সোমবার, জুলাই ৬, ২০২৬

দু’র্নী’তি, কমিশন–বাণিজ্য ও অ’বৈ’ধ সম্পদের অ’ভিযোগে ডিএসসির শীর্ষ প্রকৌশলী তদন্তের মুখে

ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের (ডিএসসিসি) অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী কাজী মোহাম্মদ বোরহান উদ্দিনের বিরুদ্ধে ওঠা দুর্নীতি, অনিয়ম, ক্ষমতার অপব্যবহার, কমিশন–বাণিজ্য, সরকারি অর্থ আত্মসাৎ, অবৈধ পদোন্নতি, অনিয়মের মাধ্যমে তৃতীয় গ্রেডের সুবিধা গ্রহণ এবং অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগ তদন্তের নির্দেশ দিয়েছে স্থানীয় সরকার বিভাগ।

রোববার স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের স্থানীয় সরকার বিভাগের সিটি করপোরেশন-১ শাখা থেকে এ–সংক্রান্ত একটি চিঠি জারি করা হয়। চিঠিতে অভিযোগগুলো সরেজমিনে তদন্ত করে ১৫ কার্যদিবসের মধ্যে স্থানীয় সরকার বিভাগের সচিবের কাছে প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

স্থানীয় সরকার বিভাগের উপসচিব মো. রবিউল ইসলাম স্বাক্ষরিত চিঠিটি বিভাগের অতিরিক্ত সচিব মু. মনিরুজ্জামানের কাছে পাঠানো হয়েছে। এতে অভিযোগগুলোর বিষয়ে প্রয়োজনীয় তদন্ত সম্পন্ন করে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে প্রতিবেদন জমা দিতে নির্দেশক্রমে অনুরোধ জানানো হয়েছে।

চিঠিতে উল্লেখ করা হয়, কাজী মোহাম্মদ বোরহান উদ্দিনের বিরুদ্ধে দুর্নীতি, অনিয়ম, ক্ষমতার অপব্যবহার, কমিশন–বাণিজ্য, সরকারি অর্থ আত্মসাৎ, অবৈধ পদোন্নতি, অনিয়মের মাধ্যমে তৃতীয় গ্রেডের সুবিধা গ্রহণ এবং অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগ উঠেছে। এসব অভিযোগের সত্যতা যাচাইয়ে সরেজমিন তদন্ত পরিচালনার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

তদন্তের সুবিধার্থে অভিযোগ-সংশ্লিষ্ট প্রয়োজনীয় নথিপত্র চিঠির সঙ্গে সংযুক্ত করা হয়েছে বলেও উল্লেখ রয়েছে। তবে চিঠিতে অভিযোগগুলোর বিস্তারিত বিবরণ তুলে ধরা হয়নি। সংশ্লিষ্ট নথিপত্র পর্যালোচনা এবং মাঠপর্যায়ের অনুসন্ধানের ভিত্তিতে তদন্ত কর্মকর্তা অভিযোগগুলোর বিষয়ে মতামত দেবেন।

চিঠির অনুলিপি ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তার কাছেও পাঠানো হয়েছে। তদন্ত কার্যক্রমে প্রয়োজনীয় সহযোগিতা নিশ্চিত করতে তাকে অনুরোধ জানানো হয়েছে। এছাড়া স্থানীয় সরকার বিভাগের নগর উন্নয়ন অনুবিভাগের যুগ্ম সচিব, মন্ত্রীর একান্ত সচিব, প্রতিমন্ত্রীর একান্ত সচিব, স্থানীয় সরকার বিভাগের সচিবের একান্ত সচিব এবং ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের প্রশাসকের একান্ত সচিবের কাছেও চিঠির অনুলিপি পাঠানো হয়েছে।

ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের প্রকৌশল বিভাগ নগরীর সড়ক, ড্রেনেজ, অবকাঠামো নির্মাণ ও সংস্কারসহ বড় অঙ্কের উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়নের দায়িত্বে রয়েছে। এ বিভাগের একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তার বিরুদ্ধে দুর্নীতি ও অনিয়মের অভিযোগ ওঠায় বিষয়টিকে গুরুত্বের সঙ্গে দেখছে স্থানীয় সরকার বিভাগ।

মন্ত্রণালয়-সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, তদন্তে অভিযোগের সত্যতা প্রমাণিত হলে বিধি অনুযায়ী সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তার বিরুদ্ধে প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়া হতে পারে। তবে বর্তমান পর্যায়ে কোনো শাস্তিমূলক সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়নি; অভিযোগগুলো যাচাই করে তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশই দেওয়া হয়েছে।

আরও সংবাদ

সর্বশেষ সংবাদ