বৃহস্পতিবার, এপ্রিল ৩০, ২০২৬

গণপূর্তের ইএম শাখায় সিন্ডিকেটের অভিযোগ, তদন্ত দাবি জোরালো

গণপূর্ত অধিদপ্তরের বিদ্যুৎ ও যান্ত্রিক (ইএম) শাখাকে ঘিরে অনিয়ম ও সিন্ডিকেট কার্যক্রমের অভিযোগ উঠেছে। সংশ্লিষ্টদের দাবি, কর্মকর্তা ও ঠিকাদারের একটি প্রভাবশালী গোষ্ঠীর কারণে স্বাভাবিক প্রশাসনিক কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে এবং সেবাপ্রাপ্তিতে সৃষ্টি হচ্ছে জটিলতা।

অভিযোগের কেন্দ্রে রয়েছেন অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী আশরাফুল হক এবং ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান আল মদিনা ট্রেডার্সের স্বত্বাধিকারী সাইদুল ইসলাম সোরাব। তাদের বিরুদ্ধে প্রভাব খাটিয়ে টেন্ডার প্রক্রিয়ায় সুবিধা নেওয়া, ভুয়া অভিজ্ঞতার সনদের মাধ্যমে কাজ পাওয়ার চেষ্টা এবং প্রশাসনিক প্রক্রিয়ায় হস্তক্ষেপের অভিযোগ উঠেছে।

সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানায়, কিছু ক্ষেত্রে কাজ সম্পন্ন না করেই অভিজ্ঞতার সনদ নেওয়ার অভিযোগ রয়েছে, যা ব্যবহার করে বড় প্রকল্পের টেন্ডারে অংশ নেওয়া হচ্ছে। এতে অন্যান্য অভিজ্ঞ ঠিকাদাররা প্রতিযোগিতা থেকে পিছিয়ে পড়ছেন বলে অভিযোগ করেছেন ভুক্তভোগীরা।

সম্প্রতি কুমিল্লার একটি প্রকল্পকে কেন্দ্র করে এ ধরনের অভিযোগ সামনে আসে। বিষয়টি নিয়ে তদন্ত প্রক্রিয়া শুরু হলেও তা প্রভাবিত করার চেষ্টা চলছে বলে অভিযোগ রয়েছে। তবে এসব বিষয়ে সংশ্লিষ্টদের আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

এছাড়া পদোন্নতি প্রক্রিয়ায় অনিয়ম, নির্দিষ্ট গোষ্ঠীর মাধ্যমে প্রভাব বিস্তার এবং টেন্ডারের শর্ত এমনভাবে নির্ধারণ করার অভিযোগ রয়েছে, যাতে নির্দিষ্ট প্রতিষ্ঠান সুবিধা পায়। এতে প্রশাসনের ভেতরে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।

অভিযোগ রয়েছে, বিভিন্ন প্রকল্পের বিল পাসসহ নানা ধাপে কমিশন বাণিজ্য চলছে এবং এর ফলে সরকারি অর্থের সুষ্ঠু ব্যবহার ব্যাহত হচ্ছে। কিছু সূত্র বিদেশে অর্থ পাচারের আশঙ্কার কথাও উল্লেখ করেছে, যদিও এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিক নিশ্চিত তথ্য পাওয়া যায়নি।

গণপূর্ত অধিদপ্তরের একাধিক কর্মকর্তা ও সংশ্লিষ্টরা বলছেন, এ ধরনের অভিযোগের নিরপেক্ষ তদন্ত জরুরি। তারা দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)সহ সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কার্যকর হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।

সচেতন মহলের মতে, গুরুত্বপূর্ণ রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানে স্বচ্ছতা নিশ্চিত না করা গেলে উন্নয়ন প্রকল্পগুলোর মান ও জনস্বার্থ ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। এজন্য দ্রুত তদন্ত ও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জোরালো হচ্ছে।

আরও সংবাদ

সর্বশেষ সংবাদ