বুধবার, জুন ১০, ২০২৬

নির্বাহী প্রকৌশলী আসাদুজ্জামানকে ঘিরে অ’নিয়মের নানা অ’ভিযোগ

দিনাজপুর সড়ক ও জনপথ (সওজ) বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী আসাদুজ্জামানের বিরুদ্ধে ঘুষ গ্রহণ, কমিশন বাণিজ্য, ঠিকাদারি কাজে অনিয়ম এবং ক্ষমতার অপব্যবহারের অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগকারীদের দাবি, বিভাগটির বিভিন্ন কার্যক্রমে স্বচ্ছতার অভাব এবং ঘুষ ছাড়া ফাইল নড়াচড়া না করার সংস্কৃতি দীর্ঘদিন ধরে চলমান রয়েছে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক ঠিকাদার অভিযোগ করেন, কাজের অনুমোদন, ওয়ার্ক অর্ডার, বিল উত্তোলন এবং প্রকল্প বাস্তবায়নের বিভিন্ন ধাপে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের ঘুষ দিতে বাধ্য করা হয়। তাদের ভাষ্য অনুযায়ী, হিসাবরক্ষণ কর্মকর্তা, অফিস সহকারী, উপসহকারী প্রকৌশলী, সহকারী প্রকৌশলী, সিনিয়র সহকারী প্রকৌশলী থেকে শুরু করে প্রকল্প-সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন পর্যায়ে অর্থ লেনদেনের অভিযোগ রয়েছে।

ভুক্তভোগীদের দাবি, নির্বাহী প্রকৌশলী আসাদুজ্জামান বিভিন্ন সময় ঠিকাদারদের কাছে প্রকল্প-সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা ও ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের জন্য নির্দিষ্ট হারে অর্থ প্রদানের কথা উল্লেখ করতেন। এছাড়া সংশ্লিষ্ট দপ্তরের অন্যান্য কর্মকর্তাদেরও ‘খুশি রাখার’ বিষয়ে তিনি মন্তব্য করতেন বলে অভিযোগ রয়েছে।

অভিযোগকারীরা আরও বলেন, বিভাগটির বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্পের কাজের মান নিয়েও প্রশ্ন রয়েছে। তাদের মতে, প্রকল্প বাস্তবায়নে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতার ঘাটতি থাকায় উন্নয়ন কর্মকাণ্ডের গুণগত মান যাচাই নিয়ে জনমনে সংশয় তৈরি হয়েছে।

এদিকে, কয়েকজন অভিযোগকারী দাবি করেছেন, বিগত সময়ে কিছু নির্দিষ্ট ঠিকাদারকে সুবিধা দিতে দরপত্র-সংক্রান্ত তথ্য আগাম ফাঁস করা এবং কমিশনের বিনিময়ে বড় অঙ্কের কাজ পাইয়ে দেওয়ার মতো অনিয়মও সংঘটিত হয়েছে। এসব অভিযোগের সত্যতা যাচাইয়ের দাবি জানিয়েছেন তারা।

অভিযোগে আরও বলা হয়েছে, বিগত রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে নির্বাহী প্রকৌশলী আসাদুজ্জামান স্থানীয় কিছু রাজনৈতিক নেতাকর্মীর সঙ্গে ঘনিষ্ঠ যোগাযোগ রাখতেন এবং সরকারি দায়িত্ব পালনের ক্ষেত্রে রাজনৈতিক প্রভাব ব্যবহার করতেন। তবে এসব অভিযোগের স্বপক্ষে কোনো সরকারি তদন্ত প্রতিবেদন এখনো প্রকাশিত হয়নি।

সংশ্লিষ্ট মহলের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে একই ধরনের অনিয়মের অভিযোগ উঠলেও কার্যকর তদন্ত কিংবা দৃশ্যমান শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়নি। ফলে বিভাগের ভেতরে জবাবদিহিতার সংকট আরও গভীর হয়েছে বলে তারা মনে করেন।

এ বিষয়ে বক্তব্য জানতে নির্বাহী প্রকৌশলী আসাদুজ্জামানের সরকারি ল্যান্ডফোন ও ব্যক্তিগত হোয়াটসঅ্যাপ নম্বরে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাঁর কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

এদিকে সচেতন মহল বিষয়টি তদন্তে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ, দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) এবং সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তরের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন। অভিযোগগুলোর নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে সত্যতা যাচাই এবং প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন তারা।

আরও সংবাদ

সর্বশেষ সংবাদ