
কুমিল্লা সদর ও সদর দক্ষিণ উপজেলার বালুতোপা, কনেশতলা, সুয়াগাজী, বিজয়পুর ও আদিনামূড়া এলাকায় চলমান জেড-১০২৪ নম্বর আঞ্চলিক সড়কের পুনর্নির্মাণকাজ শুরুর পর থেকেই নানা অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। সড়কের অনুমোদিত প্রস্থ নিশ্চিত না করা, নিম্নমানের নির্মাণসামগ্রী ব্যবহার, যথাযথ রোলার কম্পেকশন না করা এবং পুরো সড়ক একযোগে খনন করায় স্থানীয়দের মধ্যে ব্যাপক ক্ষোভ ও উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। একই সঙ্গে চরম জনদুর্ভোগেরও সৃষ্টি হয়েছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, প্রকল্পের নকশা অনুযায়ী সড়কটির প্রস্থ ১৮ ফুট হওয়ার কথা। তবে বাস্তবে রাস্তার উভয় পাশ থেকে পর্যাপ্ত পরিমাণ মাটি অপসারণ না করে কার্যকর প্রস্থ কমিয়ে ফেলার অভিযোগ উঠেছে। এতে অনুমোদিত নকশা ও বাস্তবায়িত কাজের মধ্যে অসঙ্গতি তৈরি হয়েছে বলে দাবি স্থানীয় সচেতন মহলের।
সরেজমিনে দেখা যায়, সড়কের দুই পাশে গভীরভাবে মাটি কেটে রাখা হয়েছে। অনেক স্থানে চলাচলের উপযোগী অংশ নির্ধারিত প্রস্থের তুলনায় কম বলে স্থানীয়দের ধারণা। তাদের আশঙ্কা, এভাবে নির্মাণকাজ সম্পন্ন হলে ভবিষ্যতে সড়কের স্থায়িত্ব, যানবাহন চলাচলের নিরাপত্তা এবং পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থা মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে।
স্থানীয় বাসিন্দাদের দাবি, সরকার যদি ১৮ ফুট প্রশস্ত সড়ক নির্মাণের অনুমোদন দিয়ে থাকে, তাহলে সেই প্রস্থ যথাযথভাবে নিশ্চিত করেই কাজ সম্পন্ন করতে হবে। অন্যথায় জনগণ কাঙ্ক্ষিত সুবিধা থেকে বঞ্চিত হবে এবং সরকারি অর্থেরও অপচয় ঘটবে।
নির্মাণকাজে আরও বেশ কয়েকটি অনিয়মের অভিযোগ পাওয়া গেছে। স্থানীয়দের ভাষ্য, সাব-বেজ প্রস্তুতের সময় প্রয়োজনীয় পরিমাণ খোয়া ব্যবহার না করে অতিরিক্ত মাটিযুক্ত বালু ব্যবহার করা হচ্ছে। পাশাপাশি মাটি ও বালুর স্তর যথাযথভাবে রোলার কম্পেকশন করা হচ্ছে না। ফলে নির্মাণকাজের গুণগত মান নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।
সবচেয়ে বেশি ভোগান্তিতে পড়েছেন পথচারী, শিক্ষার্থী এবং যানবাহন চালকরা। অভিযোগ রয়েছে, ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান গত প্রায় ছয় মাস ধরে পুরো সড়ক একযোগে খনন করে রেখেছে। অথচ প্রচলিত নিয়ম অনুযায়ী এক পাশের কাজ শেষ করে অন্য পাশে কাজ করার কথা। কিন্তু রাস্তার উভয় পাশ একসঙ্গে খনন করায় বিকল্প চলাচলের সুযোগ প্রায় নেই বললেই চলে।
স্থানীয়রা আরও অভিযোগ করেন, সড়কের বিভিন্ন অংশে খননকাজ চললেও কোথাও পর্যাপ্ত সতর্কতামূলক সাইনবোর্ড, নির্দেশনা কিংবা নিরাপত্তা ব্যারিকেড স্থাপন করা হয়নি। ফলে দিন-রাত দুর্ঘটনার ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করতে হচ্ছে পথচারী ও যানবাহন চালকদের।
এ পরিস্থিতিতে এলাকাবাসী সংশ্লিষ্ট সড়ক বিভাগ ও প্রকৌশলীদের দ্রুত ঘটনাস্থল পরিদর্শনের দাবি জানিয়েছেন। তাদের মতে, প্রকল্পের নকশা, অনুমোদিত প্রস্থ এবং মাঠপর্যায়ের বাস্তব কাজ যাচাই করে সড়কের ১৮ ফুট প্রস্থ নিশ্চিত করতে হবে। পাশাপাশি নির্মাণকাজে কোনো ধরনের অনিয়ম পাওয়া গেলে দায়ীদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে।
স্থানীয়দের উত্থাপিত দাবির মধ্যে রয়েছে—
- সড়কের প্রকৃত অনুমোদিত প্রস্থ জনসম্মুখে প্রকাশ করা।
- নির্মাণকাজ নকশা অনুযায়ী হচ্ছে কি না তা স্বাধীনভাবে যাচাই করা।
- পুনরায় পরিমাপ করে ১৮ ফুট প্রস্থ নিশ্চিত করা।
- সাব-বেজ ও অন্যান্য নির্মাণসামগ্রীর গুণগত মান পরীক্ষা করা।
- সঠিক রোলার কম্পেকশন নিশ্চিত করা।
- জনদুর্ভোগ কমাতে এক পাশ খোলা রেখে পর্যায়ক্রমে কাজ পরিচালনা করা।
- প্রয়োজনীয় সতর্কতামূলক সাইনবোর্ড ও নিরাপত্তা ব্যবস্থা স্থাপন করা।
- কাজের অগ্রগতি ও মান সম্পর্কে স্থানীয় জনগণকে নিয়মিত অবহিত করা।
এ বিষয়ে কুমিল্লা সড়ক বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী খন্দকার গোলাম মোস্তফার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, নির্মাণকাজে কোনো অনিয়মের প্রমাণ বা আলামত পাওয়া গেলে দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করে সমস্যার সমাধান করা হবে।
স্থানীয় জনগণ দ্রুত সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন। একই সঙ্গে তারা সড়ক নির্মাণকাজে স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা এবং গুণগত মান নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন। অভিযোগগুলোর বিষয়ে অনুসন্ধান অব্যাহত রয়েছে। স্থানীয়দের দাবি, ভবিষ্যতে আরও কিছু অনিয়মের তথ্য সামনে আসতে পারে।

