শুক্রবার, জুন ৫, ২০২৬

মেহেরপুরে বিআরডিবির ৩৪ লাখ টাকা আ’ত্মসাতের অভিযোগ, মাঠ সংগঠকের বিরুদ্ধে মা’ম’লা

মেহেরপুর পল্লী উন্নয়ন বোর্ডের (বিআরডিবি) এক মাঠ সংগঠকের বিরুদ্ধে প্রকল্পের অর্থ আত্মসাতের অভিযোগে মামলা দায়ের করা হয়েছে। অভিযোগ অনুযায়ী, প্রায় ৩৪ লাখ টাকা আত্মসাতের ঘটনায় মেহেরপুর সদর উপজেলার মাঠ সংগঠক মেহেরুন্নেসার বিরুদ্ধে দুর্নীতি দমন আইনে আদালতে মামলা করা হয়েছে।

মামলার বাদী বিআরডিবির কর্মকর্তা হাসানুজ্জামান। তিনি মেহেরপুর আদালতে দায়ের করা মামলায় অভিযোগ করেন, পল্লী জীবিকায়ন প্রকল্পের আওতায় বিভিন্ন দলে বিতরণ করা ঋণের অর্থের হিসাব নিয়ে অসঙ্গতি পাওয়া গেছে। আদালত মামলাটি তদন্তের জন্য দুর্নীতি দমন কমিশনকে (দুদক) নির্দেশ দিয়েছেন।

হিসাব গরমিলের অভিযোগ

মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, অভিযুক্ত মেহেরুন্নেসা মেহেরপুর সদর উপজেলার মাঠ সংগঠক হিসেবে দায়িত্ব পালনকালে পল্লী জীবিকায়ন প্রকল্পের আওতায় সাতটি দলের মধ্যে প্রায় ৭৪ লাখ টাকা বিতরণ করেন। নির্ধারিত সময় পার হওয়ার পরও প্রকল্পের অর্থ অফিসে জমা না হওয়ায় বিষয়টি নিয়ে সন্দেহের সৃষ্টি হয়।

পরে মাঠ পর্যায়ে অনুসন্ধান করে প্রায় ৩৪ লাখ টাকার হিসাব গরমিলের তথ্য পাওয়া যায় বলে অভিযোগ করেছেন বাদী। তার দাবি, বিষয়টি নিয়ে ব্যাখ্যা চাওয়া হলেও সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা অফিসে প্রয়োজনীয় হিসাব দাখিল করেননি।

নোটিশের পর মামলা

বিআরডিবি সূত্রে জানা গেছে, অভিযোগের বিষয়ে মেহেরুন্নেসাকে লিখিতভাবে নোটিশ দেওয়া হয়েছিল। তবে সন্তোষজনক জবাব না পাওয়ায় বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়। পরবর্তীতে তাদের নির্দেশনায় দুর্নীতি দমন আইনে আদালতে মামলা দায়ের করা হয়।

বাদী হাসানুজ্জামান বলেন, “মাঠের হিসাবের সঙ্গে অফিসের হিসাবের গরমিল পাওয়া যায়। তাকে লিখিতভাবে নোটিশ দেওয়া হলেও তিনি কোনো জবাব দেননি। পরে ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের নির্দেশে মামলা করা হয়েছে।”

সাময়িক বরখাস্ত

উপজেলা পল্লী উন্নয়ন কর্মকর্তা রকিবুল ইসলাম জানান, অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে মেহেরুন্নেসাকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে।

তিনি বলেন, “তার বিরুদ্ধে আদালতে দুর্নীতি দমন আইনে মামলা চলমান রয়েছে। আমার জানা মতে, দুদক ইতোমধ্যে তদন্ত কার্যক্রম শুরু করেছে। তদন্ত প্রতিবেদন পাওয়ার পর পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

তদন্ত চলমান

উল্লেখ্য, মেহেরুন্নেসার বিরুদ্ধে উত্থাপিত অভিযোগগুলোর বিষয়ে এখনো কোনো চূড়ান্ত তদন্ত প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়নি। ফলে অভিযোগের সত্যতা নির্ধারণে আদালত ও দুর্নীতি দমন কমিশনের তদন্তই চূড়ান্ত ভিত্তি হিসেবে বিবেচিত হবে।

আরও সংবাদ

সর্বশেষ সংবাদ