
রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (রাজউক) প্রশাসনিক শাখায় কর্মরত উচ্চমান সহকারী মো. জাফর সাদিকের বিরুদ্ধে আয়ের সঙ্গে অসামঞ্জস্যপূর্ণ সম্পদ অর্জন, ক্ষমতার অপব্যবহার এবং রাজনৈতিক প্রভাব বিস্তারের অভিযোগ উঠেছে। বিভিন্ন সূত্র ও অনুসন্ধানে তার এবং পরিবারের সদস্যদের নামে রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় বিপুল পরিমাণ স্থাবর ও অস্থাবর সম্পদের তথ্য পাওয়া গেছে বলে দাবি করা হচ্ছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলোর তথ্য অনুযায়ী, সরকারি চাকরিতে তুলনামূলক নিম্ন পদে কর্মরত হলেও জাফর সাদিকের সম্পদ ও জীবনযাত্রার মান নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে রাজউকের অভ্যন্তরে আলোচনা রয়েছে। সম্প্রতি বিষয়টি নিয়ে বিভিন্ন মহলে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে।
রাজধানীতে একাধিক ভবন ও ফ্ল্যাটের তথ্য
অনুসন্ধানে প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, রাজধানীর বনশ্রী এলাকায় জাফর সাদিক ও তার পরিবারের সদস্যদের নামে দুটি বহুতল ভবনের তথ্য পাওয়া গেছে। এছাড়া শান্তিনগর এলাকায় একটি আবাসিক ফ্ল্যাট এবং রাজধানীর বিভিন্ন স্থানে আরও কয়েকটি ফ্ল্যাটের মালিকানার অভিযোগ রয়েছে।
একই সঙ্গে ঢাকার একটি বাণিজ্যিক ভবনে একাধিক দোকানের মালিকানা বা সম্পৃক্ততার তথ্যও অনুসন্ধানে উঠে এসেছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র দাবি করেছে।
তবে এসব সম্পদের মালিকানা, মূল্য এবং অর্থের উৎস সম্পর্কে স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি।
রাজনৈতিক সম্পৃক্ততা নিয়ে আলোচনা
রাজউকের বিভিন্ন সূত্রের দাবি, অতীতে জাফর সাদিক বিভিন্ন রাজনৈতিক ব্যক্তির সঙ্গে ঘনিষ্ঠ যোগাযোগ বজায় রেখেছিলেন। সাম্প্রতিক রাজনৈতিক পরিবর্তনের পরও বিভিন্ন রাজনৈতিক মহলের সঙ্গে সম্পর্ক রক্ষার চেষ্টা করছেন বলে অভিযোগ রয়েছে।
তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক তদন্ত প্রতিবেদন বা সরকারি মন্তব্য পাওয়া যায়নি।
আইনি দৃষ্টিকোণ
আইন বিশেষজ্ঞদের মতে, কোনো সরকারি কর্মচারীর বিরুদ্ধে আয়ের সঙ্গে অসামঞ্জস্যপূর্ণ সম্পদ অর্জন, ক্ষমতার অপব্যবহার কিংবা দুর্নীতির অভিযোগ প্রমাণিত হলে বিদ্যমান আইন অনুযায়ী তার বিরুদ্ধে ফৌজদারি ও প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়া হতে পারে।
এ ধরনের অভিযোগের ক্ষেত্রে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক), সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় এবং তদন্তকারী সংস্থাগুলো সম্পদের উৎস, ব্যাংক লেনদেন ও অন্যান্য আর্থিক কার্যক্রম পর্যালোচনা করতে পারে বলে তারা জানান।
তদন্তের দাবি
সুশাসন ও জবাবদিহিতা নিয়ে কাজ করা বিভিন্ন মহল অভিযোগগুলোর নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানিয়েছে। তাদের মতে, অভিযোগগুলোর সত্যতা যাচাই করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হলে সরকারি প্রতিষ্ঠানের প্রতি জনগণের আস্থা আরও সুদৃঢ় হবে।

