সোমবার, এপ্রিল ২৭, ২০২৬

আমতলীতে চাঁদা না দেওয়ায় ঠিকাদারকে মারধরের অভিযোগ ছাত্রদল নেতার বিরুদ্ধে

বরগুনার আমতলীতে চাঁদাবাজির অভিযোগকে কেন্দ্র করে এক ঠিকাদারকে মারধরের ঘটনা ঘিরে উত্তেজনা ছড়িয়েছে। ১০ লাখ টাকা চাঁদা না দেওয়ায় ছাত্রদল নেতার বিরুদ্ধে হামলার অভিযোগ উঠেছে। আহত ঠিকাদার মো. শহীদুল ইসলাম খান বর্তমানে বরিশাল শেরেবাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

অভিযোগের তীর আমতলী উপজেলা ছাত্রদলের সদস্য সচিব মো. ইমরান খানের দিকে। স্থানীয় সূত্র জানায়, গত জানুয়ারি মাসে প্রথম শ্রেণির ঠিকাদার শহীদুল ইসলামের কাছে ১০ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করা হয়। তিনি তা দিতে অস্বীকৃতি জানালে এরপর থেকে বিভিন্নভাবে হয়রানি ও প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হচ্ছিল।

ঘটনার সূত্রপাত শুক্রবার (২৪ এপ্রিল) রাতে। আমতলী একে স্কুল চৌরাস্তায় একটি দোকানে বসে চা পান করছিলেন শহীদুল ইসলাম। এ সময় ইমরান খানের নেতৃত্বে কয়েকজন সেখানে গিয়ে আবারও চাঁদা দাবি করেন। তিনি অস্বীকৃতি জানালে তাকে মারধর করা হয় বলে অভিযোগ।

আহত শহীদুল ইসলাম বলেন, “চাঁদা না দেওয়ায় আমাকে ও আমার পরিবারকে হুমকি দেওয়া হচ্ছিল। সেদিন আবার টাকা চাইলে না বলায় তারা আমাকে পিটিয়ে আহত করে।” তিনি এই ঘটনায় জড়িতদের শাস্তি দাবি করেছেন।

তবে অভিযোগ অস্বীকার করেছেন ইমরান খান। তাঁর দাবি, শহীদুল ইসলাম রাজনৈতিকভাবে কটূক্তি করায় এক ছাত্রদলকর্মীর সঙ্গে কথা কাটাকাটি হয়, সেখান থেকেই মারধরের ঘটনা ঘটে। “আমি খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি শান্ত করেছি, এতে আমার কোনো সম্পৃক্ততা নেই,”—বলেন তিনি।

এ বিষয়ে বরগুনা জেলা ছাত্রদলের আহ্বায়ক মো. সানাউল্লাহ সানি জানিয়েছেন, অভিযোগ প্রমাণিত হলে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

আমতলী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের চিকিৎসক ডা. রেদওয়ান ইসলাম শুভ জানান, আহত ব্যক্তিকে প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে উন্নত চিকিৎসার জন্য বরিশালে পাঠানো হয়েছে।

অন্যদিকে, আমতলী থানার ওসি মো. জাহাঙ্গীর হোসেনের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাঁর বক্তব্য পাওয়া যায়নি। সহকারী পুলিশ সুপার (আমতলী-তালতলী সার্কেল) মো. তারিকুল ইসলাম মাছুম বলেন, অভিযোগ পেলে তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

ঘটনাটি নিয়ে এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে, আর স্থানীয়রা দ্রুত তদন্ত ও দোষীদের শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।

আরও সংবাদ

সর্বশেষ সংবাদ