শুক্রবার, জুলাই ৩, ২০২৬

অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগে চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে অনাস্থা প্রস্তাব

ছাতক উপজেলার ভাতগাঁও ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ও উপজেলা কৃষক লীগের আহ্বায়ক আওলাদ হোসেনের বিরুদ্ধে অনাস্থা প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। তাঁর বিরুদ্ধে দুর্নীতি, লুটপাট, ক্ষমতার অপব্যবহারসহ নানা অনিয়মের অভিযোগ রয়েছে।

ইউনিয়নের একাধিক সদস্যের স্বাক্ষরিত এক লিখিত অভিযোগে এসব তথ্য ওঠে আসে। রোববার স্থানীয় ১২ ইউপি সদস্য উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বরাবর দাখিল করা একটি লিখিত অভিযোগে চেয়ারম্যান আওলাদের বিরুদ্ধে অভিযোগের বিষয়গুলো তুলে ধরেন।

ওই অভিযোগে বলা হয়, বিগত ১৫ বছরে শূন্য থেকে কোটিপতি হয়েছেন ইউপি চেয়ারম্যান আওলাদ হোসেন। তিনি উপজেলার ভাতগাঁও গ্রামের মৃত আব্দুল মান্নানের ছেলে। একটি বেসরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ে সহকারী শিক্ষক থেকে তিনি ইউপি চেয়ারম্যান হয়েছেন। ডেভিল হান্টের এক অভিযানে তাঁকে গ্রেপ্তারের পর সম্প্রতি জামিনে বের হন ইউপি চেয়ারম্যান আওলাদ হোসেন।

২০০৯ সালে আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতায় আসার পর শিক্ষকতা পেশার পাশাপাশি তিনি স্থানীয় সাবেক সংসদ সদস্য মুহিবুর রহমান মানিকের হাত ধরে আওয়ামী লীগের রাজনীতিতে যোগদান করেন। ২০১১ সালের নির্বাচনে ভাতগাঁও ইউনিয়ন থেকে চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন আওলাদ হোসেন। ২০১৬ সাল থেকে উপজেলা কৃষক লীগের আহ্বায়কের দায়িত্ব পালন করে আসছেন ইউপি চেয়ারম্যান আওলাদ হোসেন। স্থানীয়দের অভিযোগ, আওলাদ হোসেন চেয়ারম্যান নির্বাচিত হয়ে কয়েক বছরের ব্যবধানে বিভিন্ন অনিয়মের মাধ্যমে শূন্য থেকে কোটিপতি হয়েছেন। অবৈধভাবে উপার্জিত টাকার সিংহভাগই লন্ডনে পাঠিয়ে দিয়েছেন বলে এলাকায় গুঞ্জন রয়েছে।

একটি সূত্র জানায়, গ্রামের বাড়ি ভাতগাঁও মৌজায় প্রায় ৩০ একর জমি কিনেছেন আওলাদ চেয়ারম্যান। সিলেট নগরীতে আলিশান বাসা রয়েছে। এ ছাড়া তাঁর এক ছেলেকে সম্প্রতি ৩৫ লাখ টাকার বিনিময়ে লন্ডনে পাঠিয়েছেন।

উপজেলার সাবেক পিআইও কেএম মাহবুর রহমান, সাবেক ইউপি সচিব জীতেন দাস ও তাঁর প্রধান সহযোগী যুবলীগ নেতা শিব্বির আহমদ ভুয়া বিল ওঠানোর অভিযোগে ইউপি চেয়ারম্যানসহ চারজনকে অভিযুক্ত করে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। এছাড়া তার বিরুদ্ধে অর্থ দুর্নীতির একাধিক অভিযোগ রয়েছে।

এ ছাড়াও ওই ইউপি চেয়ারম্যান স্বেচ্ছাচারিতার মাধ্যমে গত তিন বছরে সরকারি বিভিন্ন প্রকল্পের তথ্য গোপন করে পরিষদের সদস্যদের মধ্যে সঠিক বণ্টন না করে তাঁর নামে ২২ লাখ টাকার প্রকল্প হাতিয়ে নিয়েছেন। এ নিয়ে ১২ সদস্যের মধ্যে অসন্তোষ দেখা দেয়।

চেয়ারম্যান আওলাদ আলীর সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগ করে তাঁকে খুঁজে পাওয়া যায়নি। তিনি কোনো গণমাধ্যমকর্মীর ফোনও রিসিভ করছেন না। এ ব্যাপারে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা তরিকুল ইসলাম বলেন, ভাতগাঁও ইউপি চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে লিখিত একটি অনাস্থা প্রস্তাব পাওয়া গেছে। বিষয়টি তদন্তপূর্বক আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

@samakal

আরও সংবাদ

সর্বশেষ সংবাদ