
বাংলাদেশ ব্যাংকের তত্ত্বাবধানে পরিচালিত ডিজিটাল আর্থিক সেবাদাতা প্রতিষ্ঠান ‘নগদ’-এর প্রশাসক মো. মুতাসেম বিল্লাহর বিরুদ্ধে প্রতিষ্ঠানের তহবিল ব্যক্তিগত ব্যয়ে ব্যবহারের অভিযোগ উঠেছে। সম্প্রতি প্রকাশিত কয়েকটি প্রশাসনিক নথিকে কেন্দ্র করে এ নিয়ে বিভিন্ন মহলে আলোচনা শুরু হয়েছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলোর দাবি, প্রশাসকের ব্যক্তিগত ব্যবহারের গাড়ির রক্ষণাবেক্ষণ ব্যয় প্রতিষ্ঠান থেকে বহনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। একটি নথিতে ২০২৬ সালের মে মাসে গাড়ি রক্ষণাবেক্ষণ ভাতা প্রদানের জন্য অনুমোদন চাওয়ার তথ্য দেখা গেছে। নথিতে প্রশাসনিক কার্যক্রম পরিচালনার স্বার্থে গাড়ি ব্যবহারের বিষয়টি উল্লেখ থাকলেও এ ব্যয়ের যৌক্তিকতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন সংশ্লিষ্টরা।
গৃহকর্মীর বেতন পরিশোধের অভিযোগ
আরেকটি নথিতে দৈনিক মজুরি ভিত্তিক গৃহকর্মীর পারিশ্রমিক পরিশোধের আবেদন দেখা গেছে বলে অভিযোগ রয়েছে। সমালোচকদের দাবি, প্রশাসকের ব্যক্তিগত বাসায় কর্মরত একজন গৃহকর্মীর বেতন ‘নগদ’-এর একটি হিসাব থেকে পরিশোধের প্রস্তাব করা হয়েছে। তবে এ বিষয়ে স্বাধীনভাবে নথিগুলোর সত্যতা যাচাই করা সম্ভব হয়নি।
অতিরিক্ত আর্থিক সুবিধা গ্রহণের অভিযোগ
সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলোর আরও দাবি, বিভিন্ন সভা, বৈঠক এবং প্রশাসনিক কার্যক্রমকে বিশেষ ব্যয় হিসেবে দেখিয়ে অতিরিক্ত আর্থিক সুবিধা গ্রহণ করা হয়েছে। এছাড়া প্রশাসক হিসেবে নিয়মিত বেতনের পাশাপাশি বিভিন্ন ধরনের ভাতা, বোনাস ও অন্যান্য সুবিধা গ্রহণের অভিযোগও উঠেছে।
একই সঙ্গে প্রতিষ্ঠানের অর্থায়নে সার্বক্ষণিক নিরাপত্তাকর্মী বা দেহরক্ষী ব্যবহারের বিষয়টিও প্রশ্নের মুখে পড়েছে। সমালোচকদের মতে, এ ধরনের ব্যয়ের প্রয়োজনীয়তা ও অনুমোদনের বিষয়টি যথাযথভাবে পর্যালোচনা করা উচিত।
বিশেষজ্ঞদের মতামত
অর্থনীতি ও প্রশাসনবিষয়ক বিশ্লেষকদের মতে, কোনো আর্থিক প্রতিষ্ঠানের দায়িত্বশীল পদে থাকা ব্যক্তির বিরুদ্ধে ব্যক্তিগত ব্যয়কে প্রাতিষ্ঠানিক ব্যয় হিসেবে দেখানোর অভিযোগ উঠলে তা গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা প্রয়োজন। তাদের ভাষ্য, অভিযোগগুলো সত্য প্রমাণিত হলে তা আর্থিক শৃঙ্খলা, জবাবদিহি ও সুশাসনের জন্য উদ্বেগের বিষয় হতে পারে।
তদন্তের দাবি
বিষয়টি নিয়ে বাংলাদেশ ব্যাংক এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে স্বচ্ছ ও নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানিয়েছেন বিভিন্ন মহল। তাদের মতে, অভিযোগগুলোর প্রকৃত সত্যতা উদঘাটিত হলে জনমনে তৈরি হওয়া প্রশ্নেরও সমাধান হবে।
বক্তব্য পাওয়া যায়নি
অভিযোগগুলোর বিষয়ে প্রশাসক মো. মুতাসেম বিল্লাহর আনুষ্ঠানিক কোন বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

