
দেশের সব বাণিজ্যিক ব্যাংকের চেয়ারম্যান, পরিচালক, ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) ও প্রধান নির্বাহীদের দুর্নীতি, ঘুষ, অর্থ পাচার ও জালিয়াতির বিরুদ্ধে লিখিত অঙ্গীকার দিতে হবে। পাশাপাশি সেই অঙ্গীকারনামা নিজ নিজ অফিসকক্ষে দৃশ্যমান স্থানে প্রদর্শনের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
বাংলাদেশ ফাইন্যান্সিয়াল ইন্টেলিজেন্স ইউনিট (বিএফআইইউ) চলতি সপ্তাহে বিভিন্ন ব্যাংকে পাঠানো এক নির্দেশনায় এ তথ্য জানায়। পরবর্তী পরিচালনা পর্ষদের সভায় সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের দিয়ে অঙ্গীকারনামায় স্বাক্ষর করানোর জন্য ব্যাংকগুলোকে বলা হয়েছে।
বিএফআইইউ জানিয়েছে, ব্যাংক খাতে নৈতিকতা, সুশাসন, ঋণশৃঙ্খলা ও মানি লন্ডারিং প্রতিরোধ জোরদার করতে এ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে অঙ্গীকারনামার একটি নির্দিষ্ট ফরম্যাটও নির্ধারণ করে দেওয়া হয়েছে।
নির্ধারিত অঙ্গীকারনামায় উল্লেখ থাকবে—দুর্নীতি বা ঘুষে জড়িত না হওয়া, ঘুষ গ্রহণ ও প্রদান উভয়ই শাস্তিযোগ্য অপরাধ হিসেবে বিবেচনা করা, নীতিমালার বাইরে কোনো ঋণ অনুমোদন না করা এবং মানি লন্ডারিং ও আর্থিক জালিয়াতি প্রতিরোধে সক্রিয় ভূমিকা রাখা।
এছাড়া ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও প্রধান নির্বাহীদের জন্য আলাদা ঘোষণাপত্রে সন্দেহজনক লেনদেন রিপোর্টিং, মানি লন্ডারিং প্রতিরোধ এবং রাজনৈতিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিদের (পিইপি) ক্ষেত্রে অতিরিক্ত সতর্কতার বিষয় অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।
বিএফআইইউর মতে, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে ব্যাংকিং খাতে করপোরেট গভর্ন্যান্স, ঋণ ব্যবস্থাপনা ও ঝুঁকি নিয়ন্ত্রণে দুর্বলতা স্পষ্ট হয়েছে। বড় অঙ্কের ঋণ জালিয়াতি ও অনিয়মের ঘটনাও বেড়েছে। এ প্রেক্ষাপটে জবাবদিহিতা ও স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতেই এ পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।
নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, ভবিষ্যতে কোনো ব্যাংকে চেয়ারম্যান, পরিচালক বা এমডি নিয়োগ কিংবা পুনর্নিয়োগের ক্ষেত্রেও এই অঙ্গীকারনামায় স্বাক্ষর বাধ্যতামূলক হবে।
এছাড়া, কোনো গ্রাহক ব্যাংকিং সেবা নিতে গিয়ে ঘুষ, দুর্নীতি বা হয়রানির শিকার হলে তিনি সরাসরি বিএফআইইউতে অভিযোগ জানাতে পারবেন। এসব অভিযোগ গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হবে বলেও জানানো হয়েছে।
খাতসংশ্লিষ্টদের মতে, এ উদ্যোগ ব্যাংকিং খাতে শৃঙ্খলা ফেরাতে সহায়ক হতে পারে। তবে এর কার্যকারিতা নির্ভর করবে নিয়মিত তদারকি ও কঠোর আইন প্রয়োগের ওপর।

