Friday, August 14, 2026

সংসদ সদস্যের স্বাক্ষর জা’ল করে ১০০ কোটি টাকা ঋ’ণের চেষ্টার অ’ভিযোগ

ঢাকা-১ আসনের সংসদ সদস্য খন্দকার আবু আশফাকের স্বাক্ষর জাল করে তাঁর নাম ও পরিচয় ব্যবহার করে ১০০ কোটি টাকা ঋণ নেওয়ার চেষ্টা করা হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় নবাবগঞ্জ থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেছেন তিনি।

১১ আগস্ট সকালে গণমাধ্যমকে বিষয়টি জানান খন্দকার আবু আশফাক। এর আগে গত ৭ আগস্ট তিনি এ বিষয়ে নবাবগঞ্জ থানায় জিডি করেন।

জিডিতে উল্লেখ করা হয়েছে, সংসদ সদস্য খন্দকার আবু আশফাকের স্বাক্ষর জাল করে তাঁর নাম ও পরিচয় ব্যবহার করে ঋণ নেওয়ার জন্য প্রয়োজনীয় বিভিন্ন কাগজপত্র তৈরি করা হয়। এর মধ্যে ১০০ কোটি টাকা ঋণ নেওয়ার জন্য তাঁর স্বাক্ষর জাল করে একটি অঙ্গীকারনামাও প্রস্তুত করা হয়েছে বলে অভিযোগ করা হয়েছে।

ওই অঙ্গীকারনামায় উল্লেখ করা হয়, ১০০ কোটি টাকা ঋণ হিসেবে নেওয়ার পর সংসদ সদস্য তাঁর কোটার কাজের মাধ্যমে সেই ঋণ পরিশোধ করবেন। তবে এমন কোনো ঋণ নেওয়া বা এ ধরনের অঙ্গীকারনামায় স্বাক্ষর করার বিষয়ে তাঁর অনুমতি বা সম্মতি ছিল না বলে জানিয়েছেন খন্দকার আবু আশফাক।

এ ঘটনায় কোনো ব্যক্তি বা চক্র যাতে জাল কাগজপত্র ব্যবহার করে আর্থিক লেনদেন বা ঋণ অনুমোদন করাতে না পারে, সে বিষয়ে সংশ্লিষ্ট আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোকে সতর্ক করা হয়েছে। একই সঙ্গে জাল স্বাক্ষর ও কাগজপত্র তৈরির সঙ্গে জড়িতদের শনাক্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য থানায় অভিযোগ করা হয়েছে।

খন্দকার আবু আশফাক বলেন, তাঁর স্বাক্ষর জাল করে ১০০ কোটি টাকা ঋণ নেওয়ার চেষ্টা করা হয়েছে বলে তিনি জানতে পেরেছেন। অনুমতি ছাড়া তাঁর স্বাক্ষর ও পরিচয় ব্যবহার করে কোনো ধরনের আর্থিক কার্যক্রম পরিচালনার সুযোগ নেই। বিষয়টি আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে জানানো হয়েছে এবং তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত ঘটনা উদ্‌ঘাটনের দাবি জানিয়েছেন তিনি।

সংশ্লিষ্ট কয়েকটি আর্থিক প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তাদের মতে, কোনো জনপ্রতিনিধির স্বাক্ষর ও পরিচয় ব্যবহার করে বিপুল অঙ্কের ঋণ নেওয়ার চেষ্টা গুরুতর জালিয়াতির ঘটনা হতে পারে। এতে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির পরিচয় ও সুনাম ব্যবহারের পাশাপাশি আর্থিক প্রতিষ্ঠানকেও প্রতারণার মাধ্যমে ঋণ অনুমোদনে প্রভাবিত করার চেষ্টা করা হয়েছে কি না, তা তদন্ত করে দেখা প্রয়োজন।

নবাবগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবু হানিফ বলেন, এ ঘটনায় থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি করা হয়েছে। অভিযোগটি খতিয়ে দেখা হচ্ছে। তদন্তের পর সংসদ সদস্যের স্বাক্ষর জাল করার সঙ্গে কারা জড়িত এবং কী উদ্দেশ্যে এ কাজ করা হয়েছে, তা জানা যাবে।

খন্দকার আবু আশফাক ঢাকা-১ আসনের (দোহার-নবাবগঞ্জ) সংসদ সদস্য ও ঢাকা জেলা বিএনপির সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।

আরও সংবাদ

সর্বশেষ সংবাদ