সোমবার, এপ্রিল ২৭, ২০২৬

৩৮২৫ কোটি টাকার ইভিএম এখন অব্যবহৃত, অনিয়মের অভিযোগে তদন্ত

সোমবার জাতীয় সংসদের অধিবেশনে ইলেকট্রনিক ভোটিং মেশিন (ইভিএম) ক্রয় প্রকল্প নিয়ে গুরুতর অনিয়মের অভিযোগ উঠে আসে। প্রশ্নোত্তর পর্বে পাবনা-৫ আসনের সংসদ সদস্য মো. শামছুর রহমান শিমুল বিশ্বাস এ বিষয়ে প্রশ্ন উত্থাপন করেন এবং প্রকল্পটিকে জনগণের অর্থের অপচয় হিসেবে উল্লেখ করে দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার বিষয়ে জানতে চান।

অধিবেশনে সভাপতিত্ব করেন স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ। জবাবে স্থানীয় সরকার মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর জানান, ২০১৮ সালের জুলাই থেকে ২০২৪ সালের জুন পর্যন্ত সময়ে ১ লাখ ৫০ হাজার ইভিএম ক্রয়ের জন্য ৩৮২৫ কোটি ৩৪ লাখ টাকার একটি প্রকল্প বাস্তবায়ন করা হয়।

মন্ত্রী বলেন, ইভিএমগুলো অর্পিত ক্রয় পদ্ধতিতে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর মাধ্যমে সংগ্রহ করা হয়। প্রকল্পটি সমাপ্ত হলেও এর সমাপ্তি প্রতিবেদন (পিসিআর) এখনো চূড়ান্ত হয়নি। গত বছর মে মাসে প্রতিবেদন বাস্তবায়ন পরিবীক্ষণ ও মূল্যায়ন বিভাগে পাঠানো হলেও এখনো মূল্যায়ন প্রতিবেদন পাওয়া যায়নি।

তিনি আরও জানান, অডিট অধিদপ্তর থেকে প্রকল্পটি নিয়ে একাধিক গুরুতর আপত্তি উত্থাপন করা হয়েছে, যা এখনো নিষ্পত্তি হয়নি। প্রকল্পের আর্থিক লেনদেন ও অনিয়মের অভিযোগ বর্তমানে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) তদন্ত করছে।

মন্ত্রী সংসদে আরও উল্লেখ করেন, নির্বাচন কমিশন ২০২৫ সালের ১০ জুলাই অনুষ্ঠিত বৈঠকে সিদ্ধান্ত নিয়েছে যে ভবিষ্যতে কোনো জাতীয় বা স্থানীয় নির্বাচনে ইভিএম ব্যবহার করা হবে না।

বর্তমানে বিপুল ব্যয়ে ক্রয় করা এসব ইভিএম অব্যবহৃত অবস্থায় সংরক্ষিত রয়েছে। এর একটি অংশ বাংলাদেশ মেশিন টুলস ফ্যাক্টরি-এর গুদামে এবং বাকিগুলো নির্বাচন কমিশন সচিবালয়ের বেইজমেন্টে রাখা হয়েছে।

উত্থাপিত অডিট আপত্তি ও চলমান তদন্তের প্রেক্ষিতে প্রকল্পটির সার্বিক ব্যবস্থাপনা ও ব্যয় নিয়ে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।

আরও সংবাদ

সর্বশেষ সংবাদ