
আওয়ামী লীগের শাসনামলে দেশ থেকে বিপুল পরিমাণ অর্থ পাচারের অভিযোগ তুলে জাতীয় সংসদে তীব্র প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমেদ। তিনি দাবি করেন, গত ১৫ বছরে প্রায় ৩০ লাখ কোটি টাকা বিদেশে পাচার হয়েছে, যা দেশের অর্থনীতির জন্য বড় ধরনের ক্ষতির কারণ।
বৃহস্পতিবার (৩০ এপ্রিল) জাতীয় সংসদে রাষ্ট্রপতির ভাষণের ওপর ধন্যবাদ প্রস্তাবের আলোচনায় অংশ নিয়ে তিনি এসব কথা বলেন। অধিবেশনে স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ সভাপতিত্ব করেন।
বক্তব্যে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, বিগত সরকারের সময় লুটপাটের যে চিত্র দেখা গেছে, তা ইতোমধ্যে প্রকাশিত শ্বেতপত্রে উঠে এসেছে। গড়ে প্রতি বছর প্রায় ১৬ বিলিয়ন ডলার করে পাচার হয়েছে বলে উল্লেখ করেন তিনি। তার ভাষায়, এই অর্থ দিয়ে একাধিক বড় অবকাঠামো প্রকল্প বাস্তবায়ন করা সম্ভব ছিল।
তিনি আরও বলেন, অতীতে ব্যাংক দখল ও অর্থ লুণ্ঠনের ঘটনা বিভিন্নভাবে ঘটেছে এবং এখনো এই প্রবণতা পুরোপুরি বন্ধ হয়নি। দখলের ধরন পরিবর্তন হলেও অনিয়ম রোধে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার ওপর জোর দেন তিনি।
বিরোধী দলকে উদ্দেশ করে তিনি বলেন, কে বড় মুক্তিযোদ্ধা—এ ধরনের বিতর্কে না গিয়ে পাচার হওয়া অর্থ ফেরত আনার উদ্যোগ নেওয়া উচিত। একই সঙ্গে সংস্কারের অজুহাতে নির্বাচন বিলম্বিত করার যেকোনো প্রচেষ্টার বিরোধিতা করেন তিনি।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, দীর্ঘ রাজনৈতিক সংগ্রামের মধ্য দিয়ে বর্তমান অবস্থানে পৌঁছানো হয়েছে, তাই এই অর্জনকে খাটো করা উচিত নয়। দেশের অর্থনীতিকে শক্তিশালী করতে বাস্তবমুখী পদক্ষেপ নেওয়ার প্রয়োজনীয়তার কথাও তুলে ধরেন তিনি।
বাক স্বাধীনতার প্রসঙ্গে তিনি বলেন, সংবিধানে মতপ্রকাশের স্বাধীনতা থাকলেও এর অপব্যবহার গ্রহণযোগ্য নয়। সামাজিক ও ধর্মীয় সম্প্রীতি নষ্ট হয়—এমন কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।
এছাড়া, জুলাই গণঅভ্যুত্থানের চেতনাকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক ফায়দা লোটার প্রবণতার সমালোচনা করে তিনি বলেন, এ ধরনের ‘রাজনৈতিক ব্যবসা’ সহ্য করা হবে না। বিরোধী দলের ‘ছায়া মন্ত্রিসভা’ নিয়েও সমালোচনা করে তিনি দায়িত্বশীল রাজনৈতিক আচরণের ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
সরকার সব অংশীজনের সঙ্গে আলোচনা করেই সংস্কার ও নির্বাচনী প্রক্রিয়া এগিয়ে নিতে চায় বলে জানিয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, গণতান্ত্রিক ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে সবাইকে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে।

