
নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকা:
ঢাকা জেলার দোহার উপজেলার একটি গ্রামের ১৩ বছরের এক কিশোরীকে ধর্ষণের দায়ে একজনকে যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। আজ মঙ্গলবার ঢাকার শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক ( জেলা ও দায়রা জজ) মো. জান্নাতুল ফেরদৌস ইবনে হক এই রায় ঘোষণা করেন।
দণ্ডপ্রাপ্ত ব্যক্তি হলেন ইকবাল শেখ। তিনি ঢাকার দোহার উপজেলার ডাইয়া গজারিয়া গ্রামের নুরুল হকের ছেলে।
ট্রাইব্যুনাল ইকবাল হোসেনকে দুই লাখ টাকা জরিমানা করেছেন। জরিমানার টাকা দিতে ব্যর্থ হলে তাকে আরো চার মাস কারাভোগ করতে হবে বলে রায় বলা হয়েছে। জরিমানার টাকা আদায় হলে ওই টাকা ভিকটিম পাবে বলে রায় বলা হয়েছে। ট্রাইব্যুনালের বেঞ্চ সহকারী মো. মেহদী-আল-শামীম রায়ের বিষয়টি নিশ্চিত করেন।
ট্রাইব্যুনাল রায়ে উল্লেখ করেছেন, আসামির বিরুদ্ধে সাক্ষীগন সাক্ষ্য দিয়ে ধর্ষণের অভিযোগ সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণ করেছেন। এ কারণে আসামিকে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন, ২০০০ এর ৯(১) ধারায় দোষী সাব্যস্ত করে যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদন্ডে দণ্ডিত করা হলো।
আসামি পলাতক থাকায় তার বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারির নির্দেশ দিয়ে ট্রাইব্যুনাল রায় উল্লেখ করেছেন আসামি গ্রেপ্তার হওয়ার পর অথবা দেশের কোনো আদালত বা ট্রাইব্যুনালে আত্মসমর্পণের পর এই রায় কার্যকর হবে।
মামলার এজাহার থেকে জানা যায়, ভিকটিম কিশোরীর মা একটি বাড়িতে গৃহকর্মীর কাজ করতেন। ২০১৬ সালের ৫ আগস্ট দুপুর ২ ঘটিকার সময় ভিকটিমের মা রান্না করছিলেন। ভিকটিম ওই বাড়ির একটি ঘরে অন্য কাজ করছিল। আসামি ইকবাল (৪৮) ওই ঘরে ঢুকে তেরো বছরের কিশোরীকে মুখ চেপে ধরে জোরপূর্বক ধর্ষণ করেন।
এ ঘটনায় পরদিন ৬ই আগস্ট দোহার থানায় ভিকটিমের মা মামলা দায়ের করেন। মামলাটি তদন্ত শেষে দোহার থানার এসআই মো. আব্দুল গনি ২০১৬ সালের ২৯ সেপ্টেম্বর অভিযোগপত্র দাখিল করেন।
বিচার চলাকালে মামলার এজাহারকারী, চিকিৎসক ও তদন্ত কর্মকর্তাসহ ছয় জন সাক্ষী মামলায় সাক্ষ্য দিয়েছেন।

