
কুড়িগ্রামের চিলমারীতে গ্রামীণ অবকাঠামো উন্নয়ন প্রকল্পের অনিয়ম ও দুর্নীতি নিয়ে সংবাদ প্রকাশের জেরে দুই সাংবাদিকের হাত কেটে দেওয়ার পরিকল্পনার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় চিলমারী উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তার (পিআইও) কার্যালয়ের এক কর্মচারীর কথোপকথনের একটি অডিও প্রকাশ্যে এসেছে। ওই অডিওতে স্থানীয় কয়েকজন যুবকের সঙ্গে দুই সাংবাদিকের হাত কেটে দেওয়ার বিষয়ে চুক্তির কথা বলতে শোনা যায় বলে অভিযোগ করা হয়েছে।
অভিযুক্ত ব্যক্তির নাম হুমায়ুন কবির। তিনি চিলমারী পিআইও কার্যালয়ে কার্যসহকারী পদে মাস্টাররোলভুক্ত দৈনিক হাজিরার কর্মচারী হিসেবে কাজ করেন বলে জানা গেছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, গত সোমবার (১০ আগস্ট) সকালে হুমায়ুন কবির তার ঘনিষ্ঠ কয়েকজনের কাছে দুই সাংবাদিকের হাত কেটে দেওয়ার পরিকল্পনার কথা বলেন। পরে ওই কথোপকথনের একটি অডিও রেকর্ড ফাঁস হয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে।
অভিযোগের শিকার দুই সাংবাদিক হলেন কালবেলার চিলমারী প্রতিনিধি এস এম রাফি এবং দৈনিক ইনকিলাবের চিলমারী প্রতিনিধি ফয়সাল হক রকি। সম্প্রতি তারা চিলমারী উপজেলার টিআর, কাবিখা ও কাবিটা প্রকল্পে কথিত অনিয়ম ও দুর্নীতি নিয়ে নিজ নিজ সংবাদমাধ্যমে প্রতিবেদন প্রকাশ করেন।
ফাঁস হওয়া অডিওতে হুমায়ুন কবিরকে দুই সাংবাদিকের নাম উল্লেখ করে তাদের ওপর ক্ষোভ প্রকাশ এবং ৭২ ঘণ্টার মধ্যে হাত কেটে দেওয়ার পরিকল্পনার কথা বলতে শোনা যায় বলে অভিযোগ করা হয়েছে। অডিওতে তিনি নিজেও ওই ঘটনায় অংশ নেওয়ার কথা বলেছেন বলে দাবি করা হয়েছে।
বিষয়টি নিয়ে জানতে চাইলে হুমায়ুন কবির প্রথমে অভিযোগ অস্বীকার করেন। পরে তিনি বলেন, রাগের মাথায় ওই কথা বলে ফেলেছেন এবং তার কথোপকথন রেকর্ড করে ছড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। তিনি এ জন্য ক্ষমাও চান। একই সঙ্গে ওই দুই সাংবাদিকের কাছে ক্ষমা চাইতে হলে তিনি তা করবেন বলেও জানান।
অডিও প্রকাশ্যে আসার পর নিজেদের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন সাংবাদিক এস এম রাফি ও ফয়সাল হক রকি। এ ঘটনায় জীবনের নিরাপত্তা চেয়ে সোমবার চিলমারী মডেল থানায় লিখিত অভিযোগ করেন সাংবাদিক রাফি। অডিও রেকর্ডের একটি কপি ডিজিটাল প্রমাণ হিসেবে চিলমারী মডেল থানার সরকারি ই-মেইলে পাঠানো হয়েছে বলেও তিনি জানান।
সাংবাদিক এস এম রাফি বলেন, সংবাদ প্রকাশের জেরে তাদের জীবন হুমকির মুখে পড়েছে। বর্তমানে তারা চরম নিরাপত্তাহীনতায় রয়েছেন। ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত করে অভিযুক্তদের দ্রুত আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান তিনি।
চিলমারী সাংবাদিক ফোরামের সভাপতি সাওরাত হোসেন সোহেল ঘটনার নিন্দা জানিয়ে বলেন, কোনো অনিয়মের অভিযোগ থাকলে সাংবাদিকরা তা নিয়ে সংবাদ প্রকাশ করবেন। এ কারণে সাংবাদিকদের হুমকি দেওয়া কোনোভাবেই কাম্য নয়। তিনি ঘটনাটি তদন্ত করে দ্রুত আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান।
চিলমারী উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা (পিআইও) মো. সোহেল রহমান বলেন, বিষয়টি তিনি দেখছেন।
চিলমারী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মাহমুদুল হাসান বলেন, এভাবে কাউকে হুমকি দেওয়া যায় না এবং এটি ফৌজদারি অপরাধ। এমন ঘটনা ঘটে থাকলে থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করার পরামর্শ দেন তিনি।
চিলমারী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নয়ন কুমার জানান, বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হচ্ছে। তদন্তে জড়িতদের শনাক্ত করা গেলে তাদের বিরুদ্ধে দ্রুত আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এ ঘটনায় সাংবাদিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং হুমকির অভিযোগের নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় সাংবাদিকরা।

