
অভিযোগ রয়েছে, প্রকৃত প্রান্তিক কৃষকদের বাদ দিয়ে রাজনৈতিক প্রভাবশালী ও পছন্দের কৃষকদের মাঝে বীজ ও সার বিতরণ করা হয়েছে। তৈরি করা হয়েছে ভুয়া বিল-ভাউচার, গোপন রাখা হয়েছে কৃষকদের তালিকা, আর নথিপত্রে রয়েছে অসংখ্য ত্রুটি।
উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা গেছে, ২০২৪-২৫ অর্থবছরে রবি ও খরিপ মৌসুমে ক্ষুদ্র ও প্রান্তিক কৃষকদের সহায়তার জন্য তেঁতুলিয়া উপজেলায় প্রায় দেড় কোটি টাকা প্রণোদনার বরাদ্দ দেয়া হয়। এই বরাদ্দে ধান, গম, ভুট্টা, সরিষা, ডাল, পেঁয়াজসহ নানা ফসলের বীজ ও সার বিতরণ করার কথা।
তবে অভিযোগ উঠেছে, এই প্রণোদনার বীজ ও সার প্রকৃত কৃষকদের মাঝে বিতরণ না করে নিজেদের পছন্দের ও ধনী কৃষকদের মধ্যে বিতরণ করা হয়েছে। নাম না প্রকাশের শর্তে একাধিক কৃষক জানান, তালিকায় তাদের নাম থাকলেও তারা কিছুই পাননি।
দেবনগড় ইউনিয়নের কৃষক হাচেন আলী বলেন, ‘তালিকায় আমার নাম আছে আপনাদের মাধ্যমে জানলাম, কিন্তু এখনো কিছুই পাইনি।’ বুড়াবুড়ি ইউনিয়নের কৃষক সামিরুল হক বলেন, ‘তালিকায় আমার নাম থাকার পরও আমি ধান পাইনি।’
অনুসন্ধানে জানা যায়, ২০২৪ সালের নভেম্বরে কৃষি প্রণোদনার উপকরণ কেনা সম্পন্ন হয়। কিন্তু সেই সময়ের উপজেলা কৃষি পুনর্বাসন বাস্তবায়ন কমিটির সভাপতি ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) স্বাক্ষর ছাড়াই বিল প্রস্তুত করা হয়।
এছাড়া, সরকারি নির্দেশনা অনুযায়ী ২০ শতাংশ বীজ স্থানীয় কৃষকের নিকট থেকে সংগ্রহ করার কথা থাকলেও তা অমান্য করে স্থানীয় বীজ বিক্রয়কারী প্রতিষ্ঠানের কাছ থেকেই বীজ সংগ্রহ করা হয়েছে। অথচ কৃষকদের কাছ থেকে সরাসরি গম বীজ কেনা হলেও তাদের অর্থ পরিশোধের কোনো রসিদ নেই। এমনকি বিএডিসি থেকে গম বীজ কেনার ক্ষেত্রে কোনো বৈধ চালান বা অর্থ পরিশোধের প্রমাণও দেখাতে পারেনি কৃষি বিভাগ।
দরপত্র প্রক্রিয়ায়ও রয়েছে অনিয়মের অভিযোগ। উপজেলা কৃষি অফিস দরপত্র কমিটি গঠনের আগে থেকেই ক্রয় প্রক্রিয়া শুরু করে। তিন সদস্যবিশিষ্ট কমিটির সদস্য করা হয় কৃষি সম্প্রসারণ কর্মকর্তা, উদ্ভিদ সংরক্ষণ কর্মকর্তা এবং উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা মাহবুবুর রহমানকে।
তবে অভিযোগ, দরপত্রের কাগজপত্রে মাহবুবুর রহমানের কোনো স্বাক্ষর নেই। তিনি বলেন, ‘নিয়ম যদি ঠিক না থাকে আমি ওখানে নাই। কিছু প্রসেসে ভুল ছিল। কাগজপত্র ঠিক করার কথা বলেছি।’
প্রণোদনার বিতরণ কার্যক্রম প্রায় শেষ হলেও এখন পর্যন্ত কৃষকদের তালিকা প্রকাশ করা হয়নি। উপজেলা কৃষি অফিস আংশিক তথ্য ওয়েবসাইটে দিলেও অনেক তালিকায় উপজেলা কৃষি পুনর্বাসন বাস্তবায়ন কমিটির সভাপতির স্বাক্ষর নেই। স্থানীয় গণমাধ্যমকর্মীরা একাধিকবার মৌখিকভাবে ও তথ্য অধিকার আইনে আবেদন করেও কোনো তথ্য পাননি।
তেঁতুলিয়া উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা তামান্না ফেরদৌস বলেন, ‘বিএডিসির ভাউচার, সরকারি ভাউচার। যদি এত ছোট ভাউচারে বড় অঙ্কের অ্যামাউন্ট বোঝা না যায়, সেটা তো সমস্যা না। আমরা নিয়মের মধ্যে কাজ করেছি। দুর্নীতি-অনিয়মের অভিযোগ যেভাবে বলা হচ্ছে, তা সত্য নয়।’
তবে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আফরোজ শাহীন খসরু বলেন, ‘২০২৪-২৫ অর্থবছরের বরাদ্দ ব্যয়ের নথিপত্র পর্যালোচনায় দেখা গেছে, কৃষি বিভাগের জমা দেয়া বিল-ভাউচারে নানা ত্রুটি রয়েছে। বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে।’
@channel24bd

