
সাতক্ষীরা সদর সাব-রেজিস্ট্রি অফিসে চাহিদা অনুযায়ী ঘুষ না দিলে কোনো দলিল সম্পাদন হয় না এমন অভিযোগ দীর্ঘদিনের। অফিসটিতে অনিয়ম ও দুর্নীতি চরম আকার ধারণ করায় প্রতিনিয়ত দলিল গ্রহীতারা হয়রানির শিকার হচ্ছেন। এবার এক দলিল গ্রহীতার কাছে দলিল রেজিস্ট্রি বাবদ ১০ লাখ টাকা ঘুষ দাবি করার অভিযোগে বিপাকে পড়েছেন সদর সাব-রেজিস্ট্রার অমায়িক বাবু। অভিযোগের প্রেক্ষিতে তার বিরুদ্ধে তদন্ত শুরু হয়েছে।
সাতক্ষীরার বিশিষ্ট ল্যান্ড ডেভেলপার প্রতিষ্ঠান স্টেডফাস্ট ল্যান্ডস এর স্বত্বাধিকারী এস এম জুলফিকার আলী জিন্নাহ অভিযোগ করেন, একটি দলিল রেজিস্ট্রি করতে সাব-রেজিস্ট্রার অমায়িক বাবু তার কাছে ১০ লাখ টাকা ঘুষ দাবি করেন।
অভিযোগের সূত্র ধরে জানা যায়, নিবন্ধন অধিদপ্তরের মহাপরিদর্শকের নির্দেশে গত ২৩ ডিসেম্বর সাতক্ষীরা সদর সাব-রেজিস্ট্রি অফিসে তদন্তে আসেন যশোর জেলা রেজিস্ট্রার আবু তালেব। এ সময় সাতক্ষীরা জেলা রেজিস্ট্রার মিসেস হাফিজা রুমা উপস্থিত ছিলেন।
এর আগে গত ২৩ নভেম্বর এস এম জুলফিকার আলী জিন্নাহ নিবন্ধন অধিদপ্তরের মহাপরিদর্শক বরাবর লিখিত অভিযোগ দাখিল করেন। অভিযোগটির স্মারক নম্বর ১০.০৫.৪১০০.১০১.৯৯.০০১.২৫-৯৬৪।
লিখিত অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, সাতক্ষীরা সদর উপজেলার লক্ষ্মীদাড়ি মৌজার বিআরএস ৫০৮ নম্বর খতিয়ানের ২১০৫ দাগে মোট ৩১ শতক জমির মধ্যে ১৮ শতক জমির মালিক খুলনা জেলার সোনাডাঙ্গা এলাকার বাসিন্দা, মৃত মোমেনা রশিদের ছেলে মোকছুদার রশিদ। তিনি বিরোধীয় অঞ্চলে বসবাস না করায় ওই সম্পত্তি দেখাশোনা ও হস্তান্তরের জন্য সাতক্ষীরা সদর থানার মধ্যকাটিয়া এলাকার বাসিন্দা ও স্টেডফাস্ট ল্যান্ডসের পরিচালক এস এম জুলফিকার আলী জিন্নাহর অনুকূলে একটি পাওয়ার অব অ্যাটর্নি দলিল রেজিস্ট্রি করার উদ্যোগ নেন।
গত ১৬ নভেম্বর উক্ত পাওয়ার অব অ্যাটর্নি দলিলটি রেজিস্ট্রির জন্য সাতক্ষীরা সদর সাব-রেজিস্ট্রি অফিসে উপস্থাপন করা হলে সাব-রেজিস্ট্রার অমায়িক বাবু দলিল সম্পাদনের জন্য ১০ লাখ টাকা ঘুষ দাবি করেন। দাবিকৃত ঘুষের টাকা না দেওয়ায় তিনি দলিল রেজিস্ট্রি না করে তা ফেরত দেন বলে অভিযোগ করা হয়।
এ বিষয়ে এস এম জুলফিকার আলী জিন্নাহ জানান, “আমি গত ১৬ নভেম্বর জমির মালিককে সঙ্গে নিয়ে দুপুরে সাব-রেজিস্ট্রার অমায়িক বাবুর চেম্বারে যাই। তিনি বিভিন্ন অজুহাতে দলিল সম্পাদন না করে পরে ১০ লাখ টাকা ঘুষ দাবি করেন। টাকা না দেওয়ায় তিনি দলিলটি ফিরিয়ে দেন। বাধ্য হয়ে আমি বিষয়টি নিবন্ধন অধিদপ্তরের মহাপরিদর্শক বরাবর লিখিতভাবে জানাই।”
তিনি আরও অভিযোগ করেন, “সাতক্ষীরা সদর সাব-রেজিস্ট্রি অফিস এখন দুর্নীতির আখড়ায় পরিণত হয়েছে। সাব-রেজিস্ট্রার অমায়িক বাবু, তার অফিস সহকারী, নৈশ প্রহরী ও কিছু অসাধু দলিল লেখকের যোগসাজশে দীর্ঘদিন ধরে ঘুষ বাণিজ্য ও নানা অনিয়ম চলছে। টাকা না দিলে কোনো বৈধ কাজ হয় না।”
তদন্ত কর্মকর্তা যশোর জেলা রেজিস্ট্রার আবু তালেব বলেন, “তদন্ত চলমান রয়েছে। অধিকতর তদন্তের জন্য কিছুটা সময় লাগবে। অভিযোগ প্রমাণিত হলে তার বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”
অভিযোগ প্রসঙ্গে সাব-রেজিস্ট্রার অমায়িক বাবু সাংবাদিকদের জানান, “আমার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ সত্য নয়।”
@dainiksatnadee

