
দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অধিদপ্তরের এক কর্মচারী কামাল হোসেনকে ঘিরে দুর্নীতি, অনিয়ম ও ক্ষমতার অপব্যবহারের অভিযোগ উঠেছে। তিনি সাঁটলিপিকার কাম কম্পিউটার অপারেটর হিসেবে কর্মরত থাকলেও মহাপরিচালকের ব্যক্তিগত সহকারী হিসেবে দায়িত্ব পালনের সুবাদে প্রভাব বিস্তার করছেন বলে অভিযোগ রয়েছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলোর দাবি, মহাপরিচালকের নাম ব্যবহার করে বদলি, নিয়োগসহ বিভিন্ন কাজে অনিয়মের মাধ্যমে অর্থ আদায়ের অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। মাঠ পর্যায়ের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের কাছ থেকে বিভিন্ন অজুহাতে অর্থ নেওয়ার অভিযোগও উঠেছে।
অভিযোগ রয়েছে, গত কয়েক বছরে তিনি বিপুল সম্পদের মালিক হয়েছেন। রাজধানীর বাড্ডা এলাকায় একাধিক ফ্ল্যাট ও জমি এবং টাঙ্গাইলে ব্যবসা প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলার তথ্য বিভিন্ন সূত্রে উঠে এসেছে। এসব সম্পদের একটি অংশ আত্মীয়স্বজনের নামে রয়েছে বলেও অভিযোগ রয়েছে।
এছাড়া নিয়োগ প্রক্রিয়ায় অনিয়মের অভিযোগও রয়েছে। একটি ঘটনায় পরীক্ষায় অন্যকে দিয়ে অংশগ্রহণ করানোর মাধ্যমে চাকরি পাইয়ে দেওয়ার চেষ্টা করা হয় বলে অভিযোগ উঠে, যা পরে আইনগত জটিলতায় গড়ায়। এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের তদন্ত হয়েছিল বলেও জানা গেছে।
আরও অভিযোগ রয়েছে, বিভিন্ন টেন্ডার প্রক্রিয়ায় প্রভাব খাটিয়ে অর্থ আদায়, বিল পাসে চাপ সৃষ্টি এবং নির্দিষ্ট হারে কমিশন দাবি করা হয়েছে। কিছু ক্ষেত্রে ঠিকাদারদের কাছ থেকে আর্থিক সুবিধা আদায়ের পরই কার্যাদেশ দেওয়ার অভিযোগও রয়েছে।
তবে এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন কামাল হোসেন। তার দাবি, তার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন এবং উদ্দেশ্যপ্রণোদিত। তিনি বলেন, “আমি একজন সরকারি কর্মচারী, আমার বিরুদ্ধে যে অভিযোগগুলো আনা হয়েছে তা সঠিক নয়। ব্যক্তিগত শত্রুতার কারণেই এসব বলা হচ্ছে।”
এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি। তবে সচেতন মহল মনে করছে, অভিযোগগুলো নিরপেক্ষভাবে তদন্ত করে সত্যতা যাচাই করা জরুরি।

