বৃহস্পতিবার, এপ্রিল ৩০, ২০২৬

মনোয়ারা বেগমকে ঘিরে দু’র্নী’তির অভিযোগ, লালমনিরহাট পরিবার পরিকল্পনায় তদন্ত দাবি

লালমনিরহাট জেলা পরিবার পরিকল্পনা বিভাগের বিভিন্ন পর্যায়ে দুর্নীতি, চাঁদাবাজি, হয়রানি ও ক্ষমতার অপব্যবহারের অভিযোগ উঠেছে। ভুক্তভোগী হিসেবে নিজেকে পরিচয় দিয়ে অবসরপ্রাপ্ত এক সেনা সদস্য এসব অভিযোগ তুলে ধরেছেন। তার স্ত্রী রুমা খাতুন বর্তমানে লালমনিরহাট জেলার বড়বাড়ি ইউনিয়ন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ কেন্দ্রে পরিবার কল্যাণ পরিদর্শিকা (এফডব্লিউভি) হিসেবে কর্মরত।

অভিযোগে বলা হয়েছে, লালমনিরহাট সদর মাতৃমঙ্গল কেন্দ্রে কম্পিউটার কাম টাইপিস্ট হিসেবে কর্মরত মোছা. মনোয়ারা বেগম দীর্ঘ ১৭ বছর ধরে অফিস সহকারীর পদে দায়িত্ব পালন করছেন এবং এই সময় তিনি বিভিন্ন ইউনিয়ন ও পৌরসভার তৃতীয় ও চতুর্থ শ্রেণীর কর্মচারীদের বেতন বিল থেকে ৪০ থেকে ৬০ শতাংশ পর্যন্ত অর্থ কেটে রাখছেন। যদিও সরকারি নিয়ম অনুযায়ী এসব অর্থ ব্যাংক হিসাবের মাধ্যমে দেওয়ার কথা, অভিযোগ রয়েছে তিনি তা নিজে উত্তোলন করে হাতে হাতে বিতরণ করেন।

ভুক্তভোগীর দাবি, এ বিষয়ে ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তার কাছে অভিযোগ করলে মনোয়ারা বেগম ক্ষুব্ধ হয়ে তার ও তার স্ত্রীর বিরুদ্ধে তিন লাখ টাকা চাঁদাবাজির অভিযোগে থানায় মামলা করেন। পরবর্তীতে বিষয়টি মীমাংসা হলেও তিনি আদালতে আবার একই অভিযোগে মামলা দায়ের করেন। এরপর লিখিত অভিযোগ দেওয়ার পর থেকে বিভিন্নভাবে হয়রানি শুরু হয় বলে অভিযোগ রয়েছে।

অভিযোগে আরও বলা হয়, তদন্ত কার্যক্রম চলাকালে গঠিত তদন্ত টিমকে প্রভাবিত করা হয় এবং রিপোর্টে ঘটনাকে ‘পারিবারিক সমস্যা’ হিসেবে উল্লেখ করা হয়। তবে তৎকালীন উপ-পরিচালক শাহজালাল এক বছরের তদন্তে মনোয়ারা বেগমের বিরুদ্ধে প্রায় ২৫ লাখ টাকার অনিয়মের প্রাথমিক সত্যতা পান। পরবর্তীতে অডিট টিম গঠন করা হলে ২০২১ থেকে ২০২৫ সাল পর্যন্ত চার বছরের অডিটে ৭০ লাখ টাকার বেশি অনিয়মের অভিযোগ উঠে। তবে চূড়ান্ত প্রতিবেদনে মাত্র ১৩ লাখ ৭৮ হাজার টাকা অনিয়ম দেখানো হয় বলে অভিযোগ রয়েছে।

অভিযোগ অনুযায়ী, পরবর্তীতে প্রভাব খাটিয়ে সংশ্লিষ্ট উপ-পরিচালককে সিলেটে বদলি করা হয়। একই সঙ্গে বিভিন্ন পর্যায়ে অর্থের বিনিময়ে প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত প্রভাবিত করার অভিযোগও তোলা হয়েছে।

এদিকে, ভুক্তভোগী আরও দাবি করেন, তাকে হত্যার উদ্দেশ্যে হামলা করা হয় এবং তিনি আহত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি ছিলেন। এ ঘটনায় দায়ের করা মামলায় চারজনের নাম থাকলেও তদন্তে তিনজনের নাম বাদ দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ করা হয়েছে।

অভিযোগে আরও বলা হয়, মনোয়ারা বেগমকে কুড়িগ্রামে বদলি করা হলেও তিনি সেখানে নিয়মিত দায়িত্ব পালন না করে লালমনিরহাটেই কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছেন। এছাড়া বর্তমান দায়িত্বপ্রাপ্ত উপ-পরিচালকের বিরুদ্ধে তাকে সহযোগিতা করার অভিযোগও উঠেছে।

একই সঙ্গে ভুক্তভোগীর স্ত্রীর বিরুদ্ধে মিথ্যা অভিযোগ এনে তাকে অন্য জেলায় বদলি করা হয়েছে বলেও অভিযোগ রয়েছে। ভুক্তভোগী পরিবারটি বর্তমানে নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছে এবং বিভিন্নভাবে হুমকি পাচ্ছে বলে দাবি করেছে।

অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে মনোয়ারা বেগমের বক্তব্য পাওয়া যায়নি। সংশ্লিষ্ট অন্যান্য কর্মকর্তাদের পক্ষ থেকেও আনুষ্ঠানিক কোনো প্রতিক্রিয়া মেলেনি।

এ ঘটনায় সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে নিরপেক্ষ তদন্ত ও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন ভুক্তভোগীরা।

আরও সংবাদ

সর্বশেষ সংবাদ