সোমবার, জুন ৮, ২০২৬

ডেপুটি রেঞ্জার খান জুলফিকার আলীর বি’রুদ্ধে দু’র্নী’তি ও ক্ষমতার অ’পব্যবহারের অ’ভিযোগ

বন অধিদপ্তরের ডেপুটি রেঞ্জার খান জুলফিকার আলীর বিরুদ্ধে দীর্ঘদিন ধরে নানা অনিয়ম, দুর্নীতি, ক্ষমতার অপব্যবহার এবং প্রভাব খাটিয়ে সুবিধা নেওয়ার অভিযোগ রয়েছে বলে দাবি করেছেন সংশ্লিষ্ট একটি মহল। সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও বিভিন্ন সূত্রে তার বিরুদ্ধে উত্থাপিত অভিযোগগুলো নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে।

অভিযোগকারীদের দাবি, চাকরি জীবনের শুরু থেকেই বিভিন্ন কর্মস্থলে দায়িত্ব পালনকালে তিনি অবৈধ আর্থিক সুবিধা গ্রহণ, রাজনৈতিক প্রভাব ব্যবহার করে পছন্দের পদায়ন ও বদলি নিশ্চিত করা এবং বনজ সম্পদ পাচারকারীদের সহযোগিতা করার মাধ্যমে বিপুল পরিমাণ অর্থ অর্জন করেছেন।

সূত্রগুলোর অভিযোগ অনুযায়ী, রাঙামাটি অঞ্চলে কর্মরত অবস্থায় তিনি বিভিন্ন অনিয়মের মাধ্যমে আর্থিক সুবিধা গ্রহণ করেন। পরবর্তীতে রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে চট্টগ্রাম উত্তর বন বিভাগে বদলি নেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। এছাড়া ধুমঘাট চেক স্টেশনে পদায়ন এবং সেখানে দীর্ঘ সময় অবস্থান করে অবৈধ বনজ দ্রব্য পাচারে সহযোগিতার মাধ্যমে অর্থ হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগও উঠেছে।

অভিযোগে আরও বলা হয়েছে, করেরহাট রেঞ্জের হেয়াকো বিট এলাকায় গাছ বিক্রি, পাহাড় কাটা ও ভূমি দখলে সহায়তার মাধ্যমে অবৈধ সুবিধা গ্রহণ করা হয়। একই সঙ্গে উপকূলীয় বন বিভাগের উড়িরচর ও মহেশখালী রেঞ্জে দায়িত্ব পালনকালে বিভিন্ন প্রকল্প, বিশেষ করে সুফল প্রকল্পের অর্থ আত্মসাতের অভিযোগও রয়েছে।

সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলোর দাবি, বিভিন্ন সময়ে ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের ঘুষ দিয়ে বদলি ও পদায়ন নিশ্চিত করেছেন খান জুলফিকার আলী। অভিযোগ রয়েছে, লামা বন বিভাগে বদলি এবং পরবর্তীতে তৈন রেঞ্জে দায়িত্ব গ্রহণের ক্ষেত্রেও তিনি অনৈতিক প্রভাব ব্যবহার করেন।

তৈন রেঞ্জে দায়িত্ব পালনকালে কাঠচোরদের সঙ্গে যোগসাজশ, পাহাড় কেটে রাস্তা নির্মাণ এবং বিপুলসংখ্যক গাছ বিক্রির অভিযোগে তার বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছিল বলে দাবি করা হয়েছে। অভিযোগকারীদের ভাষ্য, ওই ঘটনার পর তাকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয় এবং বিভাগীয় মামলাও দায়ের করা হয়েছিল।

এছাড়া বিভাগীয় মামলায় দণ্ডপ্রাপ্ত হওয়া সত্ত্বেও প্রভাব ও অর্থের বিনিময়ে শাস্তি মওকুফ করিয়ে তিনি ডেপুটি রেঞ্জার পদে পদোন্নতি পেয়েছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। এ বিষয়ে পুনঃতদন্তের দাবি জানিয়েছেন অভিযোগকারীরা।

তাদের আরও অভিযোগ, বন অধিদপ্তরের পদোন্নতি প্রক্রিয়ায় বিভিন্ন সময়ে তিনি বাধা সৃষ্টি করেছেন এবং নিজের স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিষয়ে প্রশাসনিক ও রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়েছেন। বিভাগীয় মামলা নিষ্পত্তি এবং পদোন্নতি নিশ্চিত করতে তদন্ত কার্যক্রমেও প্রভাব বিস্তারের চেষ্টা করা হয়েছিল বলে দাবি করা হয়েছে।

অভিযোগকারীদের মতে, খান জুলফিকার আলীর বিরুদ্ধে উত্থাপিত অভিযোগগুলো নিরপেক্ষভাবে তদন্ত করা প্রয়োজন। একই সঙ্গে তার পদোন্নতি, বদলি, বিভাগীয় মামলা এবং সম্পদের উৎস খতিয়ে দেখার দাবি জানিয়েছেন তারা।

তবে উল্লিখিত অভিযোগগুলোর বিষয়ে ডেপুটি রেঞ্জার খান জুলফিকার আলীর বক্তব্য পাওয়া যায়নি। তার বক্তব্য পাওয়া গেলে তা পরবর্তীতে প্রকাশ করা হবে।

আরও সংবাদ

সর্বশেষ সংবাদ