রবিবার, জুলাই ৫, ২০২৬

সমবায় অধিদপ্তরে অ’নিয়ম-দু’র্নী’তি’র অ’ভি’যোগ, অতিরিক্ত নিবন্ধক নবীরুল ইসলামকে ঘিরে প্রশ্ন

সমবায় সমিতির নিবন্ধন, তদারকি ও প্রশিক্ষণের মাধ্যমে দেশের তৃণমূল পর্যায়ে আর্থ-সামাজিক উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখার দায়িত্ব সমবায় অধিদপ্তরের। তবে প্রতিষ্ঠানটির কয়েকজন কর্মকর্তার বিরুদ্ধে দীর্ঘদিন ধরে দুর্নীতি, ঘুষ বাণিজ্য, ক্ষমতার অপব্যবহার এবং প্রশাসনিক অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। এসব অভিযোগের কেন্দ্রে রয়েছেন সমবায় অধিদপ্তরের অতিরিক্ত নিবন্ধক (প্রশাসন, মাসউ ও ফাইন্যান্স) মো. নবীরুল ইসলাম।

সংশ্লিষ্ট সূত্র ও একাধিক লিখিত অভিযোগে দাবি করা হয়েছে, ২০তম বিসিএসের মাধ্যমে চাকরিতে যোগ দেওয়া নবীরুল ইসলামের বিরুদ্ধে চাকরির শুরু থেকেই নানা অনিয়মের অভিযোগ রয়েছে। অভিযোগ অনুযায়ী, তিনি মুক্তিযোদ্ধা সন্তান কোটা ব্যবহারে অনিয়মের মাধ্যমে সরকারি চাকরিতে প্রবেশ করেন। এ বিষয়ে ২০০১ সালে রাজধানীর কাফরুল থানায় একটি মামলা দায়ের হয় এবং পরবর্তীতে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) বিষয়টি তদন্ত করে। অভিযোগের ভিত্তিতে ২০০২ সালে তাকে সাময়িক বরখাস্ত করা হলেও পরে তিনি চাকরিতে ফিরে আসেন।

এছাড়া সিরাজগঞ্জে দায়িত্ব পালনকালে একটি সমবায় ব্যাংকের জমি বিক্রি, রাজশাহীতে প্রশাসনিক ক্ষমতার অপব্যবহার, বদলি ও পদোন্নতি বাণিজ্য, লাইসেন্স প্রদানকে কেন্দ্র করে অনিয়ম এবং ঘুষ গ্রহণের অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। অভিযোগকারীদের দাবি, এসব কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে তিনি বিপুল সম্পদের মালিক হয়েছেন।

অধিদপ্তরের একাধিক কর্মকর্তা অভিযোগ করেছেন, নবীরুল ইসলামের নেতৃত্বে একটি প্রভাবশালী সিন্ডিকেট দীর্ঘদিন ধরে সমবায় অধিদপ্তরের বিভিন্ন প্রশাসনিক কার্যক্রম নিয়ন্ত্রণ করছে। এই সিন্ডিকেটের বিরুদ্ধে বদলি বাণিজ্য, সমবায় সমিতির নিবন্ধন ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্তে প্রভাব বিস্তার এবং আর্থিক সুবিধা নেওয়ার অভিযোগ রয়েছে।

একই সঙ্গে অধিদপ্তরের আরও কয়েকজন কর্মকর্তা—সাবেক জেলা সমবায় কর্মকর্তা তহমিদুজ্জামান, জেলা সমবায় কর্মকর্তা শিহাব উদ্দিন আহমেদ, জেলা সমবায় কর্মকর্তা সাদ্দাম, থানা সমবায় কর্মকর্তা ফরহাদ হোসেন, মেট্রোপলিটন থানা সমবায় কর্মকর্তা আলাউদ্দিন মোল্লা, পরিদর্শক তাসকেরা সুলতানা, মো. ইলিয়াস সরকার এবং নাসির উদ্দিনের বিরুদ্ধেও বিভিন্ন সময়ে ঘুষ গ্রহণ, ক্ষমতার অপব্যবহার, সমবায় সমিতির নির্বাচন ও অডিট কার্যক্রমে অনিয়ম এবং আর্থিক দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগগুলোর মধ্যে কয়েকটির বিষয়ে থানায় মামলা ও লিখিত অভিযোগ দায়ের হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।

ভুক্তভোগীদের দাবি, একাধিক অভিযোগের বিষয়ে তদন্তের নির্দেশ দেওয়া হলেও প্রভাব খাটিয়ে অনেক ক্ষেত্রেই তদন্ত কার্যক্রম ধীরগতির বা অকার্যকর হয়ে পড়েছে। এতে সৎ কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মধ্যে হতাশা তৈরি হয়েছে এবং সমবায় অধিদপ্তরের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন হচ্ছে বলে তারা অভিযোগ করেন।

সমবায় অধিদপ্তরের একাধিক কর্মকর্তা ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা মনে করেন, উত্থাপিত অভিযোগগুলো নিরপেক্ষভাবে তদন্ত করে সত্যতা যাচাই এবং দায়ীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হলে প্রতিষ্ঠানটির প্রতি জনআস্থা পুনঃপ্রতিষ্ঠা করা সম্ভব হবে।

অভিযোগের বিষয়ে বক্তব্য জানতে অতিরিক্ত নিবন্ধক মো. নবীরুল ইসলামের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি অভিযোগের বিষয়ে কোনো বক্তব্য না দিয়ে প্রতিবেদকের সঙ্গে অসৌজন্যমূলক আচরণ করেন বলে প্রতিবেদকের দাবি। প্রতিবেদনে আরও দাবি করা হয়েছে, পরবর্তীতে তার ঘনিষ্ঠ কয়েকজন ব্যক্তি প্রতিবেদককে হুমকি দেন। তবে এ বিষয়ে নবীরুল ইসলাম বা অভিযুক্ত অন্য কর্মকর্তাদের আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।

আরও সংবাদ

সর্বশেষ সংবাদ