বৃহস্পতিবার, মে ৭, ২০২৬

জাতীয় সরকারি জমি আত্মসাতের মামলা: রূপায়ণের চেয়ারম্যানসহ ৬ জনকে আত্মসমর্পন করতে হবে সোমবার

 

 

এসিএম নিউজ, ঢাকা

 

সরকারি খাস জমি, ভাওয়াল এস্টেটের সম্পত্তি এবং ব্যক্তিমালিকানাধীন ভূমি জালিয়াতির মাধ্যমে আত্মসাতের অভিযোগে করা মামলায় রূপায়ণ হাউজিংয়ের চেয়ারম্যান লিয়াকত আলী খাঁন মুকুলসহ ৬জনকে আদালতে আত্মসমর্পণ করতে হবে আগামীকাল সোমবার (৯ মার্চ)।

অন্যরা হলেন লিয়াকত আলী খান মুকুলের স্ত্রী রোকেয়া বেগম নাসিমা, ছেলে মাহির আলী খান রাতুল, মা ফরিদা বেগম, ভাই আলী আকবর খান রতন ও রুপায়ন স্টেট অফিসের কর্মকর্তা সাজ্জাদ হোসেন।

গত ২২ জানুয়ারি লিয়াকত আলী খান ও সাবেক ম্যাজিস্ট্রেট রোকন উদ-দৌলাসহ ৪৩ জনের নামে সরকারি জমি ও ভাওয়াল এস্টেটের সম্পত্তি আত্মসাতের অভিযোগে মামলা করে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)।

মামলার পরেই ২৫ জানুয়ারি লিয়াকত আলী খানসহ ৬ জন হাইকোর্টে আগাম জামিনের আবেদন করেন। হাইকোর্ট ৬ সপ্তাহের জন্য আগাম জামিন মঞ্জুর করেন। একইসঙ্গে জামিনের মেয়াদ শেষ হওয়ার পরই সিনিয়র বিশেষ জজ আদালতে আত্মসমর্পণের নির্দেশ দেন হাইকোর্ট।

দুদকের আইনজীবী মুহাম্মদ তরিকুল ইসলাম বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অনুযায়ী সোমবার আসামিদের আদালতে আত্মসমর্পণ করতে হবে।

দুদকের উপসহকারী পরিচালক আফিয়া খাতুন বাদী হয়ে এই মামলাটি দায়ের করেন।

মামলায় বলা হয়েছে, দুদকের অনুসন্ধানে জানা গেছে, রূপায়ণ হাউজিং রাজউকের কর্মকর্তাদের যোগসাজশে ক্ষমতার অপব্যবহার এবং জাল রেকর্ড ব্যবহারের মাধ্যমে বিপুল পরিমাণ ভূমি আত্মসাৎ করেছে।

মামলার এজাহার অনুযায়ী উল্লেখযোগ্য অনিয়মগুলোর মধ্যে রূপায়ণ হাউজিং রাজউকের ৫টি ধাপে মোট ৪১.৫৪৮ একর জমির ওপর বিশেষ প্রকল্পের অনুমোদন পেলেও তাদের বৈধ কাগজপত্র ছিল মাত্র ১৬.৩২ একরের। বাকি ২৫.২২৮ একর জমির কোনো বৈধ নথি তারা দেখাতে পারেনি।

সরকারি জমি দখল: মহানগর জরিপের ৪ নম্বর খতিয়ানভুক্ত ২.৩৫ একর ‘ভাওয়াল রাজ এস্টেট’-এর সম্পত্তি এবং রানাভোগ মৌজার খাস খতিয়ানভুক্ত সরকারি জমি প্রতিষ্ঠানটি নিজেদের দখলে নিয়েছে। এমনকি ড্যাপ নির্ধারিত ৬০ ফুট রাস্তাও তারা সীমানার ভেতরে ঢুকিয়ে নিয়েছে।

আদালতের আদেশ অমান্য: আদালতের স্থিতিবস্থা থাকা সত্ত্বেও তথ্য গোপন করে রাজউক থেকে নকশা অনুমোদন করিয়ে নির্মাণ কাজ চালিয়ে গেছে প্রতিষ্ঠানটি। অভিযোগকারীকে ১৯২ কোটি টাকা পরিশোধের আদালতের নির্দেশও তারা অমান্য করেছে।

মামলায়  লিয়াকত আলী খাঁন মুকুলের পরিবারের লোকজন ছাড়াও রাজউকের বিভিন্ন স্তরের অথরাইজড অফিসার, নগর পরিকল্পনাবিদ, প্রকৌশলী ও পরিদর্শকদের আসামি করা হয়েছে।

আসামিদের বিরুদ্ধে দণ্ডবিধির ৪০৯/৪২০/৪৬৭/৪৬৮/৪৭১/১০৯ ধারা এবং ১৯৪৭ সালের দুর্নীতি প্রতিরোধ আইনের ৫(২) ধারায় মামলা দায়ের করা হয়েছে।

 

আরও সংবাদ

সর্বশেষ সংবাদ