সোমবার, জুন ৮, ২০২৬

রূপালী ব্যাংকের এমডির অপসারণ দাবি, অর্থমন্ত্রীর কাছে স্মারকলিপি

রাষ্ট্রায়ত্ত রূপালী ব্যাংক পিএলসির ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) কাজী ওয়াহিদুল ইসলামের অপসারণ দাবিতে অর্থমন্ত্রীর কাছে স্মারকলিপি দিয়েছে রূপালী ব্যাংক পিএলসি জিয়া পরিষদ। গত ৪ জুন সংগঠনের পক্ষ থেকে এ স্মারকলিপি জমা দেওয়া হয় বলে জানা গেছে।

স্মারকলিপিতে অভিযোগ করা হয়, জুলাই হত্যা মামলার অন্যতম আসামি এবং বঙ্গবন্ধু প্রকৌশল পরিষদের সিনিয়র সহ-সভাপতি কাজী ওয়াহিদুল ইসলাম এখনো ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালকের দায়িত্বে বহাল রয়েছেন। অভিযোগকারীদের দাবি, তার নেতৃত্বে ব্যাংকের প্রশাসনিক কর্মকাণ্ডে রাজনৈতিক পক্ষপাত, স্বজনপ্রীতি, অনিয়ম এবং বৈষম্যমূলক আচরণের ঘটনা ঘটছে।

স্মারকলিপিতে আরও উল্লেখ করা হয়, বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন দমনে আওয়ামী লীগ ও এর বিভিন্ন সহযোগী সংগঠনকে আর্থিক সহায়তা দেওয়ার অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এছাড়া দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকে বিএনপিপন্থী ও ফ্যাসিবাদবিরোধী কর্মকর্তাদের বদলি, পদোন্নতি বঞ্চনা এবং বিভিন্ন ধরনের হয়রানির শিকার হতে হয়েছে বলেও অভিযোগ করা হয়।

অভিযোগকারীরা দাবি করেন, ব্যাংকটি বর্তমানে উল্লেখযোগ্য আর্থিক ক্ষতির মুখে রয়েছে, যার জন্য তারা ব্যবস্থাপনা পরিচালকের নীতি ও সিদ্ধান্তকে দায়ী করেছেন। পাশাপাশি ঋণ অনুমোদন, পদায়ন, পদোন্নতি, মানবসম্পদ ব্যবস্থাপনা এবং বিভিন্ন প্রশাসনিক কর্মকাণ্ডে অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগও স্মারকলিপিতে তুলে ধরা হয়েছে।

স্মারকলিপিতে আরও বলা হয়, ব্যাংকের বিভিন্ন বিভাগে রাজনৈতিক পরিচয়ের ভিত্তিতে গুরুত্বপূর্ণ পদে নিয়োগ ও পদায়ন দেওয়া হয়েছে। এ ছাড়া বদলি ও পদোন্নতি প্রক্রিয়ায় অনিয়মের মাধ্যমে আর্থিক সুবিধা নেওয়ার অভিযোগও আনা হয়েছে সংশ্লিষ্ট কয়েকজন কর্মকর্তার বিরুদ্ধে।

জিয়া পরিষদের নেতারা দাবি করেন, ব্যাংকের প্রশাসনিক কাঠামো পুনর্গঠন, অভিযোগগুলোর নিরপেক্ষ তদন্ত এবং দায়ীদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ জরুরি। একই সঙ্গে তারা কাজী ওয়াহিদুল ইসলামকে ব্যবস্থাপনা পরিচালকের পদ থেকে অপসারণে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।

তবে স্মারকলিপিতে উত্থাপিত অভিযোগগুলোর বিষয়ে কাজী ওয়াহিদুল ইসলাম বা অভিযুক্ত অন্য কর্মকর্তাদের কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি। এছাড়া উল্লিখিত অভিযোগগুলোর বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের আনুষ্ঠানিক তদন্ত বা চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের তথ্যও তাৎক্ষণিকভাবে জানা যায়নি।

ব্যাংকটির বিভিন্ন কর্মকর্তা-কর্মচারীর মধ্যে বিষয়টি নিয়ে আলোচনা চলছে এবং অভিযোগগুলোর নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।

আরও সংবাদ

সর্বশেষ সংবাদ