মঙ্গলবার, জুন ১৬, ২০২৬

ঘু’ষ, অ’নিয়ম ও সম্পদ বিতর্কে আলোচনায় রাজস্ব কর্মকর্তা হাফেজ উদ্দিন

কাস্টমস, এক্সাইজ ও ভ্যাট বিভাগের সহকারী রাজস্ব কর্মকর্তা হাফেজ উদ্দিন মন্ডলের বিরুদ্ধে ঘুষ গ্রহণ, ক্ষমতার অপব্যবহার, রাজস্ব ফাঁকিতে সহযোগিতা এবং জ্ঞাত আয়ের সঙ্গে অসামঞ্জস্যপূর্ণ সম্পদ অর্জনের অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগকারীদের দাবি, দীর্ঘদিন ধরে তিনি সরকারি দায়িত্ব পালনের আড়ালে একটি প্রভাবশালী নেটওয়ার্ক গড়ে তুলে বিভিন্ন অনিয়মের মাধ্যমে বিপুল সম্পদের মালিক হয়েছেন।

সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানায়, হাফেজ উদ্দিন মন্ডল ও তার পরিবারের সদস্যদের নামে দেশের বিভিন্ন এলাকায় জমি, বাড়ি ও অন্যান্য সম্পদ রয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, স্ত্রী-সন্তানদের নামে এবং বেনামি মালিকানায় অর্জিত এসব সম্পদের প্রকৃত উৎস নিয়ে নানা প্রশ্ন রয়েছে। রাজশাহী, জয়পুরহাট, খুলনা ও যশোরসহ বিভিন্ন এলাকায় তার সম্পদ থাকার অভিযোগও উঠেছে।

অভিযোগকারীদের দাবি, সরকারি চাকরির বেতনের সঙ্গে সামঞ্জস্যহীন জীবনযাপন, ঘন ঘন বিদেশ সফর এবং বিপুল ব্যয়ের উৎস নিয়েও প্রশ্ন রয়েছে। তাদের ভাষ্য অনুযায়ী, এসব ব্যয়ের পেছনে ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে নেওয়া অবৈধ সুবিধা ও ঘুষের অর্থ ব্যবহৃত হয়ে থাকতে পারে।

ঢাকা কাস্টমস হাউসের কয়েকজন ব্যবসায়ী, যারা নাম প্রকাশ না করার শর্তে কথা বলেছেন, অভিযোগ করেন যে পণ্য খালাস, শুল্ক মূল্যায়ন এবং বিভিন্ন প্রশাসনিক প্রক্রিয়ায় অনৈতিক সুবিধা আদায়ের অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। তাদের দাবি, নির্দিষ্ট কিছু ক্ষেত্রে ঘুষ বা অবৈধ সুবিধা না দিলে পণ্যের ছাড়পত্র বিলম্বিত করা, অতিরিক্ত জটিলতা সৃষ্টি করা কিংবা তদন্তের ভয় দেখিয়ে চাপ প্রয়োগের ঘটনা ঘটেছে।

এছাড়া অভিযোগ রয়েছে, একটি দালালচক্রের মাধ্যমে তিনি কিছু ব্যবসায়ীকে বিশেষ সুবিধা দিয়ে অন্যদের বঞ্চিত করেন এবং পণ্যের শুল্ক মূল্যায়নে অনিয়মের সুযোগ সৃষ্টি করেন। এর মাধ্যমে সরকার রাজস্ব হারানোর ঝুঁকিতে পড়ে বলে অভিযোগকারীদের দাবি।

সূত্রগুলোর আরও অভিযোগ, কিছু ব্যবসায়ীকে কর ও শুল্কসংক্রান্ত বিধি এড়িয়ে চলার বিভিন্ন উপায় বাতলে দেওয়ার বিনিময়ে নিয়মিত আর্থিক সুবিধা গ্রহণ করা হতো। যদিও এসব অভিযোগের বিষয়ে এখন পর্যন্ত কোনো আনুষ্ঠানিক তদন্ত প্রতিবেদন প্রকাশ হয়নি।

অভিযোগকারীরা আরও দাবি করেছেন, তার নামে-বেনামে ব্যাংক হিসাব, জমি নিবন্ধন, ফ্ল্যাট বুকিং এবং অন্যান্য আর্থিক লেনদেনের তথ্য বিভিন্ন সংস্থার নজরে এসেছে। তবে এসব তথ্যের স্বাধীন যাচাই এখনো সম্ভব হয়নি।

সংশ্লিষ্ট মহলের মতে, অভিযোগগুলো সত্য হলে তা শুধু একজন কর্মকর্তার ব্যক্তিগত অনিয়মের বিষয় নয়; বরং রাজস্ব প্রশাসনের স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা এবং সুশাসনের জন্যও বড় ধরনের উদ্বেগের কারণ হতে পারে।

এ বিষয়ে বক্তব্য জানতে সহকারী রাজস্ব কর্মকর্তা হাফেজ উদ্দিন মন্ডলের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি। ফলে অভিযোগগুলোর বিষয়ে তার বক্তব্য জানা সম্ভব হয়নি।

সংশ্লিষ্ট মহল মনে করছে, উত্থাপিত অভিযোগগুলোর নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত তথ্য উদঘাটন করা জরুরি। একই সঙ্গে সম্পদের উৎস, আর্থিক লেনদেন এবং দায়িত্ব পালনের সময় সংঘটিত অভিযোগগুলো খতিয়ে দেখার দাবি জানিয়েছেন তারা।

আরও সংবাদ

সর্বশেষ সংবাদ