
নেত্রকোনার মোহনগঞ্জে বীর মুক্তিযোদ্ধাকে ‘নানা’ সাজিয়ে মিথ্যা তথ্য ও জাল হলফনামার মাধ্যমে মুক্তিযোদ্ধা কোটায় পুলিশে চাকরি নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে সম্রাট হাসান তুহিন নামে এক কনস্টেবলের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় তার স্ত্রী হোসনা বেগম দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) সমন্বিত ময়মনসিংহ জেলা কার্যালয়ের উপপরিচালকের কাছে লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন।
সম্রাট হাসান তুহিন বর্তমানে রাঙ্গামাটি জেলার কাউখালী থানায় কনস্টেবল হিসেবে কর্মরত। তিনি সুনামগঞ্জের ধর্মপাশা উপজেলার শেখেরগাঁও গ্রামের মৃত গিয়াস উদ্দিনের ছেলে। অন্যদিকে, তুহিন যে ব্যক্তিকে নানা হিসেবে দাবি করেছেন, সেই বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. মনজুরুল হক নেত্রকোনার মোহনগঞ্জ উপজেলার শেখুপুর গ্রামের বাসিন্দা।
অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, ২০১২ সালে পারিবারিকভাবে হোসনা বেগমের সঙ্গে তুহিনের বিয়ে হয়। এর দুই বছর পর ২০১৪ সালে তিনি পুলিশ কনস্টেবল পদে চাকরিতে যোগ দেন। অভিযোগ রয়েছে, চাকরিতে যোগদানের সময় মুক্তিযোদ্ধা কোটার সুবিধা নিতে তিনি মোহনগঞ্জের শেখুপুর গ্রামের বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. মনজুরুল হককে নিজের নানা হিসেবে উল্লেখ করেন।
এ জন্য তুহিন সুনামগঞ্জ নোটারি পাবলিকে একটি হলফনামা তৈরি করেন বলে অভিযোগ করা হয়েছে। সেখানে নিজেকে মনজুরুল হকের মেয়ের ছেলে হিসেবে দাবি করা হয়। হলফনামায় মুক্তিযোদ্ধা সনদ নম্বর ‘ম-৬২১৮৬’ উল্লেখ রয়েছে। ওই নথির ভিত্তিতেই তিনি মুক্তিযোদ্ধা কোটায় পুলিশে চাকরি পেয়েছেন বলে অভিযোগে দাবি করা হয়েছে।
তবে অভিযোগের সত্যতা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে বীর মুক্তিযোদ্ধা মনজুরুল হকের বক্তব্যে। হলফনামাসহ সংশ্লিষ্ট কাগজপত্র ও তুহিনের ছবি তাকে দেখানো হলে তিনি সাংবাদিকদের জানান, তুহিন নামে তার কোনো নাতি নেই। এমনকি হলফনামায় থাকা স্বাক্ষরও তার নয় বলে দাবি করেন তিনি। তার বক্তব্য, কেউ তার পরিচয় ও স্বাক্ষর ব্যবহার করে প্রতারণা করে থাকতে পারেন।
কর্মস্থলে দীর্ঘ অনুপস্থিতির অভিযোগ
নেত্রকোনা পুলিশ সুপারের কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, তুহিন মদন থানায় কর্মরত থাকা অবস্থায় ২০২৩ সালের ৫ জুলাই থেকে মোট ১৫৬ দিন কর্মস্থলে অনুপস্থিত ছিলেন। এ সময় তিনি যথাযথ অনুমতি বা ছুটি নিয়েছিলেন কি না, তা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে।
অভিযোগ রয়েছে, মুক্তিযোদ্ধা কোটায় চাকরির সুবাদে তৎকালীন সময়ে তিনি প্রভাব খাটিয়ে চলতেন এবং দীর্ঘ সময় কর্মস্থলে অনুপস্থিত থাকলেও তার বিরুদ্ধে যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি।
এ ছাড়া জুলাই বিপ্লবের সময় মদনে ছাত্র-জনতার বিক্ষোভ কর্মসূচিতে হামলার ঘটনায় তার সম্পৃক্ততার অভিযোগ ওঠে। পরে তাকে মদন থানা থেকে রাঙ্গামাটি জেলার কাউখালী থানায় বদলি করা হয় বলে অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে। বর্তমানে তিনি সেখানেই কর্মরত রয়েছেন।
অভিযোগকারীদের দাবি, মুক্তিযোদ্ধা পরিচয় ব্যবহার করে চাকরি নেওয়ার অভিযোগের পাশাপাশি তুহিনের কর্মস্থলে দীর্ঘ অনুপস্থিতি এবং জুলাইয়ের আন্দোলনে তার ভূমিকার বিষয়টিও তদন্ত করা প্রয়োজন।
অভিযোগের বিষয়ে অভিযুক্ত কনস্টেবল সম্রাট হাসান তুহিনের বক্তব্য জানা যায়নি। তার বিরুদ্ধে উত্থাপিত অভিযোগের সত্যতা যাচাই করে প্রয়োজনীয় আইনগত ও বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন অভিযোগকারী।

