
নেত্রকোনার কলমাকান্দা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আবুল হাশেমের বক্তব্য বলে দাবি করা একটি অডিও রেকর্ড সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। প্রায় ৪ মিনিট ৪ সেকেন্ড দৈর্ঘ্যের ওই অডিও শনিবার রাত আটটার পর বিভিন্ন প্ল্যাটফর্মে ছড়িয়ে পড়লে তা নিয়ে ব্যাপক আলোচনা ও সমালোচনার সৃষ্টি হয়।
ভাইরাল হওয়া অডিওতে থানার পুলিশ সদস্যদের উদ্দেশে এক ব্যক্তিকে বলতে শোনা যায়, ‘পুলিশের চাকরি ওয়ান কাইন্ড অব বিজনেস। আমরা কেউ কাউকে ঠকাব না। সবাই মিলেমিশে থাকব।’ একই সঙ্গে বিভিন্ন অভিযোগ নিষ্পত্তি ও অর্থ লেনদেন সম্পর্কেও মন্তব্য করতে শোনা যায়, যা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক প্রতিক্রিয়ার জন্ম দিয়েছে।
অডিওতে আরও শোনা যায়, পুলিশের চাকরিকে ‘এক ধরনের ব্যবসা’ হিসেবে উল্লেখ করে সদস্যদের পারস্পরিক সমন্বয়ের কথা বলা হচ্ছে। পাশাপাশি কনস্টেবলদের প্রাপ্য অধিকার নিশ্চিত করার বিষয়েও বক্তব্য দেওয়া হয়। বক্তব্যের এক পর্যায়ে মিডিয়ার নজরদারির বিষয়টিও উল্লেখ করা হয়।
তবে অডিওটি সম্পর্কে নিজের সম্পৃক্ততার কথা অস্বীকার করেছেন কলমাকান্দা থানার ওসি মো. আবুল হাশেম। এ বিষয়ে গণমাধ্যমকে তিনি বলেন, কীভাবে এমন বক্তব্য প্রচারিত হয়েছে তা তাঁর জানা নেই। তিনি দাবি করেন, এ ধরনের কোনো বক্তব্য তিনি কোথাও দেননি এবং বিষয়টি সম্পর্কে তিনিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের মাধ্যমেই অবগত হয়েছেন।
এদিকে অডিওটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর তাৎক্ষণিকভাবে ওসি মো. আবুল হাশেমকে কলমাকান্দা থানা থেকে প্রত্যাহার করা হয়েছে। একই সঙ্গে ঘটনার সত্যতা যাচাই ও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের লক্ষ্যে তিন সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করেছে পুলিশ।
জেলা পুলিশ সুপার মো. তরিকুল ইসলাম জানান, বিষয়টি নজরে আসার পরপরই ওসিকে প্রত্যাহার করা হয়েছে। অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ডিএসবি) হাফিজুল ইসলামকে প্রধান করে গঠিত তদন্ত কমিটিকে আগামী পাঁচ কার্যদিবসের মধ্যে প্রতিবেদন জমা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
পুলিশ সুপার আরও বলেন, অভিযোগের সত্যতা প্রমাণিত হলে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তার বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তিনি দুর্নীতির বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থানের কথা উল্লেখ করে বলেন, তাঁর অধীনে কোনো কর্মকর্তা বা সদস্য অসৎ কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকলে তা কোনোভাবেই বরদাশত করা হবে না।
তদন্তসাপেক্ষ
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া অডিওটির সত্যতা ও উৎস এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে যাচাই হয়নি। তদন্ত কমিটির প্রতিবেদন প্রকাশের পর বিষয়টি সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য জানা যাবে। ফলে তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত অডিওতে থাকা বক্তব্যের সত্যতা সম্পর্কে চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছানো সম্ভব নয়।

