বৃহস্পতিবার, জুলাই ২, ২০২৬

লাগেজ সি’ন্ডি’কেটের মাধ্যমে শুল্ক ফাঁ’কি’র অ’ভিযোগ, বেনাপোল কাস্টমসে কর্মকর্তাকে ঘিরে নতুন বিতর্ক

দেশের বৃহত্তম স্থলবন্দর বেনাপোল আন্তর্জাতিক ইমিগ্রেশন ও কাস্টমস চেকপোস্টে শুল্ক ফাঁকি ও অবৈধভাবে লাগেজপণ্য ছাড়ের অভিযোগ উঠেছে সহকারী রাজস্ব কর্মকর্তা নাসিব আরেফিনের বিরুদ্ধে। অভিযোগ রয়েছে, চোরাকারবারী হিসেবে পরিচিত জুনাব আলীর সঙ্গে যোগসাজশ করে মোটা অঙ্কের অর্থের বিনিময়ে শুল্কযোগ্য পণ্যবাহী যাত্রীদের কাস্টমস পার হওয়ার সুযোগ করে দেওয়া হচ্ছে।

সংশ্লিষ্ট সূত্র ও অনুসন্ধানে জানা গেছে, গত ২৭ জুন বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে জুনাব আলীর মাধ্যমে পাঁচজন লাগেজ বহনকারী যাত্রীকে কাস্টমসের ‘গ্রিন চ্যানেল’ ব্যবহার করে ছাড় দেওয়া হয়। অভিযোগ অনুযায়ী, প্রতিজনের কাছ থেকে ১০ হাজার টাকা করে মোট ৫০ হাজার টাকার বিনিময়ে এসব যাত্রীকে কোনো জটিলতা ছাড়াই ইমিগ্রেশন ও কাস্টমস অতিক্রম করতে দেওয়া হয়। অভিযোগকারীদের দাবি, কাস্টমস চেকপোস্টের সিসিটিভি ফুটেজ পর্যালোচনা করলে ঘটনার সত্যতা যাচাই করা সম্ভব হবে।

অনুসন্ধানে আরও জানা গেছে, স্থানীয় একটি সিন্ডিকেটের সঙ্গে সমন্বয় করে ভারত থেকে আগত পাসপোর্টধারী যাত্রীদের মাধ্যমে ট্রলিভর্তি শাড়ি, থ্রি-পিস, প্রসাধনীসহ বিভিন্ন শুল্কযোগ্য পণ্য নিয়মিতভাবে দেশে প্রবেশ করানো হচ্ছে। অভিযোগ রয়েছে, নির্ধারিত শুল্ক পরিশোধ না করেই এসব পণ্য কাস্টমস পার হওয়ার সুযোগ পাচ্ছে। ফলে একদিকে সরকার রাজস্ব হারাচ্ছে, অন্যদিকে বৈধ আমদানিকারকরা প্রতিযোগিতায় পিছিয়ে পড়ছেন।

স্থানীয়দের অভিযোগ, সাধারণ যাত্রীদের লাগেজে কঠোর তল্লাশি চালানো হলেও সিন্ডিকেটের মাধ্যমে আসা পণ্যবাহী যাত্রীরা নির্বিঘ্নে কাস্টমস অতিক্রম করছেন। এতে প্রকৃত যাত্রীরা হয়রানির শিকার হচ্ছেন এবং কাস্টমস ব্যবস্থার স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন তৈরি হয়েছে।

ইমিগ্রেশন সংশ্লিষ্ট সূত্রের দাবি, বাংলাদেশি ও ভারতীয় শতাধিক ব্যবসায়িক ভিসাধারী ব্যক্তি এই লাগেজ সিন্ডিকেটের সঙ্গে জড়িত। তাদের অনেকেই এক থেকে দুই দিন পরপর সীমান্ত পারাপার করেন। অভিযোগ রয়েছে, এসব যাত্রীর মাধ্যমে নিয়মিত শুল্কযোগ্য পণ্য দেশে প্রবেশ করানো হচ্ছে। সংশ্লিষ্টদের মতে, ইমিগ্রেশন ও কাস্টমসের আগমন ও বহির্গমন সংক্রান্ত তথ্য এবং পাসপোর্টের ভ্রমণ ইতিহাস পর্যালোচনা করলে বিষয়টি যাচাই করা সম্ভব।

স্থানীয় আমদানিকারক জসিম অভিযোগ করেন, এ ধরনের অনিয়মের কারণে সরকার বিপুল পরিমাণ রাজস্ব হারাচ্ছে। তিনি অবৈধ কর্মকাণ্ড বন্ধে অভিযুক্ত সহকারী রাজস্ব কর্মকর্তা নাসিব আরেফিনের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ এবং বেনাপোল চেকপোস্টে নজরদারি জোরদারের দাবি জানান।

অভিযোগের বিষয়ে বক্তব্য জানতে সহকারী রাজস্ব কর্মকর্তা নাসিব আরেফিনের মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার সঙ্গে কথা বলা সম্ভব হয়নি।

এ বিষয়ে বেনাপোল কাস্টমস হাউসের যুগ্ম কমিশনার সাইদ আহম্মেদ রুবেল বলেন, তিনি বর্তমানে ছুটিতে রয়েছেন। আগামীকাল দায়িত্বে যোগ দিয়ে বিষয়টি খতিয়ে দেখবেন। অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তার বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও তিনি জানান।

প্রতিবেদনে উল্লিখিত অভিযোগগুলো সংশ্লিষ্ট সূত্র, স্থানীয় ব্যবসায়ী এবং অনুসন্ধানে প্রাপ্ত তথ্যের ভিত্তিতে উপস্থাপন করা হয়েছে। অভিযোগের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের আনুষ্ঠানিক তদন্ত বা সিদ্ধান্ত হলে সেটিও যথাযথ গুরুত্বসহকারে প্রকাশ করা হবে।

আরও সংবাদ

সর্বশেষ সংবাদ