শুক্রবার, মে ১, ২০২৬

এনবিআর কর্মকর্তা রুহুল আমিনকে ঘিরে অবৈধ সম্পদের অভিযোগ

জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)-এর মূসক বাস্তবায়ন, সেবা ও পণ্য শাখার প্রথম সচিব রুহুল আমিনকে ঘিরে বিপুল সম্পদ অর্জনের অভিযোগ সামনে এসেছে। তার ঘোষিত আয় ও বাস্তব সম্পদের মধ্যে অসামঞ্জস্য রয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন সূত্রে দাবি করা হয়েছে।

সূত্র জানায়, দীর্ঘদিন ধরে কাস্টমস-সংশ্লিষ্ট কার্যক্রমে প্রভাব খাটিয়ে কিছু সিএন্ডএফ এজেন্ট ও আমদানিকারক প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক গড়ে তোলেন তিনি। অভিযোগ রয়েছে, এই সম্পর্কের মাধ্যমে নির্দিষ্ট পক্ষকে সুবিধা দিয়ে রাজস্ব ফাঁকির সুযোগ সৃষ্টি করা হয়েছে এবং এর বিনিময়ে ব্যক্তিগতভাবে আর্থিক সুবিধা গ্রহণ করা হয়েছে। বিশেষ করে পূর্ববর্তী সরকারের সময়ে এসব অনিয়ম সংঘটিত হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে।

অনুসন্ধানে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, তার সরকারি বেতন ও ঘোষিত আয়ের সঙ্গে দৃশ্যমান সম্পদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য ফারাক রয়েছে। রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন এলাকায় তার ও তার পরিবারের নামে একাধিক স্থাবর সম্পদের তথ্য উঠে এসেছে।

রাজধানীর একটি অভিজাত এলাকায় তার নামে একটি ফ্ল্যাট থাকার তথ্য পাওয়া গেছে। এছাড়া ঢাকার উপকণ্ঠে একটি মৌজায় জমি ক্রয়ের তথ্য রয়েছে। উত্তরাঞ্চলের একটি জেলায় সদর উপজেলায় একাধিক জমি বিভিন্ন সময়ে রেজিস্ট্রি করা হয়েছে বলেও জানা গেছে।

অভিযোগ অনুযায়ী, তার স্ত্রীর নামেও বিভিন্ন স্থানে জমির মালিকানা রয়েছে। ঢাকার আশপাশের একটি মৌজায় কয়েক শতাংশ জমি এবং উত্তরাঞ্চলের একটি জেলায় বড় আকারের জমি তার স্ত্রীর নামে নথিভুক্ত রয়েছে বলে সূত্রের দাবি।

এছাড়া রাজধানীর বসুন্ধরা আবাসিক এলাকায় স্বামী-স্ত্রীর যৌথ নামে প্রায় ১৪ শতক জমির দুটি প্লটে শেয়ার কেনার তথ্যও পাওয়া গেছে। সংশ্লিষ্ট নথিপত্র অনুসন্ধানকারী সূত্রের কাছে রয়েছে বলে জানা গেছে। পাশাপাশি তার ব্যবহৃত বিলাসবহুল ব্যক্তিগত গাড়ির তথ্যও সামনে এসেছে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এনবিআরের একাধিক কর্মকর্তা জানান, কাস্টমস-সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন কার্যক্রমে প্রভাব খাটিয়ে নির্দিষ্ট কিছু প্রতিষ্ঠানকে সুবিধা দেওয়া হয়েছে, যার ফলে রাজস্ব ফাঁকির সুযোগ তৈরি হয়েছে। এর বিপরীতে বড় অঙ্কের আর্থিক লেনদেনের অভিযোগও রয়েছে।

তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে এখনো পর্যন্ত আনুষ্ঠানিক কোনো তদন্ত শুরু হয়েছে কিনা, সে বিষয়ে সংশ্লিষ্ট দপ্তরের পক্ষ থেকে স্পষ্ট কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, সম্পদের উৎস যাচাইয়ে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) এবং এনবিআরের অভ্যন্তরীণ নজরদারি ব্যবস্থার সক্রিয় ভূমিকা প্রয়োজন। সরকারি কর্মকর্তাদের আয়-ব্যয়ের অসামঞ্জস্য পাওয়া গেলে প্রচলিত নিয়ম অনুযায়ী তদন্তের সুযোগ রয়েছে।

অভিযোগের বিষয়ে বক্তব্য জানতে রুহুল আমিনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাকে পাওয়া যায়নি। খুদে বার্তা পাঠানো হলেও তিনি এ বিষয়ে কোনো প্রতিক্রিয়া জানাননি।

আরও সংবাদ

সর্বশেষ সংবাদ