সোমবার, জুন ১, ২০২৬

নীতিমালা লঙ্ঘনের অ’ভিযোগে বিসিএসির নাবিক নিয়োগ প্রক্রিয়া নিয়ে দুদকের অনুসন্ধান

বাংলাদেশ শিপিং করপোরেশন (বিএসসি)-এর নাবিক নিয়োগ কার্যক্রমে ব্যাপক অনিয়ম, স্বজনপ্রীতি, জালিয়াতি এবং ঘুষ বাণিজ্যের অভিযোগের অনুসন্ধান শুরু করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। অভিযোগের প্রাথমিক সত্যতা যাচাইয়ের লক্ষ্যে দুদকের প্রধান কার্যালয় থেকে সংশ্লিষ্ট গুরুত্বপূর্ণ নথিপত্র তলব করা হয়েছে বলে জানা গেছে।

অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, সরকারি নীতিমালা ও নৌ-পরিবহন মন্ত্রণালয়ের বিধি-বিধান উপেক্ষা করে অবৈধ আর্থিক লেনদেনের মাধ্যমে প্রায় ২০০ জন অযোগ্য ব্যক্তিকে নাবিক হিসেবে নির্বাচিত করা হয়েছে। অভিযোগে বলা হয়েছে, প্রতি প্রার্থীর কাছ থেকে গড়ে ৭ লাখ টাকা করে আদায়ের মাধ্যমে প্রায় ১৪ কোটি টাকার অবৈধ লেনদেন সংঘটিত হয়েছে।

এছাড়া নৌ-পরিবহন অধিদপ্তরের অনুমোদন ছাড়াই একটি তথাকথিত “স্পেশাল রেটিং কোর্স” পরিচালনার অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগ অনুযায়ী, ন্যাশনাল মেরিটাইম ইনস্টিটিউটে ওই কোর্সের মাধ্যমে প্রশিক্ষণ দেওয়া হয় এবং পরবর্তীতে প্রশিক্ষণার্থীদের বিভিন্ন নথি ইস্যু করা হয়।

অনুসন্ধানে আরও অভিযোগ উঠে এসেছে যে, প্রশিক্ষণার্থীদের পরিচয় ও তথ্য যথাযথভাবে যাচাই না করেই পানামা, বেলিজ, মালয়েশিয়া ও ফিলিপাইনের নামে বিভিন্ন সার্টিফিকেট ইস্যু করা হয়েছে। অভিযোগকারীদের দাবি, এসব সনদের একটি অংশ ভুয়া বা অনিয়মের মাধ্যমে প্রদান করা হয়েছে, যা আন্তর্জাতিক নৌ-নিরাপত্তা ও জনবল নিয়োগ ব্যবস্থার জন্য উদ্বেগের কারণ হতে পারে।

তবে অভিযোগগুলোর বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের আনুষ্ঠানিক বক্তব্য তাৎক্ষণিকভাবে পাওয়া যায়নি। অভিযোগের সত্যতা, আর্থিক অনিয়মের পরিমাণ এবং জালিয়াতির বিষয়গুলো দুদকের চলমান অনুসন্ধানের মাধ্যমে স্পষ্ট হবে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।

সংশ্লিষ্ট মহলের মতে, অভিযোগগুলো প্রমাণিত হলে এটি দেশের সামুদ্রিক খাত ও নাবিক নিয়োগ ব্যবস্থার জন্য একটি গুরুতর অনিয়ম হিসেবে বিবেচিত হবে। তাই স্বচ্ছ ও নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত ঘটনা উদঘাটন এবং দায়ীদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানানো হয়েছে।

উল্লেখ্য, উল্লিখিত অভিযোগগুলো বর্তমানে অনুসন্ধানাধীন এবং চূড়ান্ত সত্যতা দুদকের তদন্ত ও পরবর্তী আইনগত প্রক্রিয়ার মাধ্যমে নির্ধারিত হবে।

আরও সংবাদ

সর্বশেষ সংবাদ