌর প্রশাসনে তদারকি দুর্বল হয়ে পড়লে সেই সুযোগে অর্থের বিনিময়ে অনুমোদনহীন ভবন নির্মাণে মৌখিক অনুমতি দেওয়া শুরু হয়। প্রশাসক নিয়োগের পর নিয়মিত মনিটরিং কমে যাওয়ায় অনিয়ম আরও বেড়েছে বলেও অভিযোগ রয়েছে।

পৌর এলাকার একাধিক বাসিন্দা জানান, আওয়ামী লীগ সরকারের সময় দলীয় প্রভাব খাটিয়ে তৎকালীন মেয়রের অগোচরে অর্থের বিনিময়ে অনুমোদন ছাড়াই ভবন নির্মাণের তদারকি করা হতো। সীমিত বেতনের চাকরি করলেও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বিলাসবহুল জীবনযাপন নিয়েও স্থানীয়দের মধ্যে নানা প্রশ্ন রয়েছে।

স্থানীয়দের দাবি, গণঅভ্যুত্থানের পর থেকে পৌর এলাকায় অন্তত ২০০টির বেশি পাকা ভবন নির্মাণ হয়েছে, যার অধিকাংশেরই অনুমোদিত নকশা নেই। তারা ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত, সরকারি রাজস্ব পুনরুদ্ধার এবং জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।

এ বিষয়ে সান্তাহার পৌরসভার সহকারী প্রকৌশলী আবু রায়হান মণ্ডল বলেন, “জনপ্রতিনিধিদের অপসারণের পর থেকে এ পর্যন্ত ৪৩টি প্ল্যান অনুমোদন দেওয়া হয়েছে এবং আরও ৩১টি প্ল্যান প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। কোনো কর্মচারীর বিরুদ্ধে অনৈতিক কর্মকাণ্ডের প্রমাণ পাওয়া গেলে তদন্তসাপেক্ষে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

এদিকে স্থানীয় সচেতন মহল জানিয়েছে, বিষয়টি নিয়ে শিগগিরই দুর্নীতি দমন কমিশনে (দুদক) লিখিত অভিযোগ দেওয়া হতে পারে।

আরও সংবাদ

সর্বশেষ সংবাদ