বৃহস্পতিবার, এপ্রিল ১৬, ২০২৬

ডিজিএফআইয়ের সাবেক মহাপরিচালক মামুন খালেদ আরেক হত্যা মামলায় ৩ দিনের রিমান্ডে গ্রেপ্তারের পর চতুর্থ দফায় রিমান্ড মঞ্জুর

ডিজিএফআইয়ের সাবেক মহাপরিচালক মামুন খালেদ আরেক হত্যা মামলায় ৩ দিনের রিমান্ডে
গ্রেপ্তারের পর চতুর্থ দফায় রিমান্ড মঞ্জুর

বিএনপির কর্মী মকবুল হত্যার অভিযোগে রাজধানীর পল্টন মডেল থানার মামলায় প্রতিরক্ষা গোয়েন্দা মহাপরিদপ্তরের (ডিজিএফআই) সাবেক মহাপরিচালক লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) শেখ মামুন খালেদকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য তিন দিনের রিমান্ডে নেওয়া হয়েছে। আজ বৃহস্পতিবার ঢাকার অতিরিক্ত চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আওলাদ হোসাইন মো. জুনায়েদ এই রিমান্ড মঞ্জুর করেন।

মিরপুর থানায় দায়ের করা জুলাই যোদ্ধা দেলোয়ার হোসেন হত্যা মামলায় ৩ দিনের রিমান্ড শেষে তাকে আদালতে হাজির করা হয়। ওই মামলায় তাঁকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেওয়া হয়। অন্যদিকে পল্টন থানায় দায়ের করা মকবুল হত্যা মামলায় তাকে গ্রেপ্তার দেখানোর আবেদন করেন মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ডিবি পুলিশের মতিঝিল জোনাল টিমের এসআই তোফাজ্জল হোসেন। আদালত গ্রেপ্তার দেখানোর আবেদন মঞ্জুর করেন। পরে আসামিকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য সাত দিনের রিমান্ড চেয়ে আবেদন করেন তদন্ত কর্মকর্তা। শুনানি শেষে আদালত ৩ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করে আদেশ দেন।
রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী অতিরিক্ত পিপি শামসুদ্দোহা সুমন বিষয়টি নিশ্চিত করেন।

মকবুল হত্যা মামলার অভিযোগ থেকে জানা যায়, ২০২২ সালের ১০ ডিসেম্বর এক দফা দাবি আদায়ের কর্মসূচি ঘোষণা করে বিএনপি। ওই বছরের ৭ ডিসেম্বর ডিবি পুলিশের হারুন অর রশীদ, মেহেদী হাসান ও বিপ্লব কুমার বিএনপির নয়াপল্টন কার্যালয়ে অভিযান চালান। কার্যালয়ে ভাঙচুর চালান তারা। কার্যালয়ের পাশে থাকা হাজার হাজার নেতাকর্মীর ওপর হামলা চালান। এতে মকবুল হোসেন নামে এক কর্মী গুলিবিদ্ধ হয়ে মারা যান।
এ ঘটনায় গত ৩০ সেপ্টেম্বর মাহফুজুর রহমান বাদী হয়ে শেখ হাসিনাসহ ২৫৬ জনের বিরুদ্ধে মামলা করেন।

এর আগে গত ২৫ মার্চ রাত সাড়ে ১২টার দিকে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের একটি টিম রাজধানীর মিরপুর এলাকায় অভিযান পরিচালনা করে সাবেক এই সেনা কর্মকর্তাকে গ্রেপ্তার করে। মিরপুর থানায় দায়ের করা দেলোয়ার হোসেন হত্যা মামলায় পরদিন তার ৫ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর হয়। গত ৩১ মার্চ আরও ৬ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর হয়। দুই দফায় ১১ দিনের রিমান্ড শেষে তাকে আদালতে হাজির করে পুনরায় চার দিনের রিমান্ড চেয়ে আবেদন করে ডিবি পুলিশ। গত ৬ এপ্রিল আদালত তার ৩ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।

মকবুল হত্যা মামলার রিমান্ড আবেদনের তদন্ত কর্মকর্তা উল্লেখ করেছেন, মামলাটি তদন্তকালে আসামি শেখ মামুন খালেদ (৬৪) লে. জেনারেল (অব.) পদে দায়িত্বে থেকে স্ব-প্রণোদিত হয়ে রাজনৈতিকভাবে বিরোধী পক্ষকে বিগত সরকারকে নানাভাবে সহযোগীতা করেছেন এবং অত্র মামলার ঘটনা সংঘটনে নেপথ্যে থেকে রাজনৈতিকভাবে বিরোধী পক্ষকে দমনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছেন মর্মে বিভিন্ন সূত্রে প্রাপ্ত তথ্যের ভিত্তিতে প্রাথমিকভাবে প্রতীয়মান হয়েছে। এটি একটি রাজনৈতিক হত্যা মামলা। মামলাটি গোয়েন্দা-মতিঝিল বিভাগ, ডিএমপি, ঢাকার নিকট তদন্তাধীন রয়েছে। তিনি এই মামলার ঘটনার সাথে জড়িত ছিলেন মর্মে বিভিন্ন সূত্রে প্রাপ্ত তথ্যের ভিত্তিতে সাক্ষ্য প্রমাণ পাওয়া যাচ্ছে। বিধায় উক্ত আসামীকে পুলিশ হেফাজতে এনে নিবিড়ভাবে জিজ্ঞাসাবাদ করার জন্য ০৭ (সাত) দিনেও পুলিশ রিমান্ড একান্ত প্রয়োজন।
এছাড়া হত্যাকান্ডের মূল রহস্য উদঘাটন, ঘটনার সঙ্গে জড়িত এজাহার নামীয় ও অজ্ঞাতনামা আসামীদের শনাক্ত করা, মকবুলকে হত্যার সময় জড়িত আসামিদের কার কী কী ভূমিকা ছিল, হত্যাকাণ্ডে প্রকৃতপক্ষে কে কে জড়িত ছিল, হত্যাকান্ডে ব্যবহৃত অবৈধ অস্ত্র ও গোলাবরুম উদ্ধার করা ও অর্থের যোগান ও হুকুম দাতা শনাক্ত করার জন্য খালেদ মামুনকে রিমান্ডে নেওয়া প্রয়োজন।
আরো উল্লেখ্য গ্রেপ্তারের পর মামুন খালেদ কে চতুর্থ দফায় রিমান্ডে দেওয়া হলো।

আরও সংবাদ

সর্বশেষ সংবাদ