শুক্রবার, জুন ৫, ২০২৬

ভুয়া মুক্তিযোদ্ধা সনদে চাকরির অভিযোগ: বেবিচকের প্রকৌশলী শরিফুল ইসলামকে ঘিরে ত্রিমুখী তদন্ত

ভুয়া মুক্তিযোদ্ধা সনদ ব্যবহার করে চাকরি গ্রহণের অভিযোগে বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের (বেবিচক) তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী (সিভিল) মো. শরিফুল ইসলামকে ঘিরে একাধিক সংস্থার তদন্ত শুরু হয়েছে। অভিযোগের পর বেবিচকের নিজস্ব তদন্তের পাশাপাশি গোয়েন্দা সংস্থা এবং দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) বিষয়টি খতিয়ে দেখছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।

তদন্তসংশ্লিষ্ট সূত্রগুলোর দাবি, মুক্তিযোদ্ধা কোটায় চাকরি লাভের ক্ষেত্রে শরিফুল ইসলাম তার পিতা মো. মোশাররফ হোসেনের মুক্তিযোদ্ধা সনদ ব্যবহার করেন। ওই সনদের ভিত্তিতে তিনি ২০০১ সালের ২৪ জানুয়ারি বেবিচকে যোগদান করেন বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে। তবে সনদের বৈধতা নিয়ে প্রশ্ন ওঠার পর বিষয়টি তদন্তের আওতায় আনা হয়েছে।

সনদের সত্যতা যাচাই

সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, চাকরিতে যোগদানের সময় জমা দেওয়া মুক্তিযোদ্ধা সনদের যাচাই-বাছাই প্রায় শেষ পর্যায়ে রয়েছে। প্রাথমিক অনুসন্ধানে কিছু অসঙ্গতির তথ্য পাওয়া গেছে বলে দাবি করা হচ্ছে।

তদন্তকারী সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, গোপালগঞ্জ জেলার গেজেটভুক্ত ৬৪০ জন মুক্তিযোদ্ধার তালিকায় মো. মোশাররফ হোসেনের নাম পাওয়া যায়নি। এছাড়া অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে, ১৯৯৯ সালের ২৬ অক্টোবর ইস্যুকৃত একটি মুক্তিযোদ্ধা সনদে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী ও কেন্দ্রীয় কমান্ড কাউন্সিলের চেয়ারম্যানের স্বাক্ষর রয়েছে বলে দাবি করা হয়েছে। তদন্তকারীরা সনদের বিভিন্ন উপাদান যাচাই করছেন।

পদোন্নতি নিয়েও অভিযোগ

শুধু চাকরি প্রাপ্তি নয়, শরিফুল ইসলামের পদোন্নতি নিয়েও বিভিন্ন অভিযোগ উত্থাপিত হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, গোয়েন্দা সংস্থার আপত্তি থাকা সত্ত্বেও তিনি তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী পদে পদোন্নতি পেয়েছেন। এছাড়া প্রশাসনিক ও আর্থিক অনিয়মের মাধ্যমে উচ্চপদে উন্নীত হওয়ার অভিযোগও তদন্তাধীন রয়েছে বলে সূত্র জানিয়েছে।

কর্তৃপক্ষের বক্তব্য

বেবিচকের সদস্য (প্রশাসন) অতিরিক্ত সচিব এস এম লাবলুর রহমান বলেন, “অভিযোগটি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হচ্ছে। তদন্ত প্রতিবেদন পাওয়ার পর প্রয়োজনীয় সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।”

তদন্ত অব্যাহত

তদন্তসংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, বিষয়টি স্পর্শকাতর হওয়ায় আরও বিস্তারিত যাচাই-বাছাই করা হচ্ছে। তদন্ত শেষ হলে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে প্রতিবেদন জমা দেওয়া হবে এবং সেই প্রতিবেদনের ভিত্তিতেই পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

উল্লেখ্য, শরিফুল ইসলামের বিরুদ্ধে উত্থাপিত অভিযোগগুলোর বিষয়ে এখন পর্যন্ত কোনো তদন্তকারী সংস্থা চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত বা প্রতিবেদন প্রকাশ করেনি। ফলে অভিযোগগুলোর সত্যতা নির্ধারণে চলমান তদন্তের ফলাফলই হবে প্রধান ভিত্তি।

আরও সংবাদ

সর্বশেষ সংবাদ