সোমবার, জুলাই ৬, ২০২৬

নির্মাণের একদিনেই ধসে পড়ল ৩.৫ লাখ টাকার টিআর প্রকল্পের সড়ক

মানিকগঞ্জের হরিরামপুর উপজেলার গালা ইউনিয়নে গ্রামীণ অবকাঠামো রক্ষণাবেক্ষণ (টিআর) প্রকল্পের আওতায় নির্মিত একটি ইটের সলিং রাস্তা নির্মাণের মাত্র একদিনের মধ্যেই ধসে পড়েছে। নতুন নির্মিত সড়কের এমন বেহাল অবস্থায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। তাদের অভিযোগ, নিম্নমানের নির্মাণসামগ্রী ব্যবহার এবং যথাযথ ভিত্তি প্রস্তুত না করেই তড়িঘড়ি করে কাজ শেষ করায় সড়কটি অল্প সময়েই চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে।

হরিরামপুর উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তার (পিআইও) কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, ২০২৫-২০২৬ অর্থবছরের টিআর প্রকল্পের আওতায় গালা ইউনিয়নের কলতা ভক্তির বাড়ি থেকে বিজয়নগর বেপারীপাড়া পর্যন্ত ইটের সলিং রাস্তা নির্মাণে ৩ লাখ ৫০ হাজার টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়। প্রকল্প বাস্তবায়ন কমিটির সভাপতি ছিলেন গালা ইউনিয়নের ৫ নম্বর ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য মো. মানিক খান।

স্থানীয়দের অভিযোগ, অর্থবছরের শেষ দিকে দ্রুত প্রকল্পের কাজ শেষ করার তাগিদে নির্মাণকাজে প্রয়োজনীয় মান বজায় রাখা হয়নি। রাস্তার ভিত্তি যথাযথভাবে প্রস্তুত না করেই নিম্নমানের ইট ও অন্যান্য নির্মাণসামগ্রী ব্যবহার করে কাজ শেষ করা হয়। ফলে নির্মাণের ২৪ ঘণ্টা পার না হতেই রাস্তার বিভিন্ন অংশ ধসে পড়ে এবং ইট সরে গিয়ে চলাচলের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে ওঠে।

সরেজমিনে দেখা গেছে, ঝিটকা-মানিকগঞ্জ আঞ্চলিক সড়ক থেকে কলতা ভক্তির বাড়ি ব্রিজ হয়ে বিজয়নগর বেপারীপাড়া পর্যন্ত নির্মিত সড়কের বিভিন্ন স্থানে ইট উঠে গেছে এবং কোথাও কোথাও ছড়িয়ে-ছিটিয়ে রয়েছে। ভক্তির বাড়ি ব্রিজের পাশের প্রবেশমুখে প্রায় ১০ ফুট অংশ ধসে গেছে। রাস্তার দুই পাশের ইট খুলে পড়ায় দুর্ঘটনার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।

কলতা বেপারীপাড়া গ্রামের বাসিন্দা পারভেজ মিয়া বলেন, নির্মাণকাজ শেষ হওয়ার পর প্রথম বৃষ্টিতেই সড়কটি ভেঙে গেছে। তার দাবি, নিম্নমানের ইট ব্যবহার করায় সড়কটি দীর্ঘদিন টিকবে না।

একই গ্রামের বাসিন্দা কিসমত আলীর অভিযোগ, রাস্তার নিচে ও দুই পাশে পর্যাপ্ত মাটি না দেওয়ায় এ পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। ব্যবহৃত ইটের মান নিয়েও তিনি প্রশ্ন তোলেন।

স্থানীয় বাসিন্দা রাজিব চৌধুরী বলেন, নির্মাণের একদিনের মধ্যেই বৃষ্টিতে রাস্তা ভেঙে পড়া অত্যন্ত দুঃখজনক। তার মতে, কাজের মান সন্তোষজনক হয়নি।

অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে প্রকল্প বাস্তবায়ন কমিটির সভাপতি ও গালা ইউনিয়নের ৫ নম্বর ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য মো. মানিক খান বলেন, রাস্তা ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার বিষয়টি তিনি জেনেছেন এবং সংশ্লিষ্ট মিস্ত্রিদের তা দ্রুত মেরামতের নির্দেশ দিয়েছেন। তবে তিনি দাবি করেন, ভালো মানের ইট ও নির্মাণসামগ্রী ব্যবহার করেই রাস্তা নির্মাণ করা হয়েছিল।

হরিরামপুর উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা (পিআইও) মো. রেজাউল করিম বলেন, ক্ষতিগ্রস্ত অংশ দ্রুত সংস্কারের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। তবে নিম্নমানের নির্মাণসামগ্রী ব্যবহারের অভিযোগের বিষয়ে তিনি কোনো মন্তব্য করেননি।

এদিকে স্থানীয়রা প্রকল্পটির নির্মাণকাজের মান যাচাই এবং অভিযোগের নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানিয়েছেন। তাদের মতে, সরকারি অর্থে বাস্তবায়িত উন্নয়ন প্রকল্পে অনিয়মের অভিযোগ প্রমাণিত হলে দায়ীদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া উচিত।

আরও সংবাদ

সর্বশেষ সংবাদ