শনিবার, জুন ১৩, ২০২৬

গজারিয়া সাব-রেজিস্ট্রি অফিসে ‘ছায়া নিয়ন্ত্রক’ কালা লিয়াকত! দু’র্নী’তি, প্রভাব বিস্তার ও সম্পদ অর্জনের অ’ভিযোগ

মুন্সিগঞ্জের গজারিয়া উপজেলা সাব-রেজিস্ট্রি অফিসকে কেন্দ্র করে দীর্ঘদিন ধরে প্রভাব বিস্তার, কমিশন বাণিজ্য, রাজনৈতিক পরিচয়ের অপব্যবহার এবং বিপুল সম্পদ অর্জনের অভিযোগ উঠেছে স্থানীয়ভাবে পরিচিত আবুল কালাম ওরফে কালা লিয়াকতের বিরুদ্ধে। অভিযোগ রয়েছে, প্রায় দেড় যুগ ধরে তিনি অফিসটির অনানুষ্ঠানিক নিয়ন্ত্রক হিসেবে ভূমিকা পালন করছেন এবং তার অনুমোদন ছাড়া গুরুত্বপূর্ণ দলিল নিবন্ধনের কাজ সম্পন্ন হয় না।

স্থানীয় সূত্রের দাবি, সাব-রেজিস্ট্রি অফিসে প্রতিটি দলিল নিবন্ধনের ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট অঙ্কের কমিশন আদায় করা হয়। অভিযোগকারীদের ভাষ্য অনুযায়ী, এই অর্থের একটি অংশ বিভিন্ন পর্যায়ে বণ্টন করা হয়। যদিও এসব অভিযোগের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের আনুষ্ঠানিক কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

দীর্ঘদিনের প্রভাব বিস্তারের অভিযোগ

স্থানীয়দের দাবি, সাবেক ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের রাজনীতির সঙ্গে সক্রিয়ভাবে যুক্ত ছিলেন কালা লিয়াকত। দলীয় প্রভাব এবং স্থানীয় রাজনৈতিক আশ্রয়-প্রশ্রয়ের কারণে তিনি দীর্ঘ সময় ধরে সাব-রেজিস্ট্রি অফিসে একচ্ছত্র আধিপত্য বজায় রেখেছেন।

এছাড়া তিনি দীর্ঘদিন গজারিয়া উপজেলা দলিল লেখক সমিতির সাধারণ সম্পাদক হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেছেন। অভিযোগ রয়েছে, এই অবস্থানকে কাজে লাগিয়ে অফিস সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন কার্যক্রমে প্রভাব বিস্তার করেছেন।

রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পরও সক্রিয়

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর একাধিক মামলার কারণে তিনি কিছু সময় এলাকায় অনুপস্থিত ছিলেন। পরবর্তীতে গ্রেপ্তার হয়ে কয়েকটি মামলায় কারাবন্দি থাকেন বলেও জানা গেছে।

তবে চলতি বছরে জামিনে মুক্ত হওয়ার পর তিনি পুনরায় সাব-রেজিস্ট্রি অফিসকেন্দ্রিক কার্যক্রমে সক্রিয় হয়ে ওঠেন বলে অভিযোগ রয়েছে। সম্প্রতি অনুষ্ঠিত গজারিয়া উপজেলা দলিল লেখক সমিতির নির্বাচনে তিনি আবারও সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হয়েছেন।

নির্বাচন ঘিরেও প্রশ্ন

দলিল লেখক সমিতির সাম্প্রতিক নির্বাচনকে ঘিরেও নানা আলোচনা রয়েছে স্থানীয় মহলে। অভিযোগ রয়েছে, নির্বাচনে প্রভাব বিস্তার ও বিপুল অর্থ ব্যয়ের মাধ্যমে নিজের অবস্থান সুসংহত করেছেন কালা লিয়াকত। যদিও এসব অভিযোগের পক্ষে স্বাধীনভাবে যাচাইযোগ্য কোনো প্রমাণ পাওয়া যায়নি।

নির্বাচনের পর তার অতীত রাজনৈতিক ভূমিকা নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনা শুরু হয়। স্থানীয় রাজনৈতিক অঙ্গনের একাংশও এ বিষয়ে আপত্তি তুললেও দৃশ্যমান কোনো পরিবর্তন দেখা যায়নি বলে অভিযোগ সংশ্লিষ্টদের।

শত কোটি টাকার সম্পদের গুঞ্জন

স্থানীয়দের একটি অংশের দাবি, সাব-রেজিস্ট্রি অফিসকে কেন্দ্র করে দীর্ঘদিনের প্রভাব ও কমিশন বাণিজ্যের মাধ্যমে কালা লিয়াকত বিপুল সম্পদের মালিক হয়েছেন। তার নামে ও পরিবারের সদস্যদের নামে বিভিন্ন স্থানে স্থাবর-অস্থাবর সম্পদ রয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে।

তবে এসব সম্পদের বিষয়ে কোনো সরকারি তদন্ত প্রতিবেদন বা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের আনুষ্ঠানিক তথ্য এখন পর্যন্ত প্রকাশিত হয়নি।

তদন্তের দাবি

সুশীল সমাজের প্রতিনিধিরা বলছেন, সাব-রেজিস্ট্রি অফিসে অনিয়ম, কমিশন বাণিজ্য ও প্রভাব বিস্তারের অভিযোগ দীর্ঘদিনের। অভিযোগগুলো সত্য কি না তা নিরপেক্ষভাবে যাচাই করতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের তদন্ত প্রয়োজন।

তাদের মতে, সরকারি সেবার স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করতে সাব-রেজিস্ট্রি অফিসের কার্যক্রম, দলিল নিবন্ধন প্রক্রিয়া এবং অভিযোগে উল্লিখিত ব্যক্তিদের আর্থিক লেনদেন ও সম্পদের উৎস খতিয়ে দেখা জরুরি।

অভিযোগের বিষয়ে বক্তব্য জানতে আবুল কালাম ওরফে কালা লিয়াকতের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

আরও সংবাদ

সর্বশেষ সংবাদ