শুক্রবার, জুন ৫, ২০২৬

উদ্বোধনের আগেই ফাটল, ঝুঁকিতে ভালুকার ১৩ কোটি টাকার মডেল মসজিদ

ময়মনসিংহের ভালুকায় প্রায় ১৩ কোটি ৪৪ লাখ টাকা ব্যয়ে নির্মিত বহুল প্রত্যাশিত মডেল মসজিদ ও ইসলামিক সাংস্কৃতিক কেন্দ্র আনুষ্ঠানিক উদ্বোধনের আগেই নানা ত্রুটির কারণে বিতর্কের মুখে পড়েছে। ভবনের বিভিন্ন স্থানে ফাটল দেখা দেওয়ায় স্থানীয় মুসল্লি ও এলাকাবাসীর মধ্যে উদ্বেগ ও ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়েছে।

এ পরিস্থিতিতে মসজিদটি হস্তান্তরের আগে নির্মাণমান ও ত্রুটি যাচাইয়ের জন্য সাত সদস্যবিশিষ্ট একটি প্রাক-যাচাই কমিটি গঠন করেছে উপজেলা প্রশাসন।

স্থানীয়দের অভিযোগ, গুরুত্বপূর্ণ এই সরকারি স্থাপনায় দেয়াল ও প্লাস্টারের বিভিন্ন অংশে ছোট-বড় ফাটল দেখা দিয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, ত্রুটিগুলো ধামাচাপা দিতে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান দ্রুত মেরামতের কাজ চালিয়ে যাচাই কমিটিকে সন্তুষ্ট করার চেষ্টা করছে।

জানা গেছে, ধর্ম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের অধীনে সারাদেশে ৫৬০টি মডেল মসজিদ ও ইসলামিক সাংস্কৃতিক কেন্দ্র নির্মাণ প্রকল্প বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। এর অংশ হিসেবে ভালুকায় নির্মিত তিনতলা মসজিদটিতে নারী ও পুরুষের পৃথক নামাজের ব্যবস্থা, ইসলামিক ফাউন্ডেশনের কার্যালয়, ইমাম প্রশিক্ষণ কেন্দ্র, লাইব্রেরি ও গণশিক্ষা কার্যক্রমের সুবিধা রাখা হয়েছে।

যাচাই কমিটির সদস্য ও ভালুকা পৌর বিএনপির আহ্বায়ক হাতেম খান দাবি করেন, ভবনের বিভিন্ন স্থানে ফাটল ছাড়াও নির্মাণকাজে একাধিক অনিয়ম রয়েছে। প্রকল্পে জেনারেটর সরবরাহ না করা, নির্ধারিত ব্র্যান্ডের পরিবর্তে অন্য কোম্পানির এসি স্থাপন এবং সেগুন কাঠের পরিবর্তে নিম্নমানের কাঠ ব্যবহারের অভিযোগও তিনি তুলে ধরেন।

উপজেলা প্রকৌশলী আবু বকর সিদ্দিক জানান, পরিদর্শনে গিয়ে বিভিন্ন ত্রুটি শনাক্ত করা হয়েছে। ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে দ্রুত এসব ত্রুটি সংশোধনের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। সংশোধন কাজ শেষ হলে পুনরায় যাচাই করে প্রতিবেদন জমা দেওয়া হবে।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. ফিরোজ হোসেন বলেন, ত্রুটিপূর্ণ অবস্থায় মসজিদটি হস্তান্তরের উদ্যোগ নেওয়া হলেও তা গ্রহণ করা হয়নি। পরে ত্রুটি যাচাইয়ের জন্য একটি বিশেষ কমিটি গঠন করা হয়েছে।

এদিকে ময়মনসিংহ গণপূর্ত বিভাগের উপবিভাগীয় প্রকৌশলী ফাহমিদ ইফতেখার আলী জানান, কিছু ত্রুটি চিহ্নিত হওয়ায় ঠিকাদারকে তা দ্রুত সংশোধনের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। সংশোধন শেষে যথাযথ প্রক্রিয়ায় মসজিদটি হস্তান্তর করা হবে।

স্থানীয়দের দাবি, জনগণের করের টাকায় নির্মিত গুরুত্বপূর্ণ এই ধর্মীয় স্থাপনার নির্মাণমান নিশ্চিত করতে কারিগরি তদন্তের মাধ্যমে ফাটলের প্রকৃত কারণ উদঘাটন এবং প্রয়োজনীয় সংস্কারকাজ দ্রুত সম্পন্ন করা হোক।

আরও সংবাদ

সর্বশেষ সংবাদ