খুলনায় ব্যাংক জালিয়াতির একটি বহুল আলোচিত মামলায় অগ্রণী ব্যাংকের এক কর্মকর্তাকে ১০ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একইসঙ্গে তাকে ৩৬ লাখ ৭৯ হাজার ৩৫০ টাকা জরিমানা করা হয়েছে; অনাদায়ে আরও তিন মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড ভোগ করতে হবে। তবে মামলার অপর আসামি ব্যাংকের সাবেক ব্যবস্থাপককে অভিযোগ থেকে খালাস দেওয়া হয়েছে।
বৃহস্পতিবার খুলনার বিভাগীয় স্পেশাল জজ আদালতের বিচারক মো. আশরাফুল ইসলাম এ রায় ঘোষণা করেন। দণ্ডপ্রাপ্ত আসামি হলেন অগ্রণী ব্যাংকের বাগেরহাট জেলার মোরেলগঞ্জ শাখার ক্যাশ অফিসার সৈয়দ শিওন সাইফ। রায় ঘোষণার সময় তিনি পলাতক ছিলেন। অপরদিকে, একই মামলার আসামি সাবেক ব্যবস্থাপক মিসেস সাফিয়া বেগমকে অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়ায় খালাস দেন আদালত।
আদালত সূত্র জানায়, আসামিরা পরস্পর যোগসাজশে জালিয়াতি, কারচুপি ও প্রতারণার মাধ্যমে ব্যাংকের অর্থ আত্মসাৎ করেন। তারা ক্ষমতার অপব্যবহার করে ঋণ হিসাব নম্বরে ভাউচার ছাড়াই কম্পিউটার পোস্টিংয়ের মাধ্যমে কাল্পনিক জমা দেখিয়ে মোট ১৫টি অ্যাকাউন্টে ২১টি চেক ও দুটি পে-শ্লিপ ব্যবহার করেন। এর মাধ্যমে ২০১১ সালের ৮ ডিসেম্বর থেকে ২০১৫ সালের ৬ জানুয়ারি পর্যন্ত ৩৬ লাখ ৭৯ হাজার ৩৫০ টাকা আত্মসাৎ করা হয়।
মামলার এজাহার অনুযায়ী, ২০১৫ সালের ৮ এপ্রিল অগ্রণী ব্যাংকের মোরেলগঞ্জ শাখার তৎকালীন ব্যবস্থাপক ও এসপিও বাদী হয়ে মোরেলগঞ্জ থানায় মামলা দায়ের করেন। পরে ২০১৭ সালের ২০ জুলাই দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) সহকারী পরিচালক আবুল হাশেম কাজী তদন্ত শেষে দুইজনের বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করেন।
পরবর্তীতে ২০২৫ সালের ২৯ সেপ্টেম্বর খুলনা বিভাগীয় স্পেশাল জজ আদালতে মামলার চার্জ গঠন করা হয়। দীর্ঘ শুনানি ও সাক্ষ্যগ্রহণ শেষে আদালত এ রায় দেন।
সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, এই রায়ের মাধ্যমে ব্যাংকিং খাতে অনিয়ম ও দুর্নীতির বিরুদ্ধে কঠোর বার্তা দেওয়া হয়েছে এবং ভবিষ্যতে এ ধরনের অপরাধ দমনে এটি ভূমিকা রাখবে।

